চুয়াডাঙ্গায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকের বাড়িতে হামলা, আহত ৮, অস্ত্রসহ আটক ২

প্রকাশ | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৩:৫৬

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থীর (আনারস) এক সমর্থকের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ মনোনীত বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এতে ৮ জন গুরুতর জখম হয়েছেন।

বুধবার রাতে উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের ৬২ আড়িয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় দুইজন হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে। আহতরা হলেন- ৬২ আড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, তার ভাই আওলাদ হোসেন, জাহাঙ্গীরের স্ত্রী মমতাজ বেগম, আহাদ আলীর স্ত্রী রাফিয়া বেগম, মৃত রহমানের ছেলে মহেদ আলী, আলীর ছেলে শিমুল হোসেন, জিয়াউর রহমানের স্ত্রী মাছুরা খাতুন ও জিয়ারুল ইসলামের স্ত্রী আশানুর খাতুন। পরে স্থানীয়রা হামলাকারী হোসেন মিয়া ও শামীম হোসেনকে মারধর করলে তারাও আহত হন। আহতদের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম, হোসেন মিয়া ও শামীম হোসেনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকীরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

আহত জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে এক সাথে খেতে বসেছিলাম। এসময় নৌকা প্রার্থী শুকুর আলীর ২০ থেকে ২৫ জন সমর্থক পেছন থেকে হঠাৎ দেশীয় অস্ত্র ধারালো হাসুয়া, চাপাতি, বাঁশ, রড দিয়ে হামলা করে। আমার মাথায় কোপ দিয়ে গুরুতর জখম করে তারা। চিৎকার দিলে ছুটে এসে হামলাকারী দুজনকে আটক করে স্থানীয়রা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান শুকুর আলীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

পরাজিত প্রার্থী মিজানুর রহমান বলেন, শুকুর আলীর বেশিরভাগ লোকজন মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। নির্বাচনের কয়েকদিন আগেও আমার নির্বাচনি অফিসে হামলা চালায় তারা। আমার সমর্থকদের মারধরও করে। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সজ্জিত হয়ে আমার সমর্থকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ক্ষমতার জানান দেয়ার চেষ্টা করেছে শুকুর আলীর লোকজন। এ বিষয়ে আমরা আগামীকাল থানায় অভিযোগ দেব।

এ বিষয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর কবীর জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারী দুজনকে আটক করে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৪-৫ টি হাসুয়া।

জব্দ করা হয়েছে হামলাকারীদের একটি আলমসাধু ও ২টি মোটরসাইকেল।

তিনি আরও জানান, আটককৃততরা হলেন, তিতুদহ গ্রামের হাতেম আলীর ছেলে হোসেন মিয়া ও আছর উদ্দীনের ছেলে শামীম হোসেন। তারাও গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ঢাকা টাইমস/১০ফেব্রুয়ারি/এআর