এমপি লিটন হত্যা মামলার আপিল শুনানি কবে?

আশিক আহমেদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১১ মে ২০২২, ০৯:১৬ | প্রকাশিত : ১১ মে ২০২২, ০৮:৩০
নিহত এমপি লিটন (বাঁয়ে ইনসেটে) ও তাকে হত্যায় সাজাপ্রাপ্ত কর্নেল (অব.) ডা. আবদুল কাদের খান (ডানে)।

গাইবান্ধার-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডাদেশের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের শুনানি দীর্ঘদিনেও হয়নি। শুনানি কবে নাগাদ হতে পারে তা কেউ নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না। এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন লিটনের পরিবার। আলোচিত এই হত্যা মামলার বাদি-বিবাদি দুই পক্ষই চায়, উচ্চ আদালতে দ্রুত শুনানি হোক।

লিটনের পরিবারের দাবি, উচ্চ আদালতে দ্রুত শুনানি করে রায় কার্যকর করা হোক। আর হাইকোর্টে মামলাটি দ্রুত শুনানির জন্য উদ্যোগ নেওয়ার দাবি আসামিপক্ষের। এ ব্যাপারে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তারা বলছেন, নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাইকোর্টে এখন ২০১৭ সালের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানির কার্যক্রম চলছে। সেই হিসাবে এমপি লিটন হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানি চলতি বছরে হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বিবেচনায় শুনানির সময় এগিয়ে নিয়ে আসা সম্ভব।

২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক এই আলোচিত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় ছয়জন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পলাতক ছিলেন এক আসামি। চার্জশিটে অভিযুক্ত আট আসামির মধ্যে একজন মামলা চলাকালে মারা যান।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ডা. আবদুল কাদের খান, তার পিএস শামছুজ্জোহা, গাড়িচালক হান্নান, ভাতিজা মেহেদী হাসান, দূরসম্পর্কের ভাগ্নে শাহীন মিয়া, পোশাক শ্রমিক আনোয়ার ইসলাম রানা। পলাতক রয়েছেন আসামি চন্দন কুমার রায়।

অভিযুক্ত আট আসামির মধ্যে কসাই সুবল কারাগারে অসুস্থ অবস্থায় মারা যান।

এর আগে ২০১৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার বাসা থেকে কাদের খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন থেকেই তিনি গাইবান্ধা জেলা কারাগারে রয়েছেন।

২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ইউনিয়নের মাস্টারপাড়ার নিজ বাড়িতে গুলিতে খুন হন মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। দুটি মোটরসাইকেলে করে আসা দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরদিন ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি অজ্ঞাত পাঁচ-ছয়জনের বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন লিটনের ছোট বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলী।

প্রথম দিকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ভেবে সন্দেহ করা হয় লিটনের স্ত্রীকে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে হত্যার মোড় ঘুরে যায় অন্যদিকে। একই উপজেলার ধোপাডাঙ্গায় একটি ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে লিটন হত্যার রহস্য উন্মোচন করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

তদন্ত শেষে পুলিশ ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল কর্নেল (অব.) ডা. আবদুল কাদের খানসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০১৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালতের বিচারক।

পরে হত্যা মামলায় ২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল প্রথম দফায় আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। বাদী লিটনের ছোট বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলী, তার স্ত্রী, তদন্ত কর্মকর্তাসহ সর্বশেষ ৫৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ কার্যক্রম শেষ হয়।

রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ ১৮ মাস যুক্তিতর্কের পর ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।

এ হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ দুটি মামলা করে। একটি অস্ত্র মামলা ও অপরটি হত্যা মামলা। অস্ত্র মামলার রায়ে একমাত্র আসামি ডা. কাদেরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। দ-িত কাদের খান ২০০৮ সালে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে এমপি নির্বাচিত হন। তিনি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপরহাটি ইউনিয়নের পশ্চিম ছাপরহাটি (খানপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা।

প্রথম দিকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ভেবে সন্দেহ করা হয় লিটনের স্ত্রীকে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে হত্যার মোড় ঘুরে যায় একই উপজেলার ধোপাডাঙ্গায় একটি ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

ছিনতাইয়ের ওই ঘটনায় গ্রেফতার আসামিদের স্বীকারোক্তিতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাদের খানের সম্পৃক্ততা পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে কয়েক দিন তাকে নজরদারিতে রাখা হয়। এরপর ২০১৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বগুড়া শহরে কাদের খানের স্ত্রীর মালিকানাধীন গরীব শাহ ক্লিনিক থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

এই মামলায় আসামি কাদের ও পলাতক চন্দন কুমার রায় ছাড়া অন্য পাঁচজন এ হত্যাকা-ে তাদের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) শফিকুল ইসলাম শফিক দীর্ঘদিন ধরে এই মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি হচ্ছে না জানিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘এমপি লিটন হত্যা মামলার রায়ের দ্রুত ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি হওয়া উচিত। এ রকম একটি মামলা দীর্ঘদিন ঝুলে থাকতে পারে না। আমি আশা করি উচ্চ আদালতেও মৃত্যুদ-ের রায় বহাল থাকবে।’

মামলার বাদী লিটনের বড় বোন আফরোজা বারী দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘আমার ভাইকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পাঁচ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। আমরা চাই আদালতের ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকর হোক। একশ ভাগ রায় কার্যকর দেখতে চাই। অতি দ্রুত রায় কার্যকরের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই।’

হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, এ বিষয়ে আমি অফিসিয়ালি কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’

(ঢাকাটাইমস/১১মে/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :