বদিউলের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ সিইসির

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৮:৩৬

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ আনলেন বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। সাবেক সিইসি টিএম শামসুল হুদার সময় বদিউল আলমকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজে কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পৃক্ত করা হয়েছিল তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বর্তমান সিইসি। সে সময় কাজ না করেও সুজন সম্পাদক টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে এক অনুষ্ঠানে সিইসি এমন অভিযোগ করেন। এজন্য এক-এগারো সরকারের সময়কার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. এটিএম শামসুল হুদাকেও দায়ী করে বক্তব্য দেন সিইসি।

শামসুল হুদার সমালোচনা করে সিইসি বলেন, ‘তিনি বদিউল আলম মজুমদারকে নিয়োগ দিয়েছিলেন কীসের ভিত্তিতে? সেখানে কি কোনো বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল, কোনো যোগ্যতার ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছিল? তাহলে লাখ লাখ টাকা তাকে কীভাবে দিলেন! লাখ লাখ টাকার অভিযোগ আছে, সেটা আমাদের নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই লোক যেন এখানে না আসতে পারে। এর বিরুদ্ধে আর্থিক অনেক অনিয়ম আছে। এরকম অনেক কিছু বলা যায়। সুতরাং ভেবে-চিন্তে কথা বলা উচিত, যেখানে কাজ করে গেছেন, একেবারে আদর্শ ব্যক্তি হিসেবে, মডেল ব্যক্তি হিসেবে চলে গেছেন, এটা হতে পারে না, হতেই পারে না (ইট ক্যান নট বি, ইট ক্যান নট বি)। এটা সমালোচনার জায়গা। এখানে ১২ কোটি ভোটার নিয়ে কাজ করতে হয়। সুতরাং এটা করা যায় না। বহু সমালোচনা আছে, অনেক সমালোচনা আছে।

বদিউল আলমের সঙ্গে পরিচয় এবং পরবর্তিতে নানা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমি যখন কুমিল্লার ডিসি ছিলাম, তখন থেকে তার (বদিউল আলম) সঙ্গে পরিচয়। সেই সুবাদে আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই দেখা করতে চাইলেন। বললাম, আমি তো এখন ব্যস্ত। এরপর টেলিফোনে, বাসায়, এখানে-ওখানে সবসময় তিনি দেখা করা কথা বলতেন। একদিন একেবারে অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়ে দেখা করলাম। তিনি হাফিজ সাহেব, আলিম সাহেবসহ ১০-১৫ জন লোক নিয়ে এলেন। একটা বড় বই দেখিয়ে বললেন, এই কাজটা আমরা করেছি। বললেন, প্রার্থীদের হলফনামা সংগ্রহ করে আমরা ছাপিয়েছি। বারবার বলেন, আমি শামসুল হুদা কমিশনের সময় কাজ করেছি। উনারা যাওয়ার পর কর্মকর্তারা জানালেন উনার বিরুদ্ধে প্রায় ১ কোটি টাকা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আছে। কাজ না করেই টাকা নেওয়ার অভিযোগ আছে। তারপরে কমিশন সভায় তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আছে। এরপর আমি সাবধান হয়ে গেলাম। এরপর তিনি ছাড়েন না, বারবার টেলিফোন করেন, সাক্ষাৎ করতে চান। বারবার বলেন, ড. শামসুল হুদা কমিশনের সময় প্রচুর কাজ করেছি।

‘এরমধ্যে গেলাম শ্রীলংকায়, কলম্বোয়। সেখানে তারাও গেছেন। ওখানেও বারবার একই কথা বলেছেন। আমি বললাম, এই কাজ (হলনামা বই আকারে প্রকাশ) করা কী দরকার? এটা তো কোনো কাজ হইল না। কতগুলা কাগজ এখানে (কমিশনে) থাকে, আপনারা ছাপিয়ে দিলেন। এটা তো ওয়েবসাইটে আছে। এটা নিয়ে বই করার তো কিছু দেখতেছি না। আমি তো মনে করি ঝালমুড়ির ঠোঙা বানানো ছাড়া এটার কোনো কাজ নাই।’- বলেন সিইসি।

সিইসি বলেন, ‘আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম কী ক্যাপাসিটিতে, কিভাবে কাজ পেয়েছিলেন কোনো বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল? তিনি বললেন, না। আমরা তো এমনিই কাজ পেয়েছিলাম। সে সময় আমি তাকে বললাম, আপনি তো নির্বাচন বিশেষজ্ঞ নন। সংবিধান বিশেষজ্ঞ নন, তাহলে কোন যোগ্যতায় নেবো আপনাকে। একটা বই তৈরি করবেন এজন্য তো আপনাকে নেওয়ার প্রয়োজন নাই। আমি তো মনে করি না নির্বাচন কমিশনের কোনো প্রয়োজন আছে আপনার সার্ভিস নেওয়া। এভাবে দু'বছর তিনি আমার পেছনে ঘুরঘুর করেছেন। আরেকদিন আমার অফিসে এলেন। তাকে বললাম, যে সময় আপনি কাজ করেছেন, সে সময় আর এখনকার সময় এক না। তখন ছিল সেনা সমর্থিত সরকার। এখন কাজ দিতে হলে বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। আরও দশ জনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে। এভাবে তো আপনি কাজ পাবেন না। তারপর তিনি রাগটাগ করে চলে গেলেন। এরপর থেকেই যখন সুযোগ পান সমালোচনা করেন। নানা কথাবার্তা বলেন।

সিইসি বলেন, তিনি খুব দ্রুত সংবাদ সম্মেলন করার অভিজ্ঞ লোক। নির্বাচনী কাজের বিশেষজ্ঞ তো তিনি নন।

(ঢাকাটাইমস/২৭জানুয়ারি/বিইউ/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :