বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য, কিন্তু দলে উপেক্ষিত তানভীর সিদ্দিকী

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১০:২৪ | প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:০৪

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাগদল বিলুপ্ত করে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের সময়ে ছিলেন অন্যতম সদস্য। জিয়াউর রহমান ও আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু শেষ জীবনে এসে যেন বিএনপিতে থেকেও নেই চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী।

দলের স্থায়ী কমিটির সাবেক এই সদস্যের ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে গেছে নানা সময়। দল থেকে বহিষ্কারও হতে হয়েছিল। বাইরে থাকতে হয়েছে অনেক দিন। অবশ্য দলে আবার জায়গা পেয়েছেন। কিন্তু পদ-পদবি আর সেভাবে ফিরে পাননি তিনি। মূল্যায়নের বদলে অনেকটা উপেক্ষিত রয়ে গেছেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে রাজনীতি করা এই নেতা।

সবশেষ ২০২০ সালের জানুয়ারিতে গাজীপুর জেলা বিএনপির কমিটিতে সদস্য রাখা হয়েছে তানভীর সিদ্দিকীকে। তবে সেই কমিটিতে তিনি থেকেও না থাকার মতোই। এমনকি কমিটির অনেক সদস্যও জানেন না তিনি এই কমিটিতে আছেন।

কেমন আছেন তানভীর সিদ্দিকী?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলের পাশাপাশি পরিবার থেকেও অনেকটা বিচ্ছিন্ন আলোচিত এই রাজনীতিক। ২০১১ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে ছেলে ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকীর বিরূপ মন্তব্যের জেরে দল থেকে বহিষ্কার হতে হয়েছিল তাকে। ২০১৮ সালে দলে ফেরেন। সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিতও হন। এরপর থেকে কোথাও নেই আলোচিত এই বিএনপি নেতা। জীবনের পড়ন্ত বেলায় নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। থাকেন ঢাকায়, নিজ এলাকা গাজীপুরে খুব একটা যাওয়া হয় না।

যেভাবে বহিষ্কার ও দলে ফেরা

২০১১ সালে চৌধুরী তানভীর আহমেদকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার বড় ছেলে ইরাদ সিদ্দিকী ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। তিনি তখন সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাকে মনোনয়ন দেওয়ার বিনিময়ে পাঁচ কোটি টাকা চেয়েছেন। এরপর ইরাদ ও তার বাবা দল থেকে বহিষ্কৃত হন।

বহিষ্কারের পর ২০১১ সালের ডিসেম্বরে নিজের এলাকায় গিয়ে তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী বলেছিলেন, ‘রাজনীতিতে শেষ বলে কিছুই নেই। আমি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে রাজনীতি করেছি। কিছুদিন অবসরে থেকে আবারও রাজনীতিতে কাজ করতে শুরু করেছি। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত রাজনীতিতে থাকতে চাই।’

বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, দলে সংস্কারপন্থীদের ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে। দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সময় থেকে বিএনপি করা এই তানভীর সিদ্দিকীকেও দলে ফেরানোর সিদ্ধান্ত হয়। সেই প্রক্রিয়ায় ভাগ্য খুলে তার।

পরে ২০১৮ সালের নভেম্বরে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তানভীর সিদ্দিকীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। একই সঙ্গে দলের প্রাথমিক সদস্যপদও বহাল করা হয়।

পরে একাদশ সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-১ আসনে তানভীর সিদ্দিকীকে বিএনপির প্রার্থী করা হয়। যদিও ভোটে বিপুল ব্যবধানে নৌকার প্রার্থীর কাছে হেরে গেছেন তিনি।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলনকে আহ্বায়ক, কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুলকে সদস্য সচিব করা হয় ওই কমিটিতে। তানভীর সিদ্দিকীকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।

ফজলুল হক মিলন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী আমাদের কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন। তবে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় ঢাকায় বেশির ভাগ সময় থাকেন। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে।’

১৫ ফেব্রুয়ারির সেই নির্বাচন ছাড়া জয়ের দেখা পাননি

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে রাজনীতি করে আসা তানভীর সিদ্দিকী প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব ছিলেন। কিন্তু ভোটের মাঠে তার সাফল্য নেই। সংসদীয় নির্বাচনে তিনি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপির ‘বিতর্কিত’ নির্বাচন ছাড়া কখনোই জয়ের দেখা পাননি।

১৯৯১ সালে গাজীপুর-১ আসন থেকে নির্বাচন করে ৫৬ হাজার ৭৭ ভোট পেয়ে পরাজিত হন তিনি। ১৯৯৬ সালে সবার অংশগ্রহণে যে নির্বাচন হয় সেখানে ৮১ হাজার ৮৫৪ ভোট পেলেও তিনি জয়ের দেখা পাননি। ২০০১ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ নিয়ে এক লাখ ৪১ হাজার ১৫১ ভোট পান তানভীর সিদ্দিকী। কিন্তু পরাজিত হন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কাছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও বিএনপির হয়ে লড়াই করে এক লাখ ৭৩ হাজার ৮৩৫ ভোট পেয়ে হেরে যান এই প্রবীণ রাজনীতিক। সবশেষ ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বর্তমান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হকের কাছে তিন লাখেরও বেশি ভোটে হেরে যান তানভীর সিদ্দিকী।

(ঢাকাটাইমস/২৪জানুয়ারি/বিইউ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :