একটি অমানবিক ভোটকেন্দ্র!

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা
| আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১২:১৭ | প্রকাশিত : ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১১:৫৮

রবিবার পাবনার ঈশ্বরদী, চাটমোহর, সাঁথিয়া উপজেলার ২৬টি ইউনিয়ন ও বেড়া পৌরসভার ভোটগ্রহণ চলছে। এর মধ্যে চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের ব্রিগুয়াকড়া মক্তব ভোটকেন্দ্রটিকে অমানবিক কেন্দ্র বলে আখ্যায়িত করেছেন সাধারণ ভোটার, প্রার্থী, এজেন্ট, নির্বাচন পরিচালনাকারীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

সকাল সোয়া ৯টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই ভোটকেন্দ্রে নারী-পুরুষের উপচেপড়া ভিড়। একটি মাত্র কক্ষে রয়েছে নারী-পুরুষের আলাদা আলাদা গোপন বুথ, ভোটের সরঞ্জামসহ নির্বাচন পরিচালনাকারী সদস্যদের কর্মকাণ্ড এবং প্রিসাইডিং অফিসারের কার্যালয়। প্রিসাইডিং অফিসার চাটমোহর সরকারি কলেজের প্রভাষক তারিকুল ইসলাম ঢাকা টাইমসকে বলেন, কীভাবে এটি কেন্দ্র করা হয়েছে বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়। এত ছোট্ট একটি মাত্র কক্ষে কীভাবে সম্ভব নারী-পুরুষের ভোট নেওয়া।

এই কর্মকর্তা বলেন, জায়গা সংকুলান না হওয়ায় প্রার্থীদের এজেন্টদের একজন করে ভেতরে রাখা হয়েছে। বাকিদের বারান্দায় বেঞ্চ পেতে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এই কেন্দ্রে নারী ভোটার ৪৯৩ জন আর পুরুষ ভোটার ৪৭৫ জন।

আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত স্টাইকিং ফোর্স প্রধান পাবনা সদর থানার ওসি অপারেশন মনিরুজ্জামান ঢাকা টাইমসকে বলেন, আমি এই কেন্দ্রে আসার পর থেকে আমার কাছে মনে হয়েছে চরম অমানবিক ভোটকেন্দ্র এটি। একটি রুমের মধ্যে ঠাসাঠাসি করে ভোট নেওয়া হচ্ছে। তিনি পরবর্তী নির্বাচনে এই কেন্দ্র পরিবর্তনের অনুরোধ জানান ইসির কাছে।

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আমেমা খাতুন, জমেলা, শায়লা, লাবণী, কামিনী, জেসমিনসহ অনেক নারী ভোটার বলেন, না আছে বড় মাঠ, না আছে জায়গা। ছোট্ট ঘরে কীভাবে ভোট নেয় এটা বুঝে আসে না।

পুরুষ ভোটার আমজাদ, রাজ্জাক, সোলেমান, ফজলু, জহুরুল, শহিদসহ কয়েকজন বলেন, বেশ কয়েকবার আমরা এই কেন্দ্রে ভোট দিই। কিন্তু এটা ভোটকেন্দ্র হতে পারে না। তারা বলেন, এখনো করোনাভাইরাসের প্রকোপ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সামাজিক দূরত্বের কথা বলা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি আপনারা দেখে যান।

বারান্দায় বসা নৌকা, আনারস, হাতপাখাসহ কয়েকজন মেম্বার প্রার্থীর এজেন্ট জানান, কক্ষে জায়গা নেই এজন্য তাদের বারান্দায় বসতে দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা রিটার্নিং অফিসার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মগরেব আলী ঢাকা টাইমসকে বলেন, আমি নির্বাচনে দুই ইউনিয়নের দায়িত্ব পেয়েছি। কক্ষ বা ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ আমার দায়িত্বে নয়। এ বিষয়ে জানতে হলে নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, নীতিমালায় আছে পুরোনো ভোটকেন্দ্রগুলো বহাল রাখতে হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানলেও আশপাশে কোনো স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসা না থাকায় এটা কেন্দ্র হিসেবে চলে আসছে। আমরাও বুঝি একটি কক্ষে তিনটি বুথ। কিন্তু কিছু করার নেই।

(ঢাকাটাইমস/১১নভেম্বর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :