মন্ত্রী-এমপিদের সই জালিয়াতি করে প্রতারণা করতো চক্রটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৩:০১

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মুজমদারসহ দুই মন্ত্রী ও কয়েকজন এমপির সই জালিয়াতি করে ডিও লেটার বানিয়ে চাকরির প্রলোভন দেখাতো একটি চক্র। এরপর সরলমনা চাকরি প্রত্যাশী যুবকদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা করে অর্থ হাতিয়ে নিতো। অনেকদিন ধরে প্রতারণা করে আসা এমন একটি চক্রের তিন সদস্য ধরা পড়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) হাতে। এরপর তাদের কাছ থেকে প্রতারণার এমন তথ্য পায় সিআইডি।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিআইডির সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার তিনজনের ব্যাপারে বিস্তারিত জানানোর সময় এসব তথ্য তুলে ধরেন সিআইডি ঢাকা মেট্রোর অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ইমাম হোসেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- হারুন অর রশীদ, সেকেন্দার আলী এবং মাসুদ রানা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মিরাজুল ইসলামসহ চার ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগের সিআইডির একটি দল রবিবার রাজধানীর পল্টন মডেল থানা এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে জালিয়াতি একটি চক্রের মূলহোতা হারুন অর রশীদসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময়ে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের চারটি ভুয়া নিয়োগপত্র, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের তিনটি আবেদনপত্র, ভুক্তভোগীদের স্বাক্ষরিত ব্ল্যাঙ্ক চেক ছয়টি, ব্লাংক স্ট্যাম্প ২৪টি, মন্ত্রীদের ডিও লেটার এবং ছবি ও বায়োডাটা তৈরি করা হয়।

সিআইডি কর্মকর্তা ইমাম হোসেন বলেন, চাকরির প্রভোলন দেখিয়ে তারা ব্যক্তি প্রতি তিন থেকে পাঁচ লাখ অগ্রিম নিতো। আর ব্লাক চেক এবং ব্লাঙ্ক স্ট্যাম্পও রাখে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে। এই চক্রের সদস্যরা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপির সই জাল করে ডিও লেটার তৈরি করেন। এছাড়াও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সই জাল করে প্রতারণা করে জাল জালিয়াতি করতো। ছবি-বায়োডাটা নিয়ে কোনো একটি রেস্টুরেন্টে কৌশলে নিয়ে ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি করে টাকা হাতিয়ে নিতো।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, চক্রটির মূলহোতা হারুন অর রশীদের বাড়ি নওগাঁর বদলগাছি থানায়। তার বাবার নাম আবদুল জলিল। তিনি একটি হজ এজেন্সিতে কাজ করতেন। তখন থেকে তিনি এমন প্রতারণার কাজে জড়িয়ে পড়েন। মানুষের আস্থা অর্জনের জন্য তিনি মাঝেমাধ্যে জিপ গাড়ি নিয়ে এলাকায় গিয়ে মানুষকে টাকা দান করতেন। পরে তার লোকেরা এলাকায় কাজ করে।

গ্রেপ্তার সেকেন্দার আলী নওগাঁর মহাদেবপুর থানার দারশা গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে এবং মাসুদ রানা কুড়িগ্রাম জেলার ফুলঝুড়ি থানার কুচি চন্দ্র খানা গ্রামের আবদুল মতিনের ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির ঢাকা মেট্রো পূর্বের বিশেষ পুলিশ সুপার কানিজ ফাতেমা, অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আজাদ রহমান উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকাটাইমস/১৭জানুয়ারি/এএ/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :