বামনার ১৫ সড়কের বেহাল দশা

মোস্তফা কাদের, বরগুনা
| আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২২, ১৪:৫৮ | প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারি ২০২২, ১৪:৫০

সংস্কারের দুই বছরের মাথায় ফের চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বরগুনার বামনা উপজেলার ১৫টি সড়ক। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাভুক্ত সড়কগুলোতে অনুমতি ছাড়াই অবৈধ যানবাহনের অবাধ চলাচলের ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। নিষিদ্ধ এসব যানবাহন চলাচল বন্ধে ইতোমধ্যেই জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বরগুনা জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে এলাকাবাসী লিখিত আবেদন দিয়েছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বামনা উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের তথ্য মতে, এলজিইডির আওতায় ২০১৭ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১৫টি সড়ক সংস্কার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকরা জানান, সড়কগুলো সংস্কারের পর থেকেই ছয় চাকার মাহেন্দ্র ট্রাক্টর ইটভাটার জন্য মাটি, পাথর বালিসহ ইটভাটার মালামাল বহন করে সড়ক দিয়ে চলাচল শুরু করে। এ কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ধুলা জমে থাকায় পথ চলতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে পথচারীদের।

জেলা প্রশাসক ও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে দেয়া লিখিত দরখাস্তে এলাকাবাসীর অভিযোগ, এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এসব মাহেন্দ্রা ও টাফি ট্রাক্টরের মালিক। এদের অনেকেই ইটভাটার মালিক। স্থানীয়দের কাছ থেকে বিষখালী নদীর তীরবর্তী মাটি কেনা হয়। প্রতিদিন ট্রাক্টরে করে সে মাটি বহন করা হচ্ছে ইটভাটা ও বসতবাড়ির মালিকদের কাছে।

মাটি খননের জন্য ভারী যানবাহনে ভেকু (খননযন্ত্র) নদীর তীরে নিয়ে যেতে হয়। ধারণক্ষমতার বেশি মালামালবাহী ট্রাক্টরের চাকায় সড়ক দেবে ও ভেঙে অধিকাংশ সড়কই এখন বেহাল অবস্থা। ভারী মালামাল বহন করায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, খানাখন্দকে পরিণত হয়েছে সড়কের অধিকাংশ এলাকা।

এছাড়া ধুলা জমে থাকায় পথ চলতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে পথচারীদের। স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াজ হোসেন বলেন, বামনা হাসপাতাল থেকে সোনাখালী সড়ক, বামনা-বুকাবুনিয়া সড়ক, ডৌয়াতলা-বামনা সড়ক, দক্ষিণ রামনা থেকে খোলপটুয়া সড়কসহ উপজেলার এলজিইডির আওতাধীন ১৫টি সড়কই ভারী যানবাহন চলাচল করায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বামনা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব রফিক হাসানের বাড়ি পাশ থেকে মাটি কেটে বিক্রি করেন বামনা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বামনা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সাব্বির ফেরদৌস তালুকদার ও তার ছেলে ওমি তালুকদার। মাটি কেটে মাটিভর্তি ট্রাক বামনা উপজেলার সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শহীদ ইঞ্জিনিয়ারের বাড়ির রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। এতে রাস্তা ভেঙে বড় গর্ত ও খানাখন্দ হওয়ায় ধুলায় এ পথে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

রামনা এলাকার কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, কয়েক বছর আগে শহীদ ইঞ্জিনিয়ার মানুষের চলাচলের জন্য রাস্তাটি নির্মাণ করে দেন। এরপর থেকে নিয়মিতই মাটিভর্তি গাড়ি চলাচল করায় বর্তমানে রাস্তাটি নষ্ট হয়ে গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, আওয়ামী লীগ নেতা ফেরদৌস তালুকদার তাদের নিজস্ব জমির মাটি ভেকু দিয়ে কেটে বামনা উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করেন। এ নিয়ে এলাকাবাসী কিছু বলতে গেলে আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তাই আমরা ভয়ে কিছু বলি না।

বামনার কয়েকজন রিকশাচালকের সঙ্গে কথা হয়। আবদুল খালেক নামে একজন রিকশাচালক বলেন, ‘বামনা উপেজলার এমন কোনো সড়ক নেই যে সড়কে ছয় চাকার মাহেন্দ্রা, টাফিসহ ভারি যানবাহন চলাচল করে না। এরা বামনার অলিগলি দাপিয়ে বেড়ায়। যে কারণে এখন সবগুলো সড়কই চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আমরা এখন এসব রাস্তায় রিকশাও চালাতে পারছি না।

যোগাযোগ করা হলে বামনা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সাব্বির ফেরদৌস তালুকদার বলেন, ‘মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ সত্য নয়। এলাকার লোকজন ভেঙে যাওয়া নদী তীরের মাটি বিক্রি করে দেয়। আমি ওই মাটি কিনে ভাটা ও বসত বাড়িতে বিক্রি করি। সড়ক ছাড়া এসব মাটি পরিবহনেরতো কোনো সুযোগ নাই। সড়ক তো যানবাহন চলাচলের জন্যই নির্মাণ করা হয়েছে।’

এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা এলজিইডির আওতায় বামনায় ১৫টি সড়ক রয়েছে। প্রভাবশালীদের একটি সিন্ডিকেট আছে যারা ছয় চাকার মাটি বহনকারী গাড়ির মালিক। এরা মাটি লোড দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছে। তারাই রাস্তাগুলো নষ্ট করে ফেলছে। বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা আইন-শৃংখলা সভায় আলোচনা করব এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পদক্ষেপ নেব।’

বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিবেক সরকার বলেন, ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি লোড নেয়া এবং সড়কে চলাচল নিষিদ্ধ কিছু যানবাহন আমাদের উপজেলার সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এজন্য একদিকে সরকারের রাজস্ব খাতের অর্থ নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে এলাকাবাসীও চলাচলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ নিয়ে শিগগিরই আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বরগুনার জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বামনা থেকে এলাকাবাসীর একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আমি বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়েছি।’

(ঢাকাটাইমস/২২জানুয়ারি/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :