যুবলীগ চেয়ারম্যানের ফোন নম্বর স্পুফকারী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২১, ১৯:০১ | প্রকাশিত : ১৯ অক্টোবর ২০২১, ১৭:৫৪

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের ফোন নম্বর স্পুফকারীকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবির সাইবার ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। তার নাম ফিরোজ খন্দকার। এসময় তার সহযোগী রাকিবুল ইসলামকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজীমনগর ইউনিয়ন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সাইবার ইনভেস্টিগেশন বিভাগের ইন্টারনেট রেফারেল টিমেরর লিডার সহকারী পুলিশ কমিশনার ধ্রুব জ্যোতির্ময় গোপ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাইবার পুলিশ জানায়, ফিরোজ খন্দকার গ্রেপ্তারের আগে হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষাধিক টাকা। তিনি ঢাকার খিলখাঁও থেকে কেরাণীগঞ্জের মধ্যে বিভিন্ন বুথ থেকে এ প্রতারণার টাকা তুলেন। সন্দেহ এড়াতে এ প্রতারণা টাকা উত্তোলনের সময় মোটরসাইকেল চড়ে বিভিন্ন বুথ থেকে অল্প অল্প করে টাকা তুলেন।

তবে শেষ রেহাই পাননি ফিরোজ খন্দকার। অভিযোগ পেয়ে পুলিশের সিটি সাইবার ইন্টারনেট রেফারেল টিম খিলখাঁও থেকে কেরাণীগঞ্জের যেসব বুথ থেকে ফিরোজ খন্দকার টাকা তুলেন তার সব গুলোর ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে।

প্রযুক্তির সাহায্যে নানান তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ফিরোজ খন্দকারকে সোমবার রাত ১ টা ৫ মিনিটে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা আজীমনগর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শেখ ফজলে শামস পরশের মামলায় গ্রেপ্তার হলেও তার নামে আরো তিনটি প্রতারণার মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গোয়েন্দারা জানান, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের ফোন নম্বর স্পুফ করে সংগঠনের বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন এই ফিরোজ। এ কাজে ফিরোজ খন্দকার প্রথমে ইন্টারনেট থেকে যুবলীগের বিভিন্ন কমিটির গুরুপত্ব পূর্ণ নেতাদের ফোন নম্বর সংগ্রহ করেন। তিনি সে ফোন নম্বরে ডায়ালার অ্যাপ এর মাধ্যমে নম্বর স্পুফ করতেন। সিটি সাইবারের ইন্টারনেট রেফারেল টিম প্রযুক্তি ও বুথের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে ফিরোজ খন্দকারকে সনাক্ত করে।

ফিরোজ খন্দকার এসব ফোন কলে সরাসরি টাকা চাইতেন না। বিভিন্ন কর্মসূচির কথা বলে ফিরোজ পরশ সাহেব পরিচয়ে টাকা দাবি করে বিকাশ-রকেট নম্বর দিয়ে টাকা চাইতেন। সংগঠনের চেয়ারম্যানের ফোন নম্বর পেয়ে নেতারা উৎফুল্ল মনে বিকাশে টাকা পাঠাতেন। আর প্রতারক রাজধানীর বুথগুলো থেকে এ টাকা তুলে নিতেন। রাজধানীর খিলখাঁও থেকে শুরু করে কেরাণীগঞ্জ এলকার মধ্যে বিভিন্ন বুথে মোটরসাইকেল চড়ে এ টাকা উত্তোলন করতেন।

তবে এসব ঘটনা এক সময় যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের কাছে চলে যায়। তিনি বাধ্য হয়ে তার ফোন নম্বরটি বন্ধ করে দেন। তিনি বুঝতে পারেন তার নম্বরটি ক্লোন করে অর্থ আত্মসাৎ করছে একটি চক্র। তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে এ সংক্রান্ত একটি সতর্কবার্তামূলক পোস্ট করেন।

যুবলীগ চেয়ারম্যানের হয়ে ১৫ অক্টোবর রাজধানীর বনানী থানায় ওই প্রতারকের বিরুদ্ধে মামলা করেন ব্যারিস্টার রানা তাজউদ্দিন খান।

মামলাটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৪ ও ২৬ ধারায় করা হয়েছে। এতে ‘মোবাইল ফোন নম্বর ক্লোনিং করে টাকা দাবির অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার পরপরই সাইবার সিটি তদন্ত নামেন। তদন্তের এক পর্যায়ে ফিরোজ খন্দকারকে সনাক্ত করে সাইবার সিটি।

সূত্র জানায়, পরশের নাম ব্যবহার করে তার ব্যবহৃত রবি নম্বরটি ক্লোন করে গত ৯ অক্টোবর প্রথম ফোন করা হয় গাইবান্ধা যুবলীগের সভাপতি সরদার মো. শাহীন হাসান লোটনের গ্রামীণ ফোনের নম্বরে। সংগঠনের জন্য চাঁদা হিসেবে তাকে একটি রকেট নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হয়। একই দিন নেত্রকোনা যুবলীগের আহ্বায়ক জনি ও সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের চপলকে ফোন করে বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হয়।

১০ অক্টোবর মুশফিকুল ইউনুস জায়গীরদার নামে এক ব্যক্তি এবং পাবনা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সনি বিশ্বাসকে ফোন করে বিকাশে টাকা চাওয়া হয়। এছাড়াও গত কয়েকদিনে একই পরিচয়ে দেশের কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ফোন করে টাকা দাবি করে প্রতারক চক্রটি।

সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে নিজের মোবাইল ফোনটি বন্ধ রাখেন পরশ। তবে শনিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে বিষয়টি খোলাসা করেন তিনি। শেখ পরশ বলেন, ‘সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি। যুবলীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীসহ সকলকে এই মর্মে সতর্ক করা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সম্মানিত চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের মোবাইল নম্বর ক্লোন করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে ফোন করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টাসহ নানা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে একটি প্রতারক চক্র। অনুগ্রহপূর্বক কেউ প্রতারক চক্রের ফাঁদে পা দেবেন না।’

ঢাকাটাইমস/১৯অক্টোবর/এসএস/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :