লাল শাপলার মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পট বিকিবিল

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, সুনামগঞ্জ
| আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:৫২ | প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:৫৯

আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল/বাতাসের আছে কিছু গন্ধ/রাত্রির গায়ে জ্বলে জোনাকি/তটিনীর বুকে মৃদু ছন্দ।-এই গানের দৃশ্যটিই বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে লাল শাপলার হাওর বিকিবিলে। সকালে পুব আকাশে সূর্যের রক্তিম আলোকছটাকেও হার মানায় বিকিবিলের রক্তিম লাল শাপলা।

পানির ওপর ফুলে ফুলে সাজানো লালগালিচা বিছায়ে ডাকছে। এর সঙ্গে রয়েছে দেশীয় নানা প্রজাতির পাখির কিচিরমিচির সুর। প্রকৃতি তার রূপের সঙ্গে নিজে বাদ্যযন্ত্রে সুরের ঝরনাধারা ছড়িয়ে দিয়ে আশপাশের পরিবেশ ও গ্রামগুলোকে মনোমুগ্ধকর করে তুলেছে মেঘালয় পাহাড় সংলগ্ন এই বিলে।

সূর্যোদয় থেকে বেলা ১১-১২টা পর্যন্ত লাল শাপলার সৌর্ন্দয দৃশ্যমান থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্লান্তি নিয়ে আপন সৌন্দর্যকে গুটিয়ে নিতে শুরু করে। শীতের আগমন না ঘটলেও ষড়ঋতুর বাংলাদেশে পর্যটনসমৃদ্ধ নয়নাভিরাম মনোমুগ্ধকর এই বিলটি এলাকার ঐশ্বর্যে পরিণত হয়েছে। জেলার উন্নয়নে নতুন স্বপ্নের ডানা মেলছে লাল শাপলার বিকিবিল।

বিকিবিল যেকোনো পর্যটককে মায়ার ইন্দ্রজালে জড়িয়ে রাখে। এটি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের কাশতাল গ্রামের পাশে অবস্থিত।

বিকিবিলে আসা প্রকৃতি প্রেমী সোহানুর রহমান সোহাগ বলেন, টাংগুয়ার হাওর, শহীদ সিরাজলেক, শিমুল বাগান, বারিক টিলা ও যাদুকাটা নদের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা আসেন। সব সৌন্দর্যকে ছাপিয়ে এখন উঁকি দিচ্ছে লাল শাপলার এই বিকিবিল। লাল-সবুজে ভরা এমন প্রকৃতির রূপ যে কাউকে পাগল করে তোলে। এ যেন সবুজ পাহাড়ের সঙ্গে লাল শাপলার মিতালি। তবে বিকিবিলে লাল শাপলা ফুটে পরিপূর্ণ রূপে আসতে আরও ১০-১২দিন সময় লাগবে।

উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের কাশতাল এলাকায় অবস্থিত লাল শাপলার বিকিবিল হলহলিয়ার চক ও দিঘলবাঁক মৌজার প্রায় ১৪ দশমিক ৯৫ একর জায়গা নিয়ে গঠিত। কোনো রকম চাষাবাদ ছাড়াই যুগ যুগ ধরে প্রাকৃতিকভাবে বছরের ছয় মাস আপন মহিমায় ছড়িয়ে অযত্নে আর অবেহেলায় লাল শাপলার পাশাপাশি এখানে জন্মে সাদা ও বেগুনি রঙের শাপলা।

সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের পর লাল শাপলার বিকিবিল হাওর পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে ২০২০ সালের ১২ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন সাবেক সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ। পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য নতুন এলাকা হিসেবে একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে দেন। কিন্তু এরপর থেকে আর কোনো উন্নয়নমূলক কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম জানান, যুগ যুগ ধরে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া বিকিবিল বিলে লাল শাপলা ফুল ফুটছে। এখন কম ফুটছে, কিছু দিনেই মধ্যেই হাওরজুড়েই ফুটতে শুরু করবে।

আশরাফুল জানান, আগস্ট থেকে নভেম্বর-এই চার মাস মূলত লাল শাপলা থাকে। লাল শাপলার সৌন্দর্য দেখতে হলে সকালে আসতে হবে।

সমাজ সেবক মাসুক মিয়া বলেন, লাল শাপলার বিকিবিল পর্যটনের সম্ভবনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে এ উপজেলায়। এখানে আসাসহ পর্যটন স্পটের সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে আগত দর্শনার্থী, ভ্রমণ পিপাসু ও প্রকৃতিপ্রেমীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তাই সবার সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তিনি।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির বলেন, এই উপজেলায় বিভিন্ন পর্যটন স্পটে পর্যটকের আনাগোনা দিন দিন বাড়ছে। তাই পর্যটক ও দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় সব কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

কিভাবে যাবেন:

দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের আব্দুর জহুর সেতু। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, লেগুনা, মটরসাইকেল দিয়ে তাহিরপুর উপজেলা (সিএনজি, লেগুনা, মটরসাইকেলে জনপ্রতি ভাড়া ১০০টাকা)। অথবা বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা বাজার সেতু পার হয়ে মিয়ারচর নদীর খেয়া ঘাট (সিএনজি অটোরিকশা, লেগুনা, মটরসাইকেলে জনপ্রতি ভাড়া ৮০ টাকা)।

এরপর নদীপার হয়ে বাদাঘাট ইউনিয়নের বাদাঘাট বাজার। বাজার থেকে এক কিলোমিটার দূরে বিকিবিল। অথবা সুনামগঞ্জ জেলা শহরের আব্দুর জহুর সেতু থেকে বিকিবিলে মটরসাইকেলে জনপ্রতি ১২০ টাকা।

(ঢাকাটাইমস/২৩সেপ্টেম্বর/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :