রাস্তা থেকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতিকে তুলে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ মে ২০২২, ২২:২৫ | প্রকাশিত : ২১ মে ২০২২, ২২:২০

রাজধানীর ধানমন্ডিতে সড়ক থেকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলামকে টেনেহিঁচড়ে পুলিশের গাড়িতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। তবে নেতাকর্মীদের বাধায় কাজী রওনককে নিতে না পেরে দলের অন্য দুই নেতাকে আটক করে পুলিশ কারাগারে পাঠিয়েছে বলে ছাত্রদল নেতারা জানিয়েছেন।

ছাত্রদলের দুই নেতাকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ধানমন্ডি থানা পুলিশ।

কেন্দ্রীয় নেতাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টার বিষয়টি শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে সংবাদ সম্মেলন করে জানান ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ।

তিনি জানান, শুক্রবার রাতে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালের সামনের সড়কে কাজী রওনকুল ইসলামকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

সাইফ মাহমুদ অভিযোগ করে বলেন, কাজী রওনকুল ইসলাম ধানমন্ডির ওই সড়কে দাঁড়িয়ে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় সাদাপোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাত-আটজন সদস্য তাঁকে প্যান্টের বেল্ট ধরে টানাহিঁচড়ে তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালান। তখন পাশেই পুলিশের দুটি গাড়ি ছিল। প্রায় ৪৫-৫০ নেতা–কর্মীর মধ্য থেকে ছাত্রদল সভাপতিকে তুলে নিতে ব্যর্থ হয়ে পুলিশ সবার সঙ্গে অশালীন আচরণ করে এবং কয়েকজনকে মারধর করে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সভাপতিকে তুলে নিতে ব্যর্থ হলে সেখানে থাকা ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আজিজুর রহমান ও কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আবদুর রহমানকে বেধড়ক মারধর করে নিয়ে যায় পুলিশ। আজ তাদের কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

এ বিষয়ে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নাশকতার পরিকল্পনা, সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ছাত্রদলের দুজনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। আজ সকালে পুলিশ বাদী হয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।’

এদিকে শুক্রবার রাতের ঘটনা ছাড়াও গত বৃহস্পতিবার আরেক ছাত্রদল নেতাকে তুলে নেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন সাইফ মাহমুদ।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকালে গুলশান থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আশরাফুল ইসলামকে রাজধানীর কাকরাইল মোড় থেকে উঠিয়ে নেয় পুলিশ। তিনি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বাসায় যাচ্ছিলেন। পরে গতকাল শুক্রবার ভোররাতে আশরাফুলকে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে যাওয়া হয়। আজ সকালে পরিবারের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায় নিয়ে যান।

পুলিশ কী কারণে ছাত্রদল সভাপতিসহ অন্য নেতাদের এভাবে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে—জানতে চাইলে সাইফ মাহমুদ বলেন, ‘ছাত্রদলের নতুন কমিটি হওয়ার পর সরকারি মহল শঙ্কিত। আমার মনে হয়, নেতা-কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই আচরণ করেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়াসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস/২১মে/এমএইচ/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :