ঋণের টাকা পরিশোধ করতে শিশু অপহরণ!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১৮:২৩

ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে তিন বছরের শিশু অপহরণের দুই দিন পর সিরাজগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৪। এ ঘটনায় অপহরণকারীকে আটক করেছে র‌্যাব। তার নাম রানা আহমেদ বাকি।

রবিবার র‌্যাব-৪ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২১ অক্টোবর একটি অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে, দুপুর একটার দিকে আশুলিয়া থানার পল্লীবিদ্যুৎ, কবরস্থান রোড এলাকা থেকে সাড়ে তিন বছরের শিশু আফিয়া অপহৃত হয়। ওই ঘটনার দিনই অপহরকারী মোবাইল ফোনে শিশুটির বাবা-মার কাছে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অপহরণকারী বাকি ওই টাকা না দিলে অপহৃত শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

র‌্যাব জানায়, এমন অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ এর একটি গোয়েন্দা দল অপহরণকারীর অবস্থানের ছায়া তদন্ত শুরু করে। আভিযানিক দল প্রথমে অপহরকারীর নিজ এলাকা পাবনা জেলা এবং শ্বশুর বাড়ি নাটোরের বড়াইগ্রাম থানা এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের তথ্য সংগ্রহ করে সবশেষে র‌্যাবের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, অপহরণকারী সিরাজগঞ্জ জেলার শাহাজাদপুর থানায় দুর্গম চরাঞ্চলে অবস্থান করছে। এরপর র‌্যাব-৪ এর একটি দল গত শুক্রবার সকাল নয়টা থেকে রবিবার ভোর ছয়টা পর্যন্ত সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালায়। অভিযানে শাহজাদপুর থানার ১০ নম্বর কৈজুরি ইউপি ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁধের সামনে সুইসগেট এলাকার একটি বাসা থেকে অপহৃত শিশু আফিয়াকে উদ্ধার করে অপহরণকারী মো. রানা আহমেদ বাকিকে আটক করা হয়।

আটক বাকির বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, আটক বাকিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি দুই বছর ধরে আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ কবরস্থান রোড এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছেন। তিনি পেশায় একজন রিকশা চালক। তিনি বেশিরভাগ সময় রাতে রিকশা চালাতেন, দিনে বাসায় থাকতেন। মাঝে মাঝে স্থানীয় একটি কয়েল ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন। তিনি বাসা ভাড়া নেওয়ার সময় ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করেন। বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলায় এবং নানি বাড়ি ধামরাই থানায় বলে জানান।

র‌্যাব জানায়, বাকি নিজেকে অবিবাহিত বলে পরিচয় দিতেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তিনি বিবাহিত এবং দুই সন্তানের বাবা। তার বড় মেয়ের বয়স নয় বছর এবং ছোট ছেলের বয়স ১০ মাস। তার বাড়ি পাবনা জেলার সদর থানায় ভাউডাঙ্গা গ্রামে এবং শ্বশুর বাড়ি নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম থানায়।

আটক বাকির বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, অপহৃত শিশুটির বাবা আবুল কালাম আজাদ ও মা সোনিয়া বেগম দুজনই গার্মেন্টসে চাকরি করার কারণে মেয়েকে দীর্ঘ দিনের পরিচিত আনোয়ারা নামে সম্পর্কে এক বয়বৃদ্ধ নানির বাসায় রেখে অফিসে যেতেন। এই নানির পাশের রুমে অপহরণকারী রানা এক হাজার টাকা ভাড়ায় বসবাস করতেন। সেই সুবাদে প্রায় সময়ই শিশুটি তার কাছে যাতায়াত করত। পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক অপহরণকারী রানা শিশু আফিয়াকে মাঝে মাঝে তাকে বিভিন্ন শিশুখাদ্য চকলেট, চিপস্ ও খেলনা কিনে দিয়ে সখ্যতা গড়ে তোলে। শিশু আফিয়া তাকে মামা বলে ডাকত। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের লক্ষে তিনি শিশুটিকে অপহরণের পরিকল্পনা করেন।

র‌্যাব জানায়, অপহরণকারী রানা আহমেদ ২০০৯ সালে জমি-জমা বিক্রি ও ঋণ করে দুবাই যান। কিন্তু সঠিক কাগজপত্র না থাকায় ২৩ দিন জেল খেটে জাকাত ভিসায় দেশে ফেরত আসেন। দেশে ফেরত আসার পর থেকে তিনি রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না। ঋণের তিন থেকে চার লাখ টাকা পরিশোধের জন্য তিনি এই অপহরণের পরিকল্পনা করেন বলে স্বীকার করেন।

পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক শিশুটির বাবা-মা দুজনেই বাসায় না থাকায় গত ২১ অক্টোবর দুপুর একটার দিকে শিশুটিকে অপহরণ করার উদ্দেশ্যে প্রথমে তাকে একটি চিপস্ কিনে দিয়ে পল্লীবিদ্যুৎ থেকে রিকশাযোগে বলিভদ্র বাজারে যান। সেখান থেকে শিশুটিকে গেঞ্জি ও সেন্ডেল কিনে দেন। পরবর্তী সময়ে বলিভদ্র থেকে বাস যোগে চন্দ্রা যান। চন্দ্রা বাসস্ট্যান্ড থেকে বাস করে তিনটার দিকে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। ওইদিন রাত সাড়ে নয়টার দিকে শাহজাদপুর থানার ১০ নম্বর কৈজুরি ইউপি ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁধের সুইসগেট এলাকায় তার এক বন্ধু রবিউলের বাড়িতে যান। তার বন্ধুকে শিশুটিকে তার নিজের মেয়ে বলে পরিচয় দেন। বন্ধুকে জানান, তার স্ত্রীর সাথে বনিবনা হচ্ছে না বিধায় কিছুদিন থেকে চলে যাবেন। এরপর আটক রানা আহম্মেদ বাকি আগেও আরও কোনো অপরাধের সাথে জড়িত কি না সে বিষয়ে স্থানীয় থানায় এবং এলাকায় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

(ঢাকাটাইমস/২৪অক্টোবর/এএ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :