‘ওমিক্রন’ নিয়ে দেশে দেশে সতর্কতা

ঢাকাটাইমস ডেস্ক
| আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২১, ১১:৫৪ | প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর ২০২১, ১১:৩০

প্রায় দুই বছর ধরে মহামারি করোনাভাইরাসের থাবায় বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। এই সময়ে করোনার কয়েকটি ঢেউয়ের মুখোমুখি হয়েছে বিভিন্ন দেশ। এর মধ্যেই আফ্রিকায় ভাইরাসটির নতুন একটি ধরন শনাক্ত হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-ডব্লিউএইচও যার নাম দিয়েছে ‘ওমিক্রন’। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন এই ভ্যারিয়েন্টটি বেশ উদ্বেগজনক। ডব্লিউএইচওর এই বক্তব্যে নড়েচড়ে বসেছে বিভিন্ন দেশ। ‘ওমিক্রন’ নিয়ে জারি করা হয়েছে নতুন সতর্কতা।

সংক্রমণ রোধে আফ্রিকান সাত দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধের পক্ষে ইউরোপীয় দেশগুলো। সামাজিক যোগাযোগ কমাতে ও সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সন্ধ্যার মধ্যে বার বন্ধ এবং তিন সপ্তাহের জন্য নাইটক্লাবগুলো সম্পূর্ণ বন্ধের নতুন নিয়ম করছে বেলজিয়াম।

ইউরোপ-আমেরিকার মতো সাতটি আফ্রিকান দেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, মরক্কো, মিসর ও ইরান।

অস্ট্রেলিয়া নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার নয়টি দেশে ওপর। দেশগুলো হলো দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, বতসোয়ানা, লেসোথো, এসওয়াতিনি, সেশেলস, মালাউই ও মোজাম্বিক।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন ভেরিয়েন্ট নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। ভারতও কয়েকটি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে।

এদিকে ওমিক্রন নিয়ে বাংলাদেশেও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। ভ্যারিয়েন্টটি শনাক্ত হওয়া দেশগুলো ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তবে সংক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন দেশের দেওয়া আফ্রিকানদের ভ্রমণ নিষেধজ্ঞাকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জো ফাহলা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, নয়া ভ্যারিয়েন্টের ভাবগতিক বুঝতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। তবে বিবৃতিতে তারা বলেছে, এই ভ্যারিয়েন্টে বিপজ্জনক মিউটেশন ঘটেছে। বস্তুত সেই কারণেই চিহ্নিত হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকির সর্বোচ্চ ধাপে রাখা হলো করোনার এই নয়া স্ট্রেনকে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম চিহ্নিত হয়েছিল এই প্রজাতির ভাইরাস। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, তাতে ৫০টি মিউটেশন (জিনগত পরিবর্তন) ইতিমধ্যেই ঘটে গিয়েছে, যার মধ্যে ৩০টিরও বেশি হয়েছে শুধু স্পাইক প্রোটিনে। নতুন এই প্রজাতির করোনাভাইরাস যাদের আক্রমণ করেছে, তাদের শরীরে ভাইরাসের পরিমাণ বা ‘ভাইরাল লোড’ খুব বেশি হয়েছে।

নতুন প্রজাতিটির উৎস নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, দক্ষিণ আফ্রিকার কোনো এইচআইভি আক্রান্তের শরীরই সম্ভবত এই ভ্যারিয়েন্টের উৎস। অতীতে করোনার বিটা ভ্যারিয়েন্টও এক এইচআইভি রোগীর শরীরে প্রথম পাওয়া গিয়েছিল।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বুধবার যত জন সংক্রমিত হয়েছে, তাদের ৯০ শতাংশের শরীরেই ওমিক্রন স্ট্রেনের ভাইরাস মিলেছে। নতুন এই প্রজাতির করোনা সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে জোহানেসবার্গে। সেখানকার সংক্রমিতদের মধ্যে অধিকাংশই স্কুল-কলেজের পড়ুয়া। ফলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, নয়া প্রজাতির ভাইরাসের শিকার মূলত হচ্ছেন অল্পবয়সীরা।

(ঢাকাটাইমস/২৭নভেম্বর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :