ফটিকছড়িতে এশিয়ার বৃহত্তম রাবার বাগান

এম ওমর ফারুক আজাদ, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)
 | প্রকাশিত : ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:০৭

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা আয়তনে প্রায় একটি জেলার সমান। যেখানে ফেনী জেলার আয়তন ৯২৭ বর্গ কিলোমিটার, আর শুধু ফটিকছড়ি উপজেলার আয়তন ৭৭৩ বর্গ কিলোমিটার।

বিশাল এ উপজেলাটির খ্যাতি রয়েছে নানা কারণে। তার মধ্যে অন্যতম দাঁতমারা রাবার বাগান। এটি এশিয়ার সর্ববৃহৎ রাবার বাগান হিসেবে স্বীকৃত। এশিয়ার এই বৃহত্তম রাবার বাগানটি উপজেলার ২ নং দাঁতমারা ইউনিয়নের বৃহৎ অঞ্চলজুড়ে অবস্থানের ফলে এর নামকরণ করা হয়েছে দাঁতমারা রাবার বাগান হিসেবে।

জানা যায়, সর্বপ্রথম ১৯৬৮ সালে এখানে স্বল্প পরিসরে নার্সারি শুরু হয়। পরে ধীরে ধীরে এর আকার বাড়তে থাকে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এক অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে ১৯৭২ সালে বাগানটি বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তখন এর আয়তন ছিল ৪০১ একর এলাকা। বর্তমানে প্রায় ৫০০০ একর এলাকা দখল করে আছে ফটিকছড়ির দাঁতমারা রাবার বাগান। সারি সারি গাছ ও সবুজাভ আভা বাগানটিকে দিয়েছে অন্য রকম মুগ্ধতা। পাখির চোখে দেখলে মনে হবে যেন শিল্পীর তুলির আছড়ে আঁকা কোনো ক্যানভাস। এখানে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে দর্শনার্থীরা এসে থাকেন।

পর্যটকদের বাগান পরিদর্শনের সুবিধার জন্য দাঁতমারা চেয়ারম্যান জানে আলমের উদ্যোগে হেয়াকো বাজার থেকে বাগানের গভীরে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক করে দেয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে চেয়ারম্যান সড়ক হিসেবে নামকরণ করা হলেও যেটিকে পর্যটকরা নাম দিয়েছেন সেলফি রোড়। এ সড়কটি হোয়াকো-মীরসরাই ও হোয়াকো-রামগড় দুটি সড়ককে সংযুক্ত করেছে। সেলফি রোড় দিয়ে রাবার বাগানের যে মনোহরী সৌন্দয্য ফুটে উঠে তাতে আগত পর্যটকরা সেলফি তোলতে যেনো হুমড়ি খেয়ে পড়ে।

রাবার গাছ পরিবেশবান্ধব একটি বৃক্ষ। এটি পরিবেশকে শীতল রাখে। এর রয়েছে তাপমাত্রা ও কার্বনডাই অক্সাইড চুষণের অন্যান্য গাছের চেয়ে বেশি শক্তি। এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনের আশু বিপর্যয় ঠেকাতে রাবার গাছের রয়েছে বিরাট ভূমিকা। এর শেকড় বহুদূর বিস্তৃত ও মাটির গভীরে থাকার কারণে মাটি আকড়ে ধরে রাখে । ফলে পাহাড় ধস থেকে রক্ষা পায় ও জীব বৈচিত্রের ভারসাম্য রক্ষা করে। একটা রাবার গাছের গড় আয়ু হয়ে থাকে ৩২ বছর। এরই মধ্যে রোপনের ৭ বছর পর থেকে একটি গাছ রাবার উৎপাদন উপযোগী হয়ে থাকে। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার একর এলাকায় পরিপক্ব রাবার গাছ রয়েছে ২,১৯,৩৪৯ টি, চারাগাছ রয়েছে ১,৫৫,০৫৩টি। আর কাটার উপযোগী ও বয়স্ক গাছের সংখ্যা ৬১,৪৭২টি। এছাড়াও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বিরাট ভূমিকা রাখছে এই বনজসম্পদ।

২০২০-২১ বছরে দাঁতমারা রাবারবাগান থেকে মোট রাবার উৎপাদন হয়েছে ৬১২ মেট্রিক টন। করোনার মহামারি ও প্রাকৃতিক কারণে যা বিগত বছরের চেয়ে কম বলে জানিয়েছেন দাঁতমারা রাবার বাগান এজিএম ইসমাইল হোসেন।

(ঢাকাটাইমস/৬ডিসেম্বর/এলএ/এসএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :