২০২০-এও নিষিদ্ধ হয়েছিলেন জায়েদ খান, তবে...

বিনোদন প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৫ মার্চ ২০২২, ২১:০৫

শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও অভিনেতা জায়েদ খানকে ফের নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে চলচ্চিত্রের ১৮টি সংগঠন। শনিবার চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি ও ১৮ সংগঠনের আহ্বায়ক সোহানুর রহমান সোহান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

তবে এই প্রথম নয়, ২০২০ সালেও একবার জায়েদ খানকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বয়কট করেছিল চলচ্চিত্রের ১৮ সংগঠন। তার বিরুদ্ধে তোলা হয়েছিল নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। যার জেরে প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতি থেকে তার সদস্যপদও সাময়িক বাতিল করা হয়েছিল। জায়েদের সঙ্গে বয়কটের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল খল অভিনেতা মিশা সওদাগরের বিরুদ্ধেও।

যদিও পরে জায়েদ খানের অভিযোগের প্রেক্ষিতেই ওই বছরের নভেম্বরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক আদেশের মাধ্যমে ১৮ সংগঠনের অন্যতম সংগঠন প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির ২০১৯-২০২১ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটি বাতিল করে একজন উপসচিবকে প্রশাসকের দায়িত্বে বসিয়েছিল। তাকে ১২০ দিনের মধ্যে সংগঠনের দৈনন্দিন কাজ পরিচালনাসহ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাচিত নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে বলা হয়েছিল।

শুধু তাই নয়, যে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের জন্য জায়েদ খানকে চলচ্চিত্রের ১৮টি সংগঠন বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং প্রযোজক-পরিবেশক সমিতি থেকে তার সদস্যপদ সাময়িক বাতিল করেছিল, সে সবের কোনো সত্যতা নেই বলে আরেকটি চিঠিতে জানিয়ে দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। যার কারণে জায়েদের কাজে ফেরার ক্ষেত্রেও যাবতীয় বাধা সে সময় দূর হয়ে গিয়েছিল।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্তে সে সময় খুব ক্ষেপেছিলেন ১৮ সংগঠনের নেতারা। চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম খোকন দাবি করেছিলেন, ‘যে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির নতুন কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে, সে অভিযোগ সত্যি নয়। জানি না বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কীভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিল। বিষয়টি নিয়ে আমরা বসব। একটা সিদ্ধান্তও নেব।’

পাশাপাশি জায়েদ খানকে কাজের অনুমতি দেওয়ার আদেশেরও কড়া সমালোচনা করেছিলেন পরিচালক খোকন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ধোপে টিকবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘জায়েদকে বয়কট করেছি আমরা ১৮ সংগঠন। প্রযোজক সমিতির কমিটি না থাকলেও বাকি ১৭ সংগঠন আগের সিদ্ধান্তে অটল থাকবে। বরং জায়েদ বিষয়টি বেশ নোংরা করে ফেলেছে। সে এবার আজীবনের জন্য বয়কট হবে।’

জায়েদ সিনেমার তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নন উল্লেখ করে খোকন বলেছিলেন, ‘জায়েদের পারিশ্রমিক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার। এই পারিশ্রমিকেও তাকে কেউ নিতে চায় না। তাই সে নিজের টাকায় সিনেমা নির্মাণ করে। তার জন্য সিনেমার এত বড় ক্ষতি হতে পারে না। সে তার ক্ষমতা জাহির করছে, করুক। এই ক্ষমতা দিয়ে সিনেমা করা যাবে না। সিনেমা করতে হলে সিনেমার মানুষের সঙ্গে থাকতে হবে। এটা ক্ষমতা দেখানোর জায়গা না।’

প্রসঙ্গত, নানা অনিয়মের অভিযোগে চলচ্চিত্রের ১৮ সংগঠন মিলে জায়েদ খানকে বয়কটের সিদ্ধান্ত নিলে ওই সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে উল্টো প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির বিরুদ্ধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ জানান। সেখানে তিনি সমিতির ২০১৯-২০২১ মেয়াদি নির্বাচনের অনিয়মের কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ দুটি বেআইনিভাবে দখল করে রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন।

জায়েদের সেই অভিযোগ আমলে নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিবকে এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তদন্ত শেষে এক অফিস আদেশে জানানো হয়, হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে প্রার্থী হয়ে প্রযোজক সমিতির সভাপতি পদে খোরশেদ আলম খসরু ও সাধারণ সম্পাদক পদে সামসুল আলম নির্বাচিত হয়েছেন। তাই কমিটি বিলুপ্তের আদেশ দেয়া হয়। আরেক আদেশে কাজে ফেরার অনুমতি পান জায়েদ খান।

শনিবার তাকে ফের একবার বয়কট করল চলচ্চিত্রের ১৮ সংগঠন। এবার তিনি কী পদক্ষেপ নেন, সেটাই দেখার।

ঢাকাটাইমস/৫ মার্চ/এএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :