বছর ঘুরতেই বেহাল সড়ক, জনদুর্ভোগ চরমে

নোয়াখালী প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৬:৩৪ | প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৫:২৩

নোয়াখালীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধিকাংশ সড়কই ভাঙাচোরা। সামান্য বৃষ্টিতে উপজেলার ভাঙা ও গর্ত থাকা সড়গুলোতে পানি জমাট বেঁধে মানুষের যাতায়াতে দুর্ভোগ বাড়ে। প্রতি অর্থ বছরে ১০০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার হলেও বছর ঘুরতে না ঘুরতে চলাচল অনুপোযোগী হয়ে পড়ছে সেই সড়ক। এতে সরকারের টাকা নষ্টতো হচ্ছে তার ওপর বাড়ছে জনগণের দুর্ভোগ। কর্তৃপক্ষ বলছে অতি বৃষ্টি ও অতিরিক্ত ওজনের গাড়ি চলাচলের কারণে সড়কগুলো স্থায়ী হচ্ছে না।

সর্বশেষ ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুই ভাগে সংস্কার করা হয়েছিল জেলার সদর-সুবর্ণচরের সংযোগ সড়কটি। সোনাপুর থেকে প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে সুবর্ণচরের পাশাপাশি হাতিয়ায় যাওয়ারও অন্যতম সড়ক একটি। ১৯ কিলোমিটারের এ সড়কটি সংস্কারে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৪কোটি টাকা। কিন্তু বর্তমানে এ সড়কের ৯০ শতাংশই খানাখন্দে ভরে গেছে।

বেশিরভাগ অংশে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্তের। এতে সড়কে যানবাহনগুলো প্রায় বিকল হচ্ছে, পাশাপাশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে হচ্ছে যাত্রীরা। অস্থায়ীভাবে বড় গর্তগুলোতে আস্ত ইট দিয়ে দুর্ভোগ লাগবের চেষ্টা করলেও স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সরকার বিভাগ বলছে সড়কটি বর্তমানে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ওই একই অর্থ বছরে সংস্কার হয়েছিল জেলা সদরের সাথে কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জের অন্যতম সংযোগ সড়কটি। মাইজদী বছিরার দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়া প্রায় ২০কিলোমিটারের এ সড়কটি সংস্কারে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৫ কোটি টাকা। বর্তমানে ওই সড়কটিরও একই দশা, একটু বৃষ্টিতে পানি জমে পুকুরের মতো হয়ে যায় সড়কটি। দুর্ভোগের শেষ নেই এ সড়কে চলাচলকারি যাত্রী সাধারণ ও যানবাহন চালকদের। নিন্মমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকি না থানায় অল্প সময়ে সড়কের বেহাল দশার কারণ। এ বছর গর্তগুলোতে আস্ত ইট পেলেছে এলজিইডি, ফলে সমস্যা আরও চরম হয়েছে। প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-খাট দুর্ঘটনা।

শুধু এ দুটি সড়ক নয়। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলা সংযোগ সড়কগুলোরই বেহাল দশা। উপজেলার আভ্যন্তরিণ বা গ্রামিণ সড়কগুলোর চিত্রতো আরও ভয়াবহ। সড়কে সৃষ্ট গর্তগুলোতে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমাট বাঁধছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে সড়কগুলো। সংষ্কারের পর বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সড়কগুলোর অবস্থা বেহাল হচ্ছে।

জেলা এলজিইডির তথ্য মতে, জেলায় গত ১২ বছরে নতুন সড়ক উন্নয়ন হয়েছে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার। সব মিলিয়ে বর্তমানে তাদের পাকা সড়ক রয়েছে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার। যার ৪৫ শতাংশের বেশি সড়ক চলাচল অনুপযোগী। যদি বাস্তব চিত্র ভিন্ন। কর্তৃপক্ষ বলছে, স্বল্প বরাদ্দের মধ্য দিয়েও সংস্কার করছে তারা। পর্যায়ক্রমে এসব সড়ক সংস্কার করা হবে। তবে সড়ক উন্নয়নে মানসম্মত নির্মাণ সামগ্রী ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি অভিজ্ঞ ঠিকাদারের মাধ্যমে সড়ক সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর তাগিদও দিয়েছেন বিশিষ্টজনরা।

কালামিয়ার-পোল মাইজদী সড়কের দুর্ঘটনার শিকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক সাহাব উদ্দিন জানান, রেললাইন থেকে কোন যাত্রী ছাড়া শুধু রিকশাটি নিয়ে তিনি আদর্শ স্কুলের সামনে আসতে ছিলেন। আদর্শ স্কুলের মোড়ের কাছাকাছি আসলে পানি জমে থাকা বড় একটি গর্তের মধ্যে পড়ে রিকশার সামনের অংশ ভেঙে যায়। রিকশার হ্যান্ডেলের চাপে আহত না হলেও পেটে ব্যাথা পেয়েছেন তিনি। শুধু তিনি নন প্রতিদিন এ সড়কটি দিয়ে যাওয়ার সময় কোন না কোন রিকশা চালক এরকম দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

বেসরকারি চাকরিজীবি রফিক উল্যা সুমন জানান, প্রতিদিন আদর্শস্কুলের সামনের সড়ক দিয়ে তাঁকে ৬বার আসা-যাওয়া করতে হয়। কখনও মোটরসাইকেল আবার কখনও অটোরিকশা যেতে হয়। এ দিয়ে চলতে গিয়ে ৩দিন অটোরিকশা বিকল হয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন তিনি। তাই সড়কটি দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সোনাপুর-সুবর্ণচর সড়কের সিএনজিচালিত অটোরিকশার সেলিম জানান, দিন দিন সড়কটির অবস্থা করুন হচ্ছে। আমাদের নতুন নতুন গাড়িগুলো স্বাভাবিকভাবে ১০ বছর চালাতে পারলেও এ সড়ক দিয়ে চলাচলের এক বছর পর গাড়ির বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কয়েকদিন পর পর সকেটজবার, স্ফিরিং ভেঙে যায়, এছাড়াও ভোগান্তির কারণে যাত্রীরা সিএনজিতে উঠতে রাজি হয় না।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইকরামুল হক বলেন, ভাঙাচোরা সড়কগুলোর তালিকা করে আমরা পর্যায়ক্রমে কাজ করার চেষ্টা করছি। বরাদ্দ কম হওয়ায় একসঙ্গে সবগুলো সড়কের কাজ করা সম্ভব হয় না। তবে ব্যবহার অনুপযোগী ও মানুষের বেশি ভোগান্তি হচ্ছে ওইসড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।

(ঢাকাটাইমস/১৭অক্টোবর/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :