বিধিনিষেধ বাড়ছে নাকি শিথিল হচ্ছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ২২:২৫ | প্রকাশিত : ০২ আগস্ট ২০২১, ২১:৩২
ফাইল ছবি

করোনা মহামারির প্রকোপ রোধে চলমান কঠোর বিধিনিষেধ আগামী ৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে। এরপর সেই বিধিনিষেধ আরও বাড়ানো হবে নাকি শিথিল করা হবে সেটা নিয়ে আলোচনা চলছে। এ ব্যাপারে দুই ধরনের আলোচনাই আছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে আগামীকাল মঙ্গলবার সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠকে।

সোমবার জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় অনলাইনে (জুম) একটি বৈঠক হবে। সেই বৈঠকে যোগ দিতে অনুরোধ করা হয়েছে স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র, কৃষি, শিক্ষা, পররাষ্ট্র, স্থানীয় সরকার, তথ্য ও সম্প্রচার, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, জনপ্রশাসন, বাণিজ্য, দুরে্যাগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পুলিশ মহাপরিদর্শকদের এই সভায় যোগ দিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে চলমান বিধিনিষেধ সম্পর্কে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে তাদের নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনসাপেক্ষে।

সরকারের একটি সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে চলমান কঠোর বিধিনিষেধ আরও ১০ দিন বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও আরও অন্তত এক সপ্তাহ কঠোর বিধিনিষেধ বাড়ানোর কথা ভাবছেন। তবে মানুষের জীবন-জীবিকার কথা বিবেচনা করে বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করার আলোচনাও আছে তাদের মধ্যে। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় আসতে পারে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের পর আরও সাত দিনের জন্য বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়লে সেক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি অফিস সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়া হতে পারে। সীমিত পরিসরে চালু করা হতে পারে গণপরিবহন। রপ্তানিমুখী শিল্প-কলকারখানা ইতিমধ্যে চালু করা হয়েছে, সেটি চালুই থাকবে। এছাড়া দোকানপাট, হোটেল-রেস্তোরাঁ খুলে দেওয়ার দাবিও বিবেচনায় আসতে পারে।

এর আগে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটি ৫ আগস্টের পরও বিধিনিষেধ বহাল রাখার সুপারিশ করে। মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদের এ বৈঠকের পর সুপারিশগুলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে অনুমোদনের পর বুধবার এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ঈদের পর ২৩ জুলাই থেকে বিধিনিষেধ চলছে, যা ৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। বিধিনিষেধের মধ্যেই গত শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক আদেশে জানানো হয়, ১ আগস্ট থেকে রপ্তানিমুখী সব শিল্প ও কলকারখানা চলমান বিধিনিষেধের আওতাবহির্ভূত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর শ্রমিকেরা গ্রামের বাড়ি থেকে দুর্ভোগ নিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন কলকারখানার অভিমুখে রওনা হন। একপর্যায়ে রবিবার দুপুর পর্যন্ত গণপরিবহন চালুর অনুমোদন দেয় সরকার।

এর আগে কোরবানির পশুর চামড়া পরিবহন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, খাদ্য ও খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাতকরণ কলকারখানা এবং ওষুধ, অক্সিজেন ও কোভিড-১৯ প্রতিরোধে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য উৎপাদনকারী শিল্পও এ বিধিনিষেধের আওতার বাইরে রাখার কথা জানিয়েছিল সরকার।

তবে চলমান ঢিলেঢালা বিধিনিষেধ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ৷ তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘১ জুলাই থেকে ১৪ দিনের লকডাউনে সংক্রমণ কমে আসছিল৷ আমরা তখন আরও ১০ দিন লকডাউনের সুপারিশ করেছিলাম৷ কিন্তু তা না করে ঈদে লকডাউন তুলে দেওয়া হলো৷ ফলে সংক্রমণকে যে আটকানো হয়েছিল তা আবার খুলে গেল৷ সংক্রমণ বাড়ল৷ দ্বিতীয় দফায় এবার পোশাক কর্মীদের গাদাগাদি করে যেভাবে ঢাকা আনা হলো তাতে আর কিছুই থাকলো না৷ সংক্রমণ এখন আরো বেড়ে যাবে৷’

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে আর লকডাউনের পক্ষে না৷ এভাবে যদি প্রশাসন লকডাউন না মানাতে পারে তাহলে মনে হয় আর লককডাউন করাটা ঠিক হবে না৷ তা না করে বিধিনিষেধগুলো মানানো জরুরি৷ এখানে কোন ছাড় দেয়া যাবে না৷’

তবে এই বিশেষজ্ঞ আরও মনে করেন, এ অবস্থায় অফিস খুললেও বেশিরভাগ মানুষের ঘরে থেকে কাজ করা এবং গণপরিবহন, দোকান, কলকারখানায় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে৷ দ্বিতীয়ত, প্রচুর পরীক্ষা করে তার ভিত্তিতে আইসোলেশন ও কোয়ারান্টিনের বিষয়গুলোতে জোর দিতে হবে৷ তৃতীয়ত, মাসে এক থেকে দেড় কোটি টিকা দিতে হবে৷ এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে পারলে লকডাউনের প্রয়োজন নেই৷

(ঢাকাটাইমস/০২আগস্ট/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :