বাসায় নিয়ে টাকার বিনিময়ে যৌনকর্ম শেষে গলাটিপে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২১, ২১:০২ | প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর ২০২১, ১৫:৩২

এক হাজার টাকা চুক্তিতে এক নারীকে ভাড়া করার পর সারারাত না থাকায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে খুন করেন আব্দুল জব্বার। পেশায় গাড়ির গ্যারেজের এ কর্মী মরদেহটি কার্টনভর্তি করে ফেলে রাখেন রাজধানীর ভাটারা এলাকার একটি রাস্তায়। ওই নারীর মুখ ঝলসে দেওয়া হয়েছিল। পরের দিন (১০ অক্টোবর) মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে এলিট ফোর্স র‌্যাব। মঙ্গলবার গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে ঘটনার মূলহোতা আব্দুল জব্বারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার দুপুরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ কমিশনার মো. মশিউর রহমান ঢাকাটাইমসকে এসব তথ্য জানান।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর বিকালে ভাটারা থানার ছোলমাইদ ঢালী বাড়ি এলাকায় এক নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিক মরদেহের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় প্রযুক্তির সহায়তায় পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ। জানা যায় নিহতের নাম শিপন আক্তার। এই ঘটনার পর ডিবি পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ও অপরাধ সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করে। পরবর্তীতে অপরাধীদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এরপরই গতকাল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার জব্বারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডিবি জানতে পেরেছে, তিনি (জব্বার) গাড়ির গ্যারেজের কর্মী। আর ওই নারী একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। মাঝে মধ্যে টাকার বিনিময়ে ওই নারী পরিচিতদের সঙ্গে একান্তে সময় কাটাতেন। ৮ অক্টোবর দুপুরে মোবাইলে কথা বলে জব্বারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য তিনি বের হন। তাকে নিয়ে যমুনা ফিউচার পার্ক এবং ফুটপাতের ফুচকার দোকানে ঘোরাঘুরি করেন জব্বার। সন্ধ্যার পরে জব্বার ওই নারীকে নিয়ে তার ছোলমাইদ ঢালীবাড়ীর ভাড়া বাসায় যান। এর আগেই নিজের স্ত্রী-সন্তানকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে ওই নারী যৌনকর্ম শেষে টাকা দাবি করেন এবং চলে যেতে চান। কিন্তু জব্বার ভিকটিমকে সারা রাতের জন্য রাখতে চান। এটা শুনে ক্ষিপ্ত হন ওই নারী। হুমকি দেন তার (জব্বারের) সব কর্মকাণ্ড ফাঁস করে দেবেন এবং চিৎকার চেঁচামেচি করেন। জব্বার নিজের আত্মসম্মান রক্ষার ভয়ে ওই নারীকে ঘটনার দিন রাত ১০ টার দিকে গলাটিপে হত্যা করেন।

ডিবি আরও জানায়, জব্বার ইয়াবা আসক্ত ছিলেন। খুনের পর ভিকটিমের মোবাইল একহাজার টাকায় বিক্রি করে তিনটি ইয়াবা কেনেন। এসময় তার বন্ধু হীরাকে বাসায় আনেন। তারা দুজন একসঙ্গে ইয়াবা সেবন করে এবং মরদেহ গুমের পরিকল্পনা করেন। এসময় লাশটি প্রথমে একটি কার্টনের মধ্যে রেখে পরবর্তীতে ভাঙারির দোকান থেকে আনা বড় বস্তায় ভরেন। পরে রাত তিনটার দিকে জব্বার ও হীরা মরদেহ মাথায় নিয়ে তিনতলা থেকে নামাযন। পরবর্তীতে একশ টাকায় রিকশা ভাড়া করে লাশটিকে রাস্তায় ফেলে দেযন।

গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, অভিযুক্তের স্বীকারোক্তিতে চুরি হওয়া মোবাইল, ভিকটিমের ফেলে দেওয়া বোরকা এবং স্যান্ডেলসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। জব্বার আদালতে ঘটনার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

উপ কমিশনার মো. মশিউর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, মোবাইল ফোন এবং ফেসবুকের অত্যাধিক ব্যবহার নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যেও ব্যাপক বিকৃত আকাঙ্ক্ষার জন্ম দেয়। নীতি-নৈতিকতা হারিয়ে, পারিবারিক মূল্যবোধের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রায়ই তারা যৌনতায় অন্ধ হয়ে যায়। তার কারণে কখনও আত্মহনন, কখনো নির্মম খুনের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে।

(ঢাকাটাইমস/২০অক্টোবর/এএ/এসএস/কেআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :