শতভাগ বিতরণ হয়নি কৃষি প্রণোদনা

রহমান আজিজ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২১, ১২:৪৭ | প্রকাশিত : ২৮ জুলাই ২০২১, ১২:০২

তিনবারে নয় মাস সময় বাড়িয়েও সরকারঘোষিত ৫ হাজার কোটি টাকার কৃষি প্রণোদনার তহবিল শতভাগ বিতরণ হয়নি। লক্ষ্যমাত্রার ৮৫ দশমিক ৯০ শতাংশ, অর্থাৎ ৪ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছেন ১ লাখ ৮৩ হাজার ৭০ কৃষক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রণোদনার অর্থ শতভাগ বিতরণ না হওয়ার জন্য কিছু ব্যাংকের অসহযোগিতার অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সব ধরনের তদারকি, নজরদারি, সতকর্তার পরও চুক্তিবদ্ধ বেশির ভাগ ব্যাংক প্রণোদনা বিতরণে তেমন সক্রিয় ছিল না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট আর্থিক সংকট মোকাবেলায় কৃষি খাতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা তহবিল গঠন করে সরকার। গত বছরের এপ্রিলে এ তহবিল থেকে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করে সেপ্টেম্বরে শেষ করার কথা ছিল। তবে ব্যাংকগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিন দফায় নয় মাস অর্থাৎ চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। জুনেই শেষ হয় প্রণোদনার ঋণ বিতরণের সময়সীমা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কৃষি খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনার অর্থ বিতরণে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল ৪৩টি ব্যাংক। জুন শেষে ব্যাংকগুলো ১ লাখ ৮৩ হাজার ৭০ জন কৃষক বা কৃষি প্রতিষ্ঠানের মাঝে ৪ হাজার ২৯৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা বিতরণ করে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৮৫ দশমিক ৯০ শতাংশ।

কৃষি প্রণোদনার অর্থ বিতরণে ১৫ মাস সময় পেলেও ব্যাংকগুলো শতভাগ বিতরণে ব্যর্থ হয়েছে। ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ অর্থ অবিতরিত থেকে যায়। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ ৭০৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল দাবি করে নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা ঢাকাটাইমসকে বলেন, চুক্তিবদ্ধ ব্যাংকগুলোকে প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণ বিতরণে প্রতিনিয়ত তাগাদা দেওয়া, তদারকি কমিটি গঠন, শাখা ব্যবস্থাপকদের টেলিফোনে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ এবং পরামর্শ, সংশ্লিষ্ট্র ব্যাংকের এমডিদের নেতৃত্বে ঋণ বিতরণে কমিটি গঠন, এমনকি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর কঠোর হুঁশিয়ারি করে চিঠিও দেয়া হয়। তার পরও সরকারের ঘোষিত প্রণোদনা ঋণ বিতরণে কিছু ব্যাংক সহযোগিতা করেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ কর্মকর্তা জানান, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে এটি চলমান ছিল। চলতি বছরের জুনে শেষ হলো। ১৫ দিন অন্তর চুক্তিবদ্ধ ব্যাংকগুলো তাদের ঋণ বিতরণের প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংককে দিত। এর পরিপ্রেক্ষিতে যেসব ব্যাংক পিছিয়ে ছিল, তারা লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ৯ মাস বেশি সময় পেলেও ব্যর্থ হয়েছে। ব্যাংকগুলো সহযোগিতা করলে শতভাগ অর্থাৎ ৫ হাজার কোটি টাকায় বিতরণ করা যেত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১ লাখ ৮৩ হাজার ৭০ কৃষক বা কৃষিপ্রতিষ্ঠানকে ঋণ বিতরণের সুবিধা সবচেয়ে বেশি দিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। ব্যাংকটি একাই ৮৫ হাজার ৭৮৮ জন কৃষকের মাঝে ১ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করে।

কৃষক বা কৃষিপ্রতিষ্ঠানকে ঋণসুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সোনালী ব্যাংক। ব্যাংকটি ২৪ হাজার ৯৫৯ জন কৃষককে ২০৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বিতরণ করে।

বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ২১ হাজার ৩৪ জন কৃষককে ৪৯০ কোটি ৮৫ লাখ টাকার কৃষি প্রণোদনার দিয়েছে। অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড ১২ হাজার ৯৬১ জন কৃষককে দিয়েছে ১২১ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ৯ হাজার ১৬৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ৪১৬ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংক ৬ হাজার ৪৭৬ কৃষককে ৯৬ কোটি ৭ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংক লিমিটেড ৬ হাজার ১৯৯ জনকে সাড়ে ৬৩ কোটি টাকা বিতরণ করে।

ব্যাংক এশিয়া ৩ হাজার ২৮৫ জনকে ৫৮ কোটি ৮৯ টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংক ২ হাজার ৭২৫ জনকে, ব্র্যাক ব্যাংক ২ হাজার ২ জন, উত্তরা ব্যাংক ১ হাজার ৬১ জন, যমুনা ব্যাংক ৭০৯ জন এবং আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক ৫৭০ জন কৃষক বা কৃষি প্রতিষ্ঠানকে ঋণ সুবিধা দিয়েছে।

বাকি ৩০ ব্যাংকের মধ্যে কেউ ৭ জনকে, কেউবা ১৩ জনকে কৃষি প্রণোদনার অর্থ বিতরণ করে এমনও আছে। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪০০ কৃষককে ঋণসুবিধা দিয়েছে একটি ব্যাংক।

(ঢাকাটাইমস/২৮জুলাই/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :