১০০ টাকা বকশিশ চাওয়ায় দারোয়ানকে গালি দেন হেলেনা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২১, ১১:১৯ | প্রকাশিত : ০১ আগস্ট ২০২১, ০৯:০৫

মাত্র একশ টাকা চাওয়ায় গালাগাল সহ্য করতে হয়েছে আবুল কালামের (ছদ্মনাম)। ঈদের বকশিশ চেয়েছিলেন তিনি। টাকা তো জোটেইনি উল্টো কুরুচিপূর্ণ উক্তি শুনতে হয়েছে তাকে। আর সেই উক্তিটি করেছেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। যিনি একাধিক মামলা ঘাড়ে নিয়ে আছেন পুলিশ রিমান্ডে।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানের যে বাসা থেকে তাকে আটক করা হয় সেই বাড়ির নিরাপত্তা কর্মী আবুল কালাম।

কাঁদতে কাঁদতে সেদিন ঢাকাটাইমসের এই প্রতিবেদকের কাছে তিনি বলতে থাকেন, ‘এত টাকা। কিন্তু মনটা এত ছোট। মাত্র একশ টাকা চেয়েছিলাম ঈদ বকশিশ। টাকা তো দেইনি উল্টো গালি দিয়ে বলেছে, ‘আরে ... বাচ্চা (প্রকাশ অযোগ্য), বেতন পাস না? আবার বকশিশ কীসের?’

রাজধানীর অভিজাতপাড়া গুলশানের ৩৬ নম্বর সড়কের ৫ নম্বর বাড়ির নিচে দাঁড়িয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। আওয়ামী লীগের একটি কেন্দ্রীয় উপকমিটি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত হেলেনা জাহাঙ্গীর বিলাসবহুল এই বাড়িতেই থাকতেন। ছয়তলা ভবনের চারটি ফ্লোরে (ট্রিপ্লেক্স বাড়ি) ১৭টির বেশি রুমে হেলেনা ও তার পরিবারের বসবাস ছিল। যেখানে আছে দেশি-বিদেশি নামিদামি সব কোম্পানির আসবাবপত্র। যা দেখলে যে কেউ চমকে উঠবেন। আর ভবনের গ্যারেজে থাকত কালো রঙের একটি পাজেরো। যেটাতে চড়তেন হেলেনা জাহাঙ্গীর।

আবুল কালাম বলেন, ‘ম্যাডামকে আসতি যাতি দেখতাম। প্রায়ই গেট খুলে দিতাম; ম্যাডামের গাড়ি বের হয়ে যেত। সালাম দিলিও উত্তর দিত না। এতবড় বাড়িতে থাকতেন, এত ট্যাকা (টাকা) পয়সা কিন্তু ম্যাডামের মন বড় ছিল না। আমার মতো গরিবকে কোনোদিন দেখত না।’

সম্প্রতি ফেসবুকে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামের একটি সংগঠনের সভাপতি হিসেবে হেলেনা জাহাঙ্গীরের নাম আসায় তাকে উপকমিটির পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। পদ হারানোর পরই বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটা থেকে গুলশানে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাড়িতে অভিযান শুরু হয়। চার ঘণ্টার অভিযান শেষে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটক করে র‌্যাব সদরদপ্তরে নেয়া হয়। উদ্ধার করা হয় বিদেশি মদ, ক্যাসিনো সরঞ্জাম, চাকু, ওয়াকিটকি, হরিণের চামড়া ও বৈদশিক মুদ্রা। এরপর রাত দেড়টা থেকে চারটা পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বরের এ ব্লকের তিন নম্বর রোডে ‘জয়যাত্রা টেলিভিশনের’ কার্যালয়ে অভিযান শুরু করে র‌্যাব। সেখান থেকেও বিভিন্ন অবৈধ বিপুল সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

শুক্রবার হেলেনার বিরুদ্ধে বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে র‌্যাব। একটি রাজধানীর পল্লবী থানায় এবং অপর দুটি গুলশান থানায়। পরে পুলিশ হেলেনাকে আদালতে তোলে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করে। আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বর্তমানে তিনি গুলশান থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। আজ রিমান্ড শেষ হচ্ছে। এরপর ফের তাকে আদালতে তোলা হবে।

(ঢাকাটাইমস/১আগস্ট/এসএস/কেআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :