চাহিদা ও সরবরাহ পণ্যের গরমিল

হয়রানির দায় না নিয়ে উল্টো গ্রাহকের তথ্য চায় দারাজ

কাজী রফিক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২১, ১১:২৪ | প্রকাশিত : ৩১ আগস্ট ২০২১, ১০:১৭

ই-কমার্স প্লাটফর্ম ‘দারাজ বাংলাদেশ’ থেকে পণ্য অর্ডার করে ভুল ও খারাপ মানের পণ্য পাওয়ার অভিযোগ এখন নিয়মিত। আর তাতে ভোক্তা যে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সে দায় নিতে নারাজ ‘দারাজ বাংলাদেশ’। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উল্টো গণমাধ্যমের কাছে ভুক্তভোগীর বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইছেন দারাজ কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি ঢাকা টাইমসের কাছে আসা কয়েকটি অভিযোগ আমরা দেখে নিতে পারি। সম্প্রতি দারাজ থেকে দুটি পণ্য কিনে ঠকেন তারিকুল জেবিন। গত ৭ আগস্ট দারাজের ওয়েবসাইট থেকে একটি প্যান্ট ও নারীদের এক জোড়া হাইহিল স্যান্ডেলের চাহিদা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পণ্য হাতে পাওয়ার পর জেবিন বিস্মিত! প্যান্টের বদলে তাকে সরবরাহ দেওয়া হয়েছে জায়গায় জায়গায় ছেঁড়া এক ধরনের ট্রাউজার। আর হাইহিল স্যান্ডেলের বদলে দেওয়া হয়েছে ফোমের সাধারণ স্যান্ডেল।

এরপর নিয়ম মেনে দারাজের ওয়েবসাইটে রিফান্ডের জন্য আবেদন করেন জেবিন। পরদিন ওই পণ্য ফেরত নেয় প্রতিষ্ঠানটি।

জেবিন জানান, দারাজে এ ধরনের অভিজ্ঞতা তার নতুন নয়। এর আগেও একই ঘটনা ঘটেছে তার সঙ্গে। অনলাইনে যে পণ্যটি দেখে তিনি চাহিদা জানান, সরবরাহ করা পণ্যের সঙ্গে তার মিল পাননি তিনি। তবু করোনা মহামারির কারণে বাইরে বেরোনো থেকে বিরত থাকতে আবার তিনি দারাজে পণ্যের অর্ডার দিয়েছিলেন। আবার ঠকেছেন।

ঢাকা টাইমসকে জেবিন বলেন, ‘দারাজের ওপর অনেকের মতো আমারও একটি আস্থা ছিল। কিন্তু সেটা নষ্ট হয়ে গেছে। আমি রিফান্ড পেয়েছি, কিন্তু আমার সময় তো নষ্ট হয়েছে। আমি যে টাকা দিয়েছিলাম, সেটা না হয় আমাকে ফেরত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমি যে প্রয়োজনে, যে প্রত্যাশা থেকে পণ্যগুলো অর্ডার করলাম, সেটা তো ভেস্তে গেল। এর দায় কি নেবে দারাজ?’জেবিনের মতো দারাজ থেকে পণ্য কিনে প্রতারিত হয়েছেন কামরুল ইসলাম। রাজধানীর রসুলবাগ এলাকার এই বাসিন্দা জানান, দারাজ থেকে ল্যাপটপের চার্জার কিনে সেটি আবার ফেরত দিতে হয়েছে তাকে।

ঢাকা টাইমসের সঙ্গে আলাপকালে কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাকে যে চার্জার দেওয়া হয়েছে সেটা ছিল নষ্ট। চার্জে লাগালেই গরম হয়ে যাচ্ছিল। পরে আমি সেলারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। কিন্তু তারা আমার মেসেজের উত্তর দেননি। পরে আমি রিফান্ডের জন্য আবেদন করি।’

কামরুল বলেন, ‘অনলাইনে জরুরি প্রয়োজনে একটা পণ্য কিনি। কিন্তু সেটা হাতে পাওয়ার পর যদি ভোগান্তিতে পড়তে হয়, তাহলে কেমন লাগে! দারাজের উচিত পণ্যটি যখন তাদের কাছে আসে, তখন সেটির কোয়ালিটি চেক করে গ্রাহকের কাছে পাঠানো। কিন্তু তারা সেটা করে না বলে মনে হচ্ছে। ফলে আমাদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়।’

গত ৮ আগস্ট জেবিনকে দেওয়া পণ্যফ ফেরত নিয়ে তাকে টাকা ফেরত দিয়েছে দারাজ। একই দিনে দারাজ থেকে কেনা পণ্যে সমস্যা থাকার কারণে তা ফেরত দিয়েছেন রাজধানীর নিউ ইস্কাটন এলাকার বাসিন্দা আসমার ওসমান, একই এলাকার মো. হানিফ, পুরান ঢাকার নবাবগঞ্জের সুমন হোসেনসহ অনেকে।

দারাজের সূত্র বলছে, প্রতিদিনই এমন গরমিলের শত শত পণ্য ফেরত নিতে হচ্ছে দারাজকে। অনেককে টাকা ফেরত দেওয়া হয়। ক্রেতার কাছ থেকে পণ্য ফেরত আসার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে দেখানো পণ্য আর ক্রেতাকে দেওয়া পণ্যের মধ্যে মিল না থাকা। নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করা। নষ্ট বা অকেজো ইলেকট্রনিকস পণ্য ক্রেতাকে পাঠানো। ছেঁড়াফাটা পোশাক সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে অনেক।

এসব অভিযোগ নিয়ে দারাজের বক্তব্য জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সংযোগ কর্মকর্তা সায়ন্তনী তৃষা বিষয়টি এড়িয়ে যান। প্রতিবেদনে উল্লেখিত ক্রেতাদের অভিযোগ নম্বর ও অন্যান্য তথ্য দিতে বলেন তিনি। কিন্তু ভুক্তভোগী ক্রেতাদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের অর্ডার নম্বর দারাজকে না দেওয়ায় তিনি এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি।

অভিযোগকারীর নাম, পণ্যপ্রাপ্তি, গরমিলের পণ্য ফেরত, দারাজ থেকে টাকা রিফান্ডের উদাহরণগুলো তুলে ধরলে দারাজের ওই কর্মকর্তা এর দায় না নিয়ে উল্টো ঢাকা টাইমসের কাছে গ্রাহকের বিস্তারিত তথ্য চায় এবং তারপর মন্তব্য করবেন বলে জানান।

তাহলে কি দারাজের পণ্য কিনে এভাবে হয়রানি চলতেই থাকবে? গরমিলের পণ্য ফেরত নেওয়া কিংবা কাউকে কাউকে টাকা ফেরত দিলেই কি ব্যবসায় নৈতিকতা সিদ্ধ হয়ে যায়? মাঝখানে গ্রাহকের হয়রানির দায় নেবে কে? উত্তর মেলে না কোনো।

(ঢাকাটাইমস/৩১আগস্ট/কেআর/এজেড/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :