ফকির আলমগীরের মৃত্যুতে বাংলা একাডেমির শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ১১:১৯ | প্রকাশিত : ২৪ জুলাই ২০২১, ১১:১০

প্রখ্যাত গণসংগীতশিল্পী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলা একাডেমির ফেলো ফকির আলমগীরের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বাংলা একাডেমি। এক শোক বার্তায় একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, ফকির আলমগীরের প্রয়াণে বাংলা একাডেমি হারাল এক প্রিয় সুহৃদকে, বাংলাদেশ হারাল অন্যতম এক শ্রেষ্ঠ সন্তানকে। আমরা তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জ্ঞাপন করছি আন্তরিক সমবেদনা

বাংলা একাডেমির শোক বার্তায় আরো জানানো হয়, ফকির আলমগীর বাংলা গণসংগীতের সংগ্রামী ধারায় এক বলিষ্ঠ ও ব্যতিক্রমী নাম। শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের মুক্তির আশা তাঁর গানে সুরেলা ভাষা পেয়েছে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের এই গুণী শিল্পী বাংলাদেশের মহান মু্ক্তিযুদ্ধেও রেখেছেন অসামান্য অবদান। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলিতে গণসংগীতের ইতিহাস সুচারুরূপে বিধৃত হয়েছে।

মহামারি করোনায় আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ফকির আলমগীর। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে রেখে গেছেন।

ফকির আলমগীর ষাটের দশক থেকে গণসংগীতের সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী ও গণশিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য হিসেব ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে শামিল হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যোগ দেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে। স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রাখেন গুণী এই শিল্পী। সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার ১৯৯৯ সালে ফকির আলমগীরকে একুশে পদক দেয়।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার কণ্ঠের বেশ কয়েকটি গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এর মধ্যে ‘ও সখিনা’ গানটি এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। ১৯৮২ সালে বিটিভির আনন্দমেলা অনুষ্ঠানে গানটি প্রচারের পর দর্শকদের মাঝে সাড়া ফেলে। গানটি লিখেছেন আলতাফ আলী হাসু। কণ্ঠ দেয়ার পাশাপাশি গানটির সুরও করেছেন ফকির আলমগীর।

তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা, গণসংগীত চর্চার আরেক সংগঠন গণসংগীত শিল্পী পরিষদের সাবেক সভাপতি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করা ফকির আলমগীর গানের পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখিও করতেন। তার বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে।

ফকির আলমগীরকে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তালতলা কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে। শনিবার বাদ জোহর খিলগাঁও মাটির মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তালতলা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

(ঢাকাটাইমস/২৪জুলাই/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাহিত্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :