প্রকাশ্যে ধুমপান? জানেন জরিমানা কত?

আশিক আহমেদ, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৮ জানুয়ারি ২০২২, ০৮:১৫

প্রকাশ্যে ধুমপান বন্ধে আইন মানা হচ্ছে না কেন? প্রকাশ্যে ধুমপান করেন? জানেন আইনে জরিমানা কত? ধুমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর ও ক্যান্সারের কারণ, এটি জানা সত্ত্বেও হরহামেশায় ধুমপান করছে অসংখ্য মানুষ। ধুমপান ব্যাপারটার মধ্যে একটা ‘ভাবসাব’ থাকে বলেই মনে করেন অনেকে।

মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের বেশিরভাগই ধুমপান দিয়ে পরে নেশায় জড়িয়েছে। একজন ধুমপায়ীর সাধারণত একাধিক ধুমপায়ী বন্ধু থাকে। এভাবেই একজনের প্রভাবে অন্য বন্ধুরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। একবার যখন কেউ কোনও মাদক গ্রহণ করে, তখন সে একটির পর অন্য একটি মাদক গ্রহণ করে। দেশের সব বড় বড় শহর, বাজার, স্কুল-কলেজের আশপাশের মতো ব্যস্ত এলাকায় বা জনসম্মুখে বেপরোয়া ধুমপায়ীরা।

ধুমপানের এই ভয়াবহ প্রভাব যে শুধু ধুমপায়ীর ক্ষতি করে, তা নয়। পরোক্ষভাবে তা পাশের জনেরও ক্ষতি করে। পরোক্ষ ধুমপানের সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীরা। গণপরিবহন, পার্ক, সরকারি-বেসরকারি অফিস, গ্রন্থাগার, রেস্তোরাঁ, শপিং মল, পাবলিক টয়লেটসহ বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে হরহামেশায় ধুমপান করতে দেখা যায় বিভিন্ন বয়সীদের। অথচ, জনসমাগমস্থলে ধুমপান বন্ধে ২০০৫ সালে একটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। কিন্তু সে আইন মানা হচ্ছে না?

ধুমপান বন্ধে ২০০৫ সালে প্রণিত আইন অনুযায়ী, প্রকাশ্যে ধুমপানের জরিমানা ধরা হয়েছিল ৫০টাকা। কিন্তু পরে ২০১৩ সালে ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনের সংশোধনী এনে জনসমাগমস্থলে ধুমপানের শাস্তির অর্থ ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হয়। কিন্তু আইন না জানা ও ভাঙায় অভ্যস্ত লোকজনের অবস্থা তাতে বদলায়নি এতটুকু।

প্রকাশ্যে ধুমপান বন্ধে ২০০৫ সালের আইনের বিধান কার্যকর করার উদ্দেশ্যে কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্ব-স্ব অধিক্ষেত্রে কোনও পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে প্রবেশ করে পরিদর্শন করিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বা তার সমমানের বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোনও কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপালনের জন্য কোন আইনের অধীন, বা সরকার কর্তৃক সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ক্ষমতাপ্রাপ্ত যে কোনও বা সব কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু তারা কতটুকু দায়িত্ব পালন করছে?

এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোনজিল মোরশেদ ঢাকা টাইমসকে বলেন, আমাদের দেশে কাগজ কলমে অনেক আইন আছে যার বাস্তব প্রয়োগ নেই। গতকাল আমাদের ঢাকা শহর বায়ু দুষণে ১ নম্বর হয়েছে। এটার জন্যও আইন রয়েছে সেটা মানা হলে হয়তো এমনটা হতো না।

বর্তমান সরকার জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে ২০১৩ সালে ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনটি সংশোধন করে এবং ২০১৫ সালে ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা প্রকাশ করে। আইন ও বিধি বাস্তবায়নে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি, তামাক চাষ নিরুৎসাহিতকরণ নীতি, স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ ব্যবস্থাপনা নীতি ইত্যাদি প্রণয়নের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এসব নীতি ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ,অধিদপ্তর, দপ্তরের পাশাপাশি সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কর্মরত বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান একযোগে কাজ করছে।

কিন্তু প্রকাশ্যে ধুমপানের জন্য জরিমানার আইন থাকা সত্ত্বেও যত্রতত্র সিগারেটের সুখটান দিতে দেখা যায় অনেককে। পাবলিক প্লেসে ধুমপানের অপরাধ স্বীকারও করেন অনেকে। তবে তারা অনেকেই বলে বসে, জরিমানাটা নেবে কে? পুলিশও তো পাবলিক প্লেসে হরদম সিগারেট ফুঁকছে। শুধু পুলিশ নয়, চিকিৎসকদেরও প্রকাশ্যে ধুমপান করতে দেখা যায়।

বিশিষ্টজনরা বলছেন, প্রকাশ্যে ধুমপান বন্ধে আইন প্রণয়ন করার পর শুরুর দিকে তা বাস্তয়ায়ন করতে পুলিশ কিছু অভিযানও চালিয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন পর আইন অমান্য করে খোদ পুলিশের বহু সদস্যই প্রকাশ্যে ধুমপান করেন। আর এর সুযোগ নেয় জনগণও। এভাবে পুলিশ-জনতার দায়িত্বহীনতায় কেতাবি বিষয়ে পরিণত হয় ধুমপান নিয়ন্ত্রণ আইন।

মূলত ধুমপান আইন মেনে না চলার প্রবণতা, জরিমানার পরিমাণ কম হওয়া এবং তামাক উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাপটের কারণে আইন প্রয়োগে হিমশিম খাচ্ছে সরকার।

পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও শ্রীলংকায় প্রকাশ্যে ধুমপান করলে মোটা অঙ্কের জরিমানা গুনতে হয়। আমাদের দেশেও প্রকাশ্যে ধুমপান বন্ধে মোটা অঙ্কের জরিমানার বিধান তৈরি ও এর সঠিক প্রয়োগ করা দরকার বলে অভিমত বিশিষ্টজনদের।

তাই যেখানে-সেখানে, ফুটপাতে অবাধে বিড়ি-সিগারেট বিক্রি রোধে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনতে সব তামাকের ওপর উচ্চহারে কর বাড়াতে হবে। কারণ সব তামাকই মানুষকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান ঢাকাটাইমসকে বলেন, আমরা কোন সমস্যার পুরোপরি সমাধান করতে চাই না। প্রকাশ্যে ধুমপানের বিরুদ্ধে একটি আইন পাশ করা হয়েছিল এটা কাজের একটা অংশ। আর আইনটা প্রয়োগ করা হচ্ছে কাজের আরেকটি অংশ। কিন্তু যারা আইনটা প্রয়োগ করবেন তাদের মধ্যে অনেক উদাসীনতা দেখা যায়। আমরা মধ্যম আয়ের দেশ হয়েছি ঠিকই এখন সভ্য হতে পারিনি।

(ঢাকাটাইমস/২৮জানুয়ারি/এএ/আইএম/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :