লিবরা ইনফিউশনের শেয়ার নিয়ে কারসাজি হচ্ছে না তো?

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৪২

ব্যাংক থেকে ঋণপত্র (এলসি) ছাড় হচ্ছে না, এই অজুহাতে ২০১৯ সালের আগস্টে উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল লিবরা ইনফিউশন লিমিটেড। ফের উৎপাদনে ফিরেছে কি না এমন কোনো তথ্যও নেই বিনিয়োগকারীদের কাছে। ব্যাংক বলেছিল, লিবরা ইনফিউশন মিথ্যা, বিভ্রান্তিমূলক ও বাস্তব অবস্থার পরিপন্থী তথ্য দিয়ে সত্য আড়াল করেছে। খেলাপি ঋণের তালিকায় থাকায় প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে কোনো ঋণপত্র ইস্যু করার সুযোগ নেই ব্যাংকের।

২০১৯ সালের পর থেকে কোনো লাভের মুখ দেখেনি প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা। এর পরও পুঁজিবাজারের ওষুধ ও রসায়ন খাতের প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর আছে ঊর্ধ্বমুখী ধারায়। বিনিয়োগকারীদের শঙ্কা প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার নিয়ে কোনো কারসাজি হচ্ছে না তো! গত ৯ সেপ্টেম্বর দিন শেষে লিবরা ইনফিউশনের প্রতিটি শেয়ারের দর ঠেকেছে ১০৭৩.৭০ টাকায়। ওই দিন সর্বোচ্চ ১০৭৪.৬০ টাকায় বিকিকিনি হয় শেয়ারটি। আগের দিনের চেয়ে দাম বেড়েছে ৭.৪০ শতাংশ বা ৭৪ টাকা।

নানা ধরনের সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের এই অযৌক্তিক দাম নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশঙ্কা বাড়ছে। মূলত শেয়ারের মৌলিক ভিত্তি দেখে বিনিয়োগের কথা বলা হলেও এ ক্ষেত্রে ঘটছে তার ব্যত্যয়।

লিবরা ইনফিউশন স্যালাইন উৎপাদন করে। ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট পত্রিকায় প্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল এক তথ্যে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক কোম্পানিটির ঋণপত্র বা এলসি বন্ধ করে দেয়ায় কাঁচামালের অভাবে কোম্পানিটির ডায়রিয়া ও ডেঙ্গুর চিকিৎসায় ব্যবহৃত এবং কোম্পানির মূল পণ্য স্যালাইন উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তবে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ওই সময় বলেছিল, লিবরা ইনফিউশনের এই দাবি সঠিক নয়। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিমূলক, বাস্তব অবস্থার পরিপন্থি। কোম্পানিটি প্রকৃত সত্য আড়াল করেছে বলে পাল্টা প্রতিবাদ জানিয়েছে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের মতিঝিল করপোরেট শাখার গ্রাহক লিবরা ইনফিউশন লিমিটেডের কাছে বিনিয়োগের বিপরীতে ২০১৯ সালের ২৭ আগস্ট পর্যন্ত সর্বমোট ১০৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।

আল-আরাফাহ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছিল, লিবরা ইনফিউশন সঠিকভাবে ব্যবসা-পরিচালনা করতে না পারায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারেনি। তাই তারা ঋণখেলাপি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবিতে তালিকাভুক্ত হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ২৭ কক ধারা অনুযায়ী, ‘খেলাপি গ্রাহকের অনুক‚লে কোনো ঋণসুবিধা প্রদান করা যায় না’।

ঢাকার পুঁজিবাজার ডিএসইর ওয়েবসাইট বলছে, লিবরা ইনফিউশনের অনুমোদিত মূলধন ১০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন এক কোটি পঞ্চাশ লাখ টাকার কিছু বেশি। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৯ সালে শেয়ারপ্রতি ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল বিনিয়োগকারীদের। এর আগের বছর ২০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ট দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। এ বছরের ২৪ মে প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ বার্ষিক সাধারণ সভা হলেও এখনো লভ্যাংশ ঘোষণার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

১৯৯৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া লিবরা ইনফিউশনের শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএসের অবস্থাও শোচনীয়। ডিএসইর তথ্যমতে, ২০১৯ সালের প্রথম ছয় মাসে ইপিএস মাত্র এক টাকার কিছু বেশি। অথচ বাজারে এই কোম্পানির শেয়ারের দাম হাজার টাকার ওপরে, যার সঙ্গে আয়ের বিরাট অসংগতিই প্রকাশ করে।

এত বেহাল অবস্থায় থাকার পরও গত এক বছরে লিবরা ইনফিউশনের শেয়ারদর বেড়েছে ১০৯ শতাংশ। এক বছর আগে যে শেয়ার ৫১২.২০ টাকায় পাওয়া যেত তা এখন বিকোচ্ছে ১০৭৪.৬০ টাকায়।

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, লিবরার মতো ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানকে পুঁজি করে বিনিয়োগকারীদের চোখে ধুলো দিয়ে কোনো গোষ্ঠী কারসাজি করছে কি না তা খতিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। কারণ বিনিয়োগকারীদের অনেকেই হুজুগে কিংবা শেয়ারের সূচকের ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখে বিনিয়োগ করে। আদতে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ভিত্তি খুবই দুর্বল।

পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারী মাসুদুল হক ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘অতীতে বিভিন্ন সময় এসব লোকসানি ও ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিন্তু কারসাজিকারীদের কিছুই হয়নি। এখন বাজারে যে ইতিবাচক ধারা চলছে কোনো পক্ষ বা গোষ্ঠী এই সুযোগ নিচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।’

ডিএসইর তথ্য বলছে, লিবরা ইনফিউশনের ৩৪.৪৩ শতাংশ শেয়ার আছে পরিচালকদের হাতে। ৯.১৯ শতাংশে বিনিয়োগ করেছে প্রতিষ্ঠান। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ৫৬.৩৮ শতাংশ শেয়ার।

(ঢাকাটাইমস/১২সেপ্টেম্বর/আরএ/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :