তারুণ্যের জেগে ওঠার শক্তির নাম শেখ কামাল: হানিফ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২১, ১৬:৫১ | প্রকাশিত : ০৫ আগস্ট ২০২১, ১৬:৪৪

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পুত্র শেখ কামালকে তারুণ্যের জেগে ওঠার শক্তি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।

হানিফ বলেন, ‘তারুণ্যের জেগে উঠার শক্তির নাম শেখ কামাল। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম শেখ কামাল। ২৬ বছর বয়সে তিনি বহুমাত্রিক প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তিনি দেশের স্বাধীনতা অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। ৬৯ এর আন্দোলনে তাঁর অনবদ্য ভূমিকা ছিল। রণাঙ্গনের সাহসী যোদ্ধা ছিলেন, অস্ত্র হাতে নিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়তে পিছপা হননি পাশাপাশি তার সামাজিক শিষ্টাচারও ছিলো অনুকরণীয়।’

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

শেখ কামাল বাংলাদেশের আধুনিক ফুটবলের প্রবর্তক এমন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘তিনি আবাহনী ক্রীড়াচক্র প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি একজন দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক ছিলেন। শুধু ক্রীড়া জগতেই তাঁর পদচারণা ছিল এমন নয়; সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও ছিল তার অবাধ বিচরণ। স্পন্দন নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই তার ছিল বহুমাত্রিক প্রতিভা। সবকিছুর পরে তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, নম্র, ভদ্র ও সদালাপী।’

যারা আজ ছাত্র রাজনীতি এবং যুব রাজনীতি করছেন তাদের কাছে শেখ কামালের শিষ্টাচার অনুকরণীয় বলে মনে করেন হানিফ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তিনি (শেখ কামাল) রাষ্ট্র প্রধানের সন্তান ছিলেন। ইচ্ছে থাকলে গুরুত্বপূর্ণ পদে যেতে পারতেন কিন্তু পদ-পদবীতে তার আগ্রহ ছিল না। তিনি বঙ্গবন্ধু পাশে থেকে দেশ গড়ায় ভূমিকা রাখতে চেয়েছিলেন। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে চাই, দেশ গড়তে চাই। কিন্তু আমাদের মধ্যে যদি শিষ্টাচার না থাকে তা হলে আমরা কখনোই বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারবো না। শেখ কামালের আচরণ, শিষ্টাচার অনুসরণ করে নিজেদের সংশোধন করতে হবে এবং আগামী দিনের নেতৃত্বের জন্য তৈরি করতে হবে।’

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার কারণে আজ অনেকেই দলে পদ পেতে উদগ্রীব হয়ে যান উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি আদর্শিক দল। আওয়ামী লীগ করতে হলে আদর্শ থাকতে হবে। এই বাংলাদেশের সকল অর্জনের নেতৃত্ব দিয়েছে আওয়ামী লীগ অথচ আজকে আমরা দেখি সংগঠনের নামের আগে ‘আওয়ামী’, ‘লীগ’, বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম যুক্ত করে সংগঠন দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। আজকে যারা এসব সংগঠন করে বিভিন্ন নামে ব্যানার ফেস্টুন করছে এরা সবাই ধান্ধাবাজ, সুবিধাবাদী ও প্রতারক।’

প্রতারণামূলক সংগঠনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে জানিয়ে হানিফ বলেন, ‘যারাই অপকর্ম করছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। দেশ অর্থনৈতিক এবং অবকাঠামোগত ভাবে এগিয়ে গেলেও সমাজে নৈতিকতার অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। এই ধরণের নৈতিক অবক্ষয়ের পরিবেশ তৈরির পেছনে যেসব ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংগঠনের যে বা যারা জড়িত তাদের বিরূদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযান শুরু হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তারও হয়েছে। এদের শেকড় সমূলে উৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান চলমান থাকবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি। অন্যদের মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. দিলীপ কুমার রায়, মেজবাউর রহমান ভুঁইয়া রতন, সাজেদা বেগম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মোরশেদ হোসেন, মিরাজ হোসেন, মহিউদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সারোয়ার কবির, দপ্তর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ ও আইন সম্পাদক আইরজীবী জগলুল কবির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন৷ সভা পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির।

ঢাকাটাইমস/৫আগস্ট/কারই/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :