বিশ রকমের পানে বিখ্যাত ভৈরবের ‘দয়াময় পান ভাণ্ডার’

রাজীবুল হাসান, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
| আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ১৯:০১ | প্রকাশিত : ৩০ জুলাই ২০২১, ১৮:২০

বাহারি পানের জন্য বিখ্যাত কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার গজারিয়া গ্রামের পানের দোকান ‘দয়াময় পান ভাণ্ডার’। ওই গ্রামের মোশারফ হোসেন রাজুর এ দোকানে পাওয়া যায় বিশ রকমের পান। দশ বছর ধরে তিনি পান বিক্রি করে আসছেন। তার হাতের সুস্বাদু নানান ধরণের পান হয়ে উঠেছে জনপ্রিয়। এই পান বিক্রি করে মোশারফের সংসারে সচ্ছলতাও এসেছে।

মোশারফের হাতের পানের স্বাদ নিতে ছুটে আসেন ভৈরব উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পান পিপাসু ছাড়াও পার্শ্ববর্তী কুলিয়ারচর, বাজিতপুর উপজেলার লোকজন। এমনকি রাজধানী ঢাকা থেকে এই এলাকায় কেউ ঘুরতে এলে, ছুটে আসেন গজারিয়া বাজারের মোশারফের বাহারি পানের দোকানে। মিষ্টি পান খেয়ে সঙ্গে করেও নিয়ে যান ৫-১০টি পানের খিলি।

পান দোকানি মোশারফ বলেন, আগে পুরান ঢাকায় একটি জুতা কারখানায় কারিগর হিসেবে কাজ করতাম। রাত জেগে কাজ করতে হতো সেখানে। কাজে ফাঁকে বিশ্রাম নিতে যখন কারখানার বাইরে বের হতাম, তখন সড়কের পাশে ছোট একটি দোকানে মিষ্টি পান খেতে যেতাম। সে দোকানে পান খাওয়া সময় থেকেই নিজের গ্রামে এমন একটি পানের দোকান দেবার ইচ্ছা জাগে। এরপর জুতার কারখানার কাজ ছেড়ে গ্রামে ফিরেই নিজ গ্রামের বাজারে খুলি ‘দয়াময় পান ভাণ্ডার’। এই বাজারে ১০ বছর ধরে বাহারি পান বিক্রি করছি। বিশ ধরণের পান বিক্রি করি। বাহারি এসব পানে লং, এলাচি, দারচিনি, হরতকি, বয়রা, বাদাম, মুরব্বাসহ নানান ধরণের মসলা দেওয়া হয়। আমার হাতের বানানো পান খেতে এই উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও পৌরসভাসহ আশেপাশের কয়েক উপজেলার লোকজন প্রতিদিন আসেন। ঈদ বা কোনো উপলক্ষ্য হলে প্রতিদিন ৪০০-৫০০টি পান বিক্রি হয়। আর এমনিতেও প্রতিদিন ৩৫০-৪০০টি পান বিক্রি করি।

প্রতিদিন ৯-১০ হাজার টাকার পান বিক্রি করতে পারেন বলে জানান মোশারফ। এছাড়াও বিভিন্ন নামী দামী রেস্টুরেন্ট থেকে তার হাতে বানানো পানের অর্ডার আসেন বলে তিনি জানান।

সরেজমিনে মোশারফের দোকানে গিয়ে দেখা গেছে, পানের বাহারি মসলা দিয়ে পান তৈরিতে ব্যস্ত মোশারফ। সেখানে ১০-১২ জন লোক ভিড় করে দাড়িয়ে আছে পানপিপাসুরা। কথা বলার ফুসরত নেই দোকানদারের। একের পর এক পান পিপাসুরা আসছেন তার পান খেতে। এমনকি অনেক সময় লাইন দিয়ে তার পান কিনতে হয়। ২০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকা পর্যন্ত দামের পান পাওয়া যায় তার দোকানে। এসব বাহারি পানের মধ্যে রয়েছে- বিকালের পান, সন্ধ্যা রাত্রির পান, বৌ-সোহাগী, আগুন পান, খুসবু পান, শালী দুলাভাই পান, কোমল মিঠা, ভালোবাসার উপহার, পথ চলার সাথী, চাঁদ বৌধুনী বৌধু, দেবর ভাবীর পান, বেনারসীর পান, ইয়াং পান, নিঝুম পান, শিশির ভেজা, হেভী স্পিড পান, ছাত্রবন্ধু পান, ডায়সল্ট, হিরমালাই, বাদশা পান।

পাশ্ববর্তী মিরারচর গ্রামের বাসিন্দা আকবর মিয়া বলেন, ৩৫ বছর ধরে আমি পান খাই। মোশারফের পানের দোকান দেবার পর থেকে দশ বছর যাবত এই দোকানের পান প্রতিদিনই খেতে আসি। আমার প্রতিদিন ১০-১২টি পান লাগে। মোশারফের হাতের হাতের মিষ্টি পান অন্যরকম সুস্বাদু। সবসময় মোশারফের হাতের ৩-৪টি পান পকেটে রাখি।

মোশারফের দোকানের মিষ্টি পান ভালো লাগে বলে প্রতিদিনই বাইকে করে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে পান খেতে আসেন পৌর শহরের শুম্ভুপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল বাশার।

আরেক পানপিপাসু আবুল হাসান বলেন, গজারিয়া বাজারের মোশারফ ভাইয়ের পান ভৈরবের সেরা পান। প্রতিদিনই তার হাতে বানানো মিষ্টি পান খেতে আসি এবং মিষ্টি পান শ্বশুরবাড়িসহ আত্মীয় স্বজনের বাড়ি নিয়ে যাই।

(ঢাকাটাইমস/৩০জুলাই/পিএল)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :