হাজীগঞ্জে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষের ঘটনায় আরও একজনের মৃত্যু

চাঁদপুর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৯ অক্টোবর ২০২১, ১৯:৩০

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে পবিত্র কোরআন অবমাননার প্রতিবাদে পুলিশের সঙ্গে জনতার সংঘর্ষের ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হলো।

নিহতের নাম সাগর (২৫) জানিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুনুর রশীদ। মঙ্গলবার বিকালে আহত সাগর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

সাগরের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের খন্দকার এলাকার বাসিন্দা। তিনি থাকতেন হাজীগঞ্জ বাজারের ডিগ্রি কলেজ রোডসংলগ্ন এলাকায়। সাগর পেশায় ট্রাকচালক। সাগরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাজীগঞ্জ থানার ওসি মো. হারুনুর রশীদ।

ওসি জানান, মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাগরের তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ৬ মামলায় প্রায় তিন হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ আটক করেছে ১৫ জনকে।

সাগরের বাবা মো. মোবারক হোসেন জানান, গত ১৪ অক্টোবর রাতে হাজীগঞ্জ বাজারে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় তার ছেলে গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে মঙ্গলবার সাগর মারা গেছে।

সাগরের মা আমেনা বেগম বলেন, পাঁচ সন্তানের মধ্যে সাগর সবার ছোট। সাগর হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল ইউনিয়নের নোয়াদ্দা সুমন মাঝির মেয়েকে বিয়ে করেন। তার এক কন্যাসন্তান রয়েছে। এর আগে এ ঘটনায় নিহতরা হলেন হাজীগঞ্জ উপজেলার রায়চোঁ গ্রামের আল আমিন (১৮), নির্মাণ শ্রমিক চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাবলু (২৮) ও রান্ধুনীমুড়া গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে হৃদয় (১৫) ও পৌরসভাধীন রান্ধুনীমুড়া গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে শামীম (১৯)।

গত ১৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়া (ত্রিনয়নী), দি বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠ মন্দির, পৌর মহাশ্মশান, জমিদার বাড়িসহ কয়েকটি পূজা মণ্ডপে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ সময় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন অবমাননা নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে একাধিক মন্দিরে হামলা চালায় কিছু ব্যক্তি। এ সময় প্রতিবাদী বিক্ষুব্ধ সাধারণ জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিন যুবক ও এক কিশোর প্রাণ হারান। এর মধ্যে তিনজন বুধবার রাতে ও একজন বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

এ ঘটনার আলোকে হাজীগঞ্জ উপজেলা উপজেলা প্রশাসন হাজীগঞ্জ ও তার আশপাশের এলাকায় পরিস্থিতি অনুকূলে না আসা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। হাজীগঞ্জে এখনও ব্যাপক চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার চট্রগ্রামের বিভাগীয় পুলিশ কমিশনার মো. আবুল কালাম সিদ্দিকী হাজীগঞ্জে এসে বিভিন্ন স্থানে পরিদর্শন করেন।

(ঢাকাটাইমস/১৯অক্টোবর/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :