সাতক্ষীরায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা: অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৪:৫১

সাতক্ষীরার দেবহাটায় দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া পূর্ণিমা দাসকে (১৬) বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার একমাত্র আসামি পার্থ মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কাথন্ডা সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতে পালানোর প্রস্তুতিকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে শুক্রবার রাতে নিহত পূর্ণিমা দাসের বাবা টিকেট গ্রামের শান্তি দাস বাদী হয়ে তার মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মোবাইলের মাধ্যমে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় কথিত প্রেমিক একই এলাকার শিবপদ মণ্ডলের ছেলে ডায়াগনস্টিক কর্মচারী পার্থ মণ্ডলকে একমাত্র আসামি করে দেবহাটা থানায় মামলাটি করেন।

এদিকে হত্যার পর থেকে পার্থ মণ্ডলকে গ্রেপ্তারে দেবহাটাসহ সাতক্ষীরা শহরের সম্ভাব্য একাধিক স্থানে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে আসছিল দেবহাটা থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), র‌্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)’র একাধিক অভিযানিক দল।

চাঞ্চল্যকর এ মামলার একমাত্র আসামি পার্থ মণ্ডলকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক (তদন্ত) ফরিদ আহমেদ বলেন, স্কুলছাত্রী পূর্ণিমা দাসকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মামলার পর থেকে একমাত্র আসামি পূর্ণিমার প্রেমিক পার্থ মণ্ডলকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে সম্ভাব্য একাধিক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। সর্বশেষ মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে পলাতক পার্থ মণ্ডলের অবস্থান শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শনিবার সন্ধ্যায় ভারতে পালানো প্রস্তুতিকালে সদরের কাথন্ডা সীমান্ত থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়ে রাতভর নিখোঁজ ছিল উপজেলার টিকেট গ্রামের শান্তি দাসের মেয়ে গাভা একেএম আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী পূর্ণিমা দাস। পরদিন শুক্রবার সকালে একই এলাকার তারক মণ্ডলের জনমানবহীন পরিত্যক্ত বাড়ির সবজি বাগান থেকে পূর্ণিমা দাসের বিবস্ত্র লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ থেকে কিছুটা দূরে পড়ে থাকা ভিকটিমের বই-খাতা, জুতা ও গোপনে ব্যবহার করা পূর্ণিমার একটি মোবাইল ফোনও আলামত হিসেবে উদ্ধার করে পুলিশ। যার ক্ষুদে বার্তায় দেখা যায়, নিখোঁজের আগ মুহূর্তে পূর্ণিমাকে ওই পরিত্যক্ত বাড়ির কাছাকাছি ডেকে এসএমএস করেছিল তার প্রেমিক পার্থ মণ্ডল। পরিবারের সদস্যদের নজর এড়িয়ে পূর্ণিমা দাস ওই মোবাইল ফোনটি গোপনে ব্যবহার এবং পার্থ মণ্ডল ও সে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে উদ্ধার মোবাইলের কললিস্ট অ্যানালাইসিসসহ তাতে পাওয়া প্রেমিক পার্থ মণ্ডলের নাম্বার ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার প্রাথমিক তদন্তসহ তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। লাশটি উদ্ধারকালে পূর্ণিমা দাসের মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে যৌন নির্যাতন এবং গলায় শ্বাসরোধের সুষ্পষ্ট চিহ্নও দেখা যায়। যা থেকে পূর্ণিমাকে ধর্ষণের একপর্যায়ে রক্তপাত শুরু কিংবা সে চিৎকার চেচামেচি করলে পার্থ মণ্ডল শ্বাসরোধ করে পূর্ণিমাকে হত্যা করে ফেলে রেখে আত্মগোপন করে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করে পুলিশ। হত্যার পর প্রেমিক পার্থকে একমাত্র আসামি করে নিহতের বাবা মামলা করলে তাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নামে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

(ঢাকাটাইমস/২৬সেপ্টেম্বর/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :