হারিস চৌধুরীর ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে: পুলিশ
প্রকাশ | ১৬ মার্চ ২০২২, ১৯:৫৮

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিস চৌধুরীর ডিএনএ পরীক্ষার করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার।
বুধবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এটা নিয়ে কাজ চলছে। তার ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে জানা যাবে।
ডিএমপির গোয়েন্দা প্রধান বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে এটা নিয়ে কাজ করছি। পত্রিকায় খবর এসেছে। মরদেহ ডিজেন্টার (মরদেহ উঠিয়ে নমুনা সংগ্রহ) করলে বা ডিএনএ টেস্ট করলে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার ডিসি মো. ফারুক হোসেন, গুলশান বিভাগের ডিসি মো. আসাদুজ্জামান, গুলশান জোনের গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি মশিউর রহমান, এডিসি মাহবুবুল হক সজীব এবং সহকারী কমিশনার (এসি) মো. আবু তালেব উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরীর মেয়ে ব্যারিস্টার সামিরা চৌধুরী বাবার লাশ কবর থেকে তুলে ডিএনএ পরীক্ষা করার আবেদন জানিয়েছেন। যুক্তরাজ্য প্রবাসী সামিরা চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র সচিব এবং সিআইডি প্রধানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন।
সামিরার লেখা ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘হারিছ চৌধুরীর আসল পরিচয়ের বিষয়টি পরিবারের পাশাপাশি বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাংলাদেশের আইন বিভাগ যদি ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে আমার বাবার পরিচয় নিশ্চিত করতে চায়, তাহলে আমার কোনো আপত্তি নেই।’
একইসঙ্গে হারিছের দেহাবশেষ সিলেটের দর্পননগর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন সামিরা চৌধুরী।
প্রয়াত হারিছ চৌধুরীর স্বজনরা বলছেন, হারিছ চৌধুরীই তার নাম-পরিচয় গোপন করে মাহমুদুর রহমান সেজেছেন। ওই পরিচয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রও তৈরি করেন। ইন্টারপোলের রেড নোটিশধারী হারিছ সব গোয়েন্দার চোখে ধুলো দিয়ে প্রায় ১১ বছর ঢাকায় অবস্থায় করছিলেন।
২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর হারিছ চৌধুরী ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে মারা যান। পরদিন মাহমুদুর রহমান পরিচয়ে হারিছকে ঢাকার সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের জালালাবাদের কমলাপুর এলাকায় জামিয়া খাতামুন্নাবিয়্যীন মাদরাসার কবরস্থানে দাফন করা হয়। তবে হারিছ চৌধুরীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়ায় আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলে তার নামে যে রেড ওয়ারেন্ট আছে, তা এখনো ঝুলছে।
(ঢাকাটাইমস/১৬মার্চ/এএ/কেএম)