ই-অরেঞ্জের ফাঁদ-১

লাভের আশায় ৭২ লাখ বিনিয়োগ, পাগলপ্রায় ফারুক

কাজী রফিক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২১, ১৯:৫৭ | প্রকাশিত : ২৯ আগস্ট ২০২১, ২২:২৩

নিজের গোটা জীবনের পুঁজির সঙ্গে পরিবার ও স্বজনদের কাছ থেকে ধার করে নগদ টাকা দিয়ে পণ্য কিনে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ফারুক হোসেন। এই বিনিয়োগ থেকে নির্ধারিত সময়ের পর ভালো অঙ্কের লাভ হবে এমন আশায় তিনি ৭২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জে। কিন্তু সম্প্রতি ইভ্যালির ঝড় লেগেছে ইÑঅরেঞ্জেও। প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষের একাধিক লোক গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে। অন্যদিকে সময় পার হচ্ছে, পণ্য কিংবা টাকা কোনোটাই পাচ্ছেন ফারুক। আসল টাকা হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটছে এই বিনিয়োগকারী ও তার পরিবারের সদস্যদের।

ঢাকা টাইমসের সঙ্গে আলাপকালে ফারুক জানান, ব্যবসার উদ্দেশ্যে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জে ৪০টি মোটরসাইকেল অর্ডার করেছিলেন তিনি। এ জন্য তাকে নগদ পরিশোধ করতে হয়েছিল ৭২ লাখ টাকা।

গত এপ্রিল-মে মাসে টাকা জমা দেন। পণ্য পাওয়ার কথা মে মাসের ২০ তারিখের পর থেকে। এখন পর্যন্ত কোনো পণ্যই পাননি তিনি।

ই-অরেঞ্জে লাভের আসায় বিনিয়োগ করে দিশেহারা ফারুক বলেন, ‘পরে আগস্টের ১০ তারিখ থেকে ডেলিভারি করার কথা। পরে করোনার জন্য ১৬ তারিখ থেকে ডেলিভারি করার কথা ছিল। কিন্তু ১৬ তারিখে জানানো হলো, বাইক পেতে আরও ৪৫ থেকে ৬০ কার্যদিবস লাগবে। আর রিফান্ড পেতে হলে খুব কম সময়ের মধ্যে তা দেওয়া হবে। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো তারিখ দেয়নি।’

তিনি বলেন, ‘কল সেন্টারের যোগাযোগ করা হলে দিব, দিচ্ছি এমন কথা বলছে। ১৬ তারিখের পর থেকে কল সেন্টারেও আর কল রিসিভ করছে না।’

তবে লাভের আসার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি শুধু ফারুক নয়, দেশের লাখ লাখ মানুষ ই-অরেঞ্জে বিনিয়োগ করে এখন দিশেহারা।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের মালিকপক্ষ প্রতারণামূলকভাবে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে এমন অভিযোগে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির মালিকদের বিরুদ্ধে এক গ্রাহক গুলশান থানায় মামলা করেন।

মামলায় ই-অরেঞ্জের মূল মালিক সোনিয়া মেহজাবিন, তার স্বামী মাসুকুর রহমান, মালিক বীথি আকতার, প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) আমানউল্লাহ চৌধুরী, প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদসহ প্রতিষ্ঠানটির সব মালিককে আসামি করা হয়। পরে সোনিয়া মেহজাবিন ও মাসুকুর রহমান জামিন চাইতে গেলে আদালত জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ এপ্রিল থেকে নানা সময়ে বিভিন্ন ধরনের পণ্য কেনার জন্য টাকা দেওয়া হয়, যা একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের পর সরবরাহ করার কথা ছিল। কিন্তু ই–অরেঞ্জ এক লাখ ভুক্তভোগীর সঙ্গে প্রতারণা করে যাচ্ছে।

ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির আরো কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আসল টাকাও না পাওয়ার শঙ্কার কথা জানিয়ে ফারুক বলেন, ‘সারা জীবনের পুঁজির পাশাপাশি ৭২ লাখ টাকার মধ্যে আছে ধার ও পরিবারের অন্যদের টাকা। এখন টাকা না পেলে পথে বসতে হবে।’

ফারুক বলেন, ‘আমার নিজের ও নিজের পরিবারের অবস্থা খুবই শোচনীয়। আমার এখন আর কিছুই নাই। পুরো দিশেহারা। আমার সব শেষ। আমার পুরো পরিবারের সব শেষ। দেনা করা আছে। লোন আছে। আমার ১০-১৫ লাখ টাকা দেনাই আছে। চাকরি নাই। কীভাবে এই টাকা শোধ করব?’

ফারুক অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষ সবাইকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য নিজেদের মধ্যেই মালিকানা পরিবর্তন করেছেন। পুরো বিষয়টি সাজানো বলে মনে করছেন তিনি।

ফারুকের সন্দেহ, ই-অরেঞ্জের অ্যাকাউন্ট থেকে সব টাকা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। কে বা কারা এই টাকা তুলেছেন তাও স্পষ্ট।

মালিকানা পরিবর্তন বা অন্য কী হলো তা যা-ই হোক নিজের কষ্টের টাকা ফেরত চান এই যুবক।

(ঢাকাটাইমস/২৯আগস্ট/ বিইউ/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :