চিলমারীতে ইভিএম নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোটাররা

মমিনুল ইসলাম বাবু, কুড়িগ্রাম
 | প্রকাশিত : ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৬:২৬

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় চরাঞ্চলবাসীসহ প্রার্থীরা। ইভিএমে ভোট দেওয়ার বিষয়ে ভোটার ও প্রার্থীদের মাঝে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তবে ইভিএমে ভোট দেওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশন মগ ভোটিংসহ সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে।

ষষ্ঠ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ইভিএমে অনুষ্ঠিত হবে। ইভিএমে কীভাবে ভোট দিতে হয়, তা জানেন না পাঁচটি ইউনিয়নের ৯০ হাজারের বেশি ভোটার। ইভিএমে সঠিকভাবে ভোট দিতে পারবেন কি না তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। এই পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৩১ জানুয়ারি চিলমারী উপজেলার থানাহাট, রাণীগঞ্জ, রমনা, অস্টমিরচর ও চিলমারী সদর ইউপিতে ষষ্ঠ ধাপের ইউপি নির্বাচন ইভিএমে অনুষ্ঠিত হবে। এতে চিলমারী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ৯০ হাজার ২২৩ জন ভোটার ৫১টি কেন্দ্রে ৩২৫টি বুথে প্রথমবারের মতো ইভিএমে ভোট দেবেন।

রমনা মডেল ইউনিয়নের রবিউল ইসলাম বলেন, হামাগো চর এলাকা বাড়ি। নেহাপড়া শিখি নাইক্যা। শুনি এইবারকা ভোট মেশিনত দেহা নাগবো। ক্যামডে ভোটটা দেই হেডা বুঝিবার পাই না।

একই ইউনিয়নের ফুলমতি বেওয়া বলেন, আগত তো ভোট দিছলং সিল মারিয়া। এলা দেহি মেশিনত ভোট দেয়া নাগবে। এগলা মেশিন তো হামরা বুঝিও না। এখন চিন্তা ভাবনায় আছি।

চিলমারী ইউনিয়নের করাইবরিশাল এলাকার ভোটার রফিকুল ইসলাম বলেন, হামরা চরের মানুষ, কোনো লেখাপড়া করিও নাই। কোনো দিন স্কুল-কলেজও যাই নাই। কিসের জানি ইভিএম বারাইছে ওডার ভাষায় জানিনা। এহন শুনি ভোট দেই একখানে যায় বলে আরেকখানে। মাইনষের মুখত শুনি। এহন হামরা ভোট একট্যা যাইবে আরেকট্যা এই চিন্তায় আছি হামরা।

রমনা মডেল ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী জোবায়দুল ইসলাম সুইট বলেন, ইভিএম নিয়ে ভোটারদের মাঝে দ্বিধাদ্বন্দ রয়েছে। বিভিন্ন প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকরা গুঞ্জন সৃষ্টি করছে যে, ভোট দিবে একখানে যাবে অন্যখানে।

থানাহাট ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হালিমুজ্জামান বাবলু বলেন, ‘ভোট দিবার না পেয়ে জনগণের মাথা খারাপ। এবার ইভিএমে ভোট দিতে যাবে মানুষ। যদি ইভিএম ডিস্টার্ভ করে তাহলে পাবলিক মেশিন-টেশিন ভাঙ্গি ফেলাইবে।’

একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক মিলন বলেন, ইভিএম নিয়ে সংশয় দূর করতে ট্রায়াল ভোট এবং বিভিন্ন স্থানে প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রচার করা গেলে ইভিএম নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।

এ বিষয়ে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুর রহমান বলেন, চিলমারীতে প্রথমবারের মতো ইভিএম-এ ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এটা নিয়ে জনগণের মাঝে আগ্রহ আছে, কিছু প্রশ্নও আছে। ইভিএমে আস্থার জায়গাটি হলো ভোট দেওয়ার পর এটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গণনা করে। আমরা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

(ঢাকাটাইমস/২৭জানুয়ারি/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :