চমেকের ১৫৬ চিকিৎসককে করোনা ইউনিটে গণবদলি

চট্টগ্রাম ব্যুরো, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২১, ১৩:০৫ | প্রকাশিত : ০৬ জুলাই ২০২১, ১২:৫৬

করোনার ভয়াবহতার ধাক্কা সামলাতে সরকার সারা দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসকদের জেলা ও উপজেলা হাসপাতাগুলোর করোনা ইউনিটে বদলি করেছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকেও ১৫৬ জন চিকিৎসককে চট্টগ্রামের বিভিন্ন করোনা ইউনিটে বদলি করা হয়েছে। শুধু চট্টগ্রামের করোনা ইউনিটে নয়, ফেনী, খাগড়াছড়ি ও ফটিকছড়িতেও বদলি করা হয়েছে চমেক থেকে।

করেনাকালে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত চমেকের শিক্ষকতায় নিয়োজিত এসব চিকিসৎকদের বিভিন্ন করোনা ইউনিটে বদলি করা হয়েছে। এদের মধ্যে গাইনি, দন্ত, নাক কান ও ব্লাড সঞ্চালন ইউনিটের চিকিৎসকও রয়েছেন। সরকার মেডিকেল কলেজ বন্ধ থাকার কারণে এসব চিকিৎসককে করোনা ইউনিটে বদলি করলেও এই গণবদলিকে ‘ভালো চোখে’ দেখছেন না চিকিৎসকদের সংগঠনগুলোর নেতারা।

সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপ-সচিব জাকিয়া পারভীন স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ গণবদলি করা হয়। বদলি হওয়া চিকিৎসকদের আগামী ৭ জুলাইয়ের মধ্যে পদায়নকৃত কর্মস্থলে যোগ না দিলে পরের দিন থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়।

আদেশ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে ৬০ জনকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে, ৩০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, ১৮ জনকে খাগড়াছড়িতে, ২৪ জনকে ফেনীতে, ১৬ জনকে বিআইডিআইডিতে, আটজনকে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়েছে।

শুধু চট্টগ্রামের বিশেষায়িত তিনটি করোনা ইউনিটেই চমেক থেকে বদলি করা হয় ১০৬ জন চিকিৎসককে। এদের মধ্যে চমেক থেকে ৬০ জনকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে, ৩০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও ১৬ জনকে বিআইডিআইডিতে বদলি করা হয়।

মন্ত্রণালয় করোনা মোকাবেলায় এসব চিকিৎসকদের বদলির কথা বললেও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আ.ম.ম মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘এই গণবদলি চিকিৎসকদের মাঝে অস্থিরতা তৈরি করবে। করোনাকালে এখানকার চিকিৎসকরা কোভিডের পাশাপাশি অন্য রোগের চিকিৎসাও দিচ্ছেন। শুধু চমেক হাসপাতালেই অন্য সব ওয়ার্ডে দুই হাজারের বেশি রোগী রয়েছে। তারাও এ বদলিতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’

একই কথা বলেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরীও। তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এটা একটি অপরিকল্পিত বদলি। স্বাচিপ, বিএমএ সবার সঙ্গে পরামর্শ না করে মিনিস্ট্রি নিজেদের ইচ্ছামতো হুটহাট বদলি করে দিলো। এতে করে পুরো স্বাস্থ্যসেবার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কোভিড ছাড়াও অন্য রোগীদেরও চিকিৎসা দিতে হয় ডাক্তারদের। এখন মিনিস্ট্রি কী বুঝে এমন আদেশ করলো, আমার বুঝে আসছে না।’

(ঢাকাটাইমস/৬জুলাই/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :