৩৩ মাসে দুই হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক-অবরুদ্ধ

সৈয়দ ঋয়াদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২১, ১০:৫০ | প্রকাশিত : ০৩ নভেম্বর ২০২১, ০৯:২২

বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় আদালতের রায়ে গত ৩৩ মাসে দেশে ও দেশের বাইরে থাকা সোয়া দুই হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক এবং অবরুদ্ধ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের একটি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পৌনে তিন বছরে দুদক মোট ২ হাজার ২১ কোটি ৯ লাখ ২৬ হাজার ৫৩৫ টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করে। এর মধ্যে জমি, ফ্ল্যাট, বাড়ি, কমার্শিয়াল স্পেস ও গাড়িসহ মোট ৬২০ কোটি ৩৮ লাখ ৮ হাজার ৫৫৯ টাকার সম্পদ ক্রোক করে। আর এই সময়ে ক্রোক করে ৩৯৮.২৬৯ একর জমি।

এ ছাড়া আলোচ্য সময়ে দেশি-বিদেশি ২ হাজার ৪৬৪টি ব্যাংক হিসাব, সঞ্চয়পত্র, এফডিআর থেকে ১ হাজার ৪০০ কোটি ৭১ লাখ ১৭ হাজার ৯৭৬ টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ করে সংস্থাটি। সেখানে রয়েছে কানাডায় ১১টি, অস্ট্রেলিয়ায় ২৩টি, সিঙ্গাপুরে ৫টি ও মালয়েশিয়ায় ৫টি ব্যাংক হিসাব এবং দুবাইয়ে দুটি কোম্পানির শেয়ার।

দুদকের ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সংস্খাটির কাছে ক্রোক ও অবরুদ্ধকৃত যে সম্পদ রয়েছে সেগুলোর মালিকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের মামলা ছিল। এসব মামলায় আদালতের রায়ে অবৈধ এসব সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়।

ওই ৩৩ মাসে সংস্থাটি ৮২টি বাড়ি ও ভবন, ৬৬টি ফ্ল্যাট, ২১টি প্লট, ১১টি কমার্শিয়াল স্পেস ও ৫৩টি গাড়ি ক্রোক করে। এগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ৬২০ কোটি টাকা।

বছরভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, ২০১৯ সালে ক্রোক করা হয় মোট ২৩৪ কোটি ২৫ লাখ ৯৬ হাজার ৮৭ টাকার সম্পদ। এর মধ্যে রয়েছে ১১৫ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার ২১১ টাকার সম্পদ এবং দেশি-বিদেশি ব্যাংক থেকে ১১৮ কোটি টাকা ৫৯ লাখ ৬৫ হাজার ৮৭৬ টাকা। ক্রোক ও অবরুদ্ধ রয়েছে ১৪.৪৪ একর জমি, ১৭টি বাড়ি, ১৭টি ফ্ল্যাট, ৯টি প্লট, ৪টি কমার্শিয়াল স্পেস, ৯টি গাড়ি ও চারটি স্থাপনা। এ ছাড়া ২৮৮টি ব্যাংক হিসাব, ৬টি বিও হিসাব, ৩৬টি সঞ্চয়পত্র/বন্ড আমানত ও মালয়েশিয়ার ৫টি ব্যাংক হিসাব এবং দুবাইয়ে দুটি কোম্পানির শেয়ার অবরুদ্ধ করা হয় এই সময়ে।

২০২০ সালে দুদক ক্রোক ও অবরুদ্ধ করে ৩৩২ কোটি ১৬ লাখ ২৮ হাজার ২৪২ টাকার সম্পদ। ১৮০ কোটি ১১ লাখ ৯১ লাখ ৭৪৬ টাকার ক্রোকি সম্পদের মধ্যে রয়েছে ২৫৬.৩৪৫ একর জমি, ৩৪টি বাড়ি, ৩৫টি ফ্ল্যাট, ১১টি প্লট, ৭টি কমার্শিয়াল স্পেস ও ১৭টি গাড়ি। এ ছাড়া ১ হাজার ১১৮টি ব্যাংক হিসাব ও এফডিআর; সঞ্চয়পত্র, শেয়ার; পিস্তল ক্রোক করা হয়।

এই তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয় ২০২১ সালে। এ বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে মোট ১ হাজার ৪৯১ কোটি ৬৭ লাখ ২ হাজার ১৯৬ টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করে দুদক। ক্রোক করা হয় ৩২৪ কোটি ৫৯ লাখ ৮৬ হাজার ৫৯২ টাকার সম্পদ, যার মধ্যে ১২৭.৪৮৪০৫ একর জমি, ৩০টি বাড়ি, ১৪টি ফ্ল্যাট, ১টি প্লট ও ২৭টি গাড়ি রয়েছে। আর এই সময়ে দেশি-বিদেশি ১ হাজার ১১টি ব্যাংক হিসাব (কানাডায় ১১টি, অস্ট্রেরিয়ায় ২৩টি, সিঙ্গাপুরে ৫টি) থেকে ১ হাজার ১৬৭ কোটি ৭ লাখ ১৫ হাজার ৬০৪ টাকা অবরুদ্ধ করা হয়। এ ছাড়া ৭টি জাহাজ, তিনটি পিস্তল ও শর্টগান অবরুদ্ধ করা হয়।

আলোচ্য ৩৩ মাসে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাব, সঞ্চয়পত্র, বিও হিসাব, এফডিআর থেকে ১ হাজার ৪০০ কোটি ৭১ লাখ ১৭ হাজার ৯৭৬ টাকা অবরোধ করা হয়। এর মধ্যে ২০২১ সালে ৯১৬টি ব্যাংক হিসাব, ৫৬টি সঞ্চয়পত্র ও বন্ড থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৬৭ কোটি ৭ লাখ ১৫ হাজার ৬০৪ টাকা অবরোধ করা হয়।

দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠান দুদকের প্রতিবেদনটি সম্পর্কে জানতে দুদক সচিব আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

(ঢাকাটাইমস/৩নভেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :