তৈমূরের পক্ষে প্রচারে জাপার স্থানীয় নেতারা

মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ
| আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২২, ২১:৩২ | প্রকাশিত : ০৮ জানুয়ারি ২০২২, ২০:৪৫

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে তত বাড়ছে উত্তাপ। রাজধানীর পাশের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকলেও দুটি বড় দল বিএনপি ও জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থী নেই। এই নির্বাচনে মোট প্রার্থী সাতজন। তবে নৌকা প্রতীকের ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের। কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপি তৈমূরকে পদ থেকে অব্যাহতি দিলেও দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা আছেন তার সঙ্গেই। এছাড়া জাতীয় পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে তৈমূরকে সমর্থন না দিলেও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার পক্ষে প্রচার চালাতে দেখা গেছে।

লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া তিনজন চেয়ারম্যান তৈমূর আলম খন্দকারের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। মিছিলের প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে তারা তৈমূরের পক্ষে ভোটও চেয়েছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের নিয়ে সম্প্রতি তৈমূরের বাসভবনে বৈঠকও হয়েছে। যদিও সেই বৈঠকে তারা দলের পরিচয় প্রকাশ করেনি।

শুক্রবার সকালে বন্দরের ২৫নং ওয়ার্ডে তৈমূর আলমের নির্বাচনী প্রচার ও গণসংযোগে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা অংশ নেন। তারা হলেন কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন, বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহমেদ ও মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন।

লাঙ্গল প্রতীকে নিয়ে বন্দরের মুছাপুর ইউনিয়নে নির্বাচিত হওয়া চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমি তৈমূর আলম খন্দকারকে ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন করেছি। এখানে আমার দল জাতীয় পার্টির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এবারের নির্বাচনে আমাদের কোনো প্রার্থী নেই। তৈমূর আলম খন্দকার স্বতন্ত্র প্রার্থী। তিনি একজন ভালো লোক ও বর্ষীয়ান নেতা। মানুষ পরিবর্তন চায়, সেই পরিবর্তনের লক্ষ্যেই তৈমূর আলমকে সমর্থন করছি।’

কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে মায়ের মতো দেখি। ২০১১ সালে আমার নেতা আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু আমি শামীম ওসমানের সেই নির্বাচনে অংশ না নিয়ে আইভীর নির্বাচন করেছিলাম। বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এমপি সেলিম ওসমানের সমর্থনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করি। সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও তাদের ভোটে আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত। কিন্তু আইভী আমার সেই জয় নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন।’

আইভীর ওই মন্তব্যের পর থেকেই তার প্রতি ক্ষোভ রয়েছে জানিয়ে দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে তৈমূর আলম খন্দকারকে সমর্থন করেছি। তিনি একজন বর্ষীয়ান নেতা ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ। আমার সমর্থনের সাথে জাতীয় পার্টির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং আমার সমর্থনের বিষয়ে এমপি সেলিম ওসমানও কিছু জানেন না।’

এ বিষয়ে জানতে একই উপজেলার বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহমেদের মুঠোফোন যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনি ফোন ধরেনি। তার এলাকায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

ইউপি নির্বাচনে এই তিন চেয়ারম্যানের সমর্থনে ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান। তাদের বিজয়ী করতে দলের নেতাকর্মীদের একত্রিত করেছিলেন তিনি। তার সমর্থন দেওয়া চেয়ারম্যানরা ইউপিতে নৌকার প্রার্থীদের হারিয়ে এবার সিটিতে নৌকার বিরোধিতা করছেন।

তবে তাদের প্রচারের সঙ্গে জাতীয় পার্টির কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন সাংসদ সেলিম ওসমান।তিনি মুঠোফোনে ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে জাতীয় পার্টি কোনো প্রার্থী দেয়নি। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব। জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থী এবারের নির্বাচনে অংশ নিলে নেতাকর্মীরা তাকেই সমর্থন দিতো। যারা তৈমূর আলম খন্দকারকে সমর্থন দিয়েছে, এটা যার যার ব্যক্তিগত বিষয়।’

সেলিম ওসমান বলেন, ‘এই নির্বাচনে আমার কাছে কোনো প্রার্থী সমর্থন চায়নি এবং এমন কোনো আবেদনও ছিল না। সমর্থনের বিষয়ে কেউ আমার কাছে আসেওনি, সমর্থনও চায়নি।’

নির্বাচনের প্রচারের শুরু দিকে আপনি জানিয়েছিলেন যেখানে নৌকা আছে সেখানে লাঙ্গল নেই। তাহলে তার দলের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আগের দুটি নির্বাচনেও নারায়ণগঞ্জে প্রার্থী দেয়নি জাতীয় পার্টি। প্রথম নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক ছিল দলটি। দ্বিতীয় নির্বাচনের সময় তারা সংসদে প্রধান বিরোধী দল, আবার সরকারেও অংশীদার। এবারও প্রধান বিরোধী দল, তবে এবার আর সরকারে নেই তারা।

এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে আইভী-তৈমূর ছাড়াও আরও পাঁচজন প্রার্থী আছেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাসুম বিল্লাহ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির রাশেদ ফেরদৌস, খেলাফত মজলিসের এ বি এম সিরাজুল মামুন ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের জসিম উদ্দিন ও স্বতন্ত্র থেকে কামরুল ইসলাম। তারাও সিটির গলিতে গলিতে প্রচার-প্রচারণায় দিনরাত পার করছেন।

আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। ২৭টি ওয়ার্ডের মোট ভোটার সংখ্যা পাঁচ লাখ ১৭ হাজার ৩৫৭ জন। এদের মধ্যে দুই লাখ ৫৯ হাজার ৮৩৯ জন পুরুষ ভোটার ও দুই লাখ ৫৭ হাজার ৫১৭ জন নারী ভোটার। চারজন আছেন ট্রান্সজেন্ডার। সব কেন্দ্রেই ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হবে।

(ঢাকাটাইমস/০৮জানুয়ারি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :