নগরের পথে বাইসাইকেলে স্বস্তি, অভাব পৃথক লেনের

পুলক রাজ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৬ মে ২০২২, ১২:৫৮ | প্রকাশিত : ২৬ মে ২০২২, ০৯:১৮

বাহন হিসেবে বাইসাইকেল বরাবরই জনপ্রিয়। বিশ্বজুড়ে এর চাহিদা সবসময় তুঙ্গে। দেশেও অধুনা বাইসাইকেলের আরোহী বেড়েছে। বিশেষ করে নগরের পথে দেখা মিলছে নানা বয়সী সাইক্লিস্টদের।

তবে নগর-শহরে বাস, ট্রাক, সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের বাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সাইকেল চালানো অনেকটাই দায়। কারণ সাইকেল চালানোর জন্য পরিকল্পিত পৃথক কোনো লেন নেই।

সরেজমিনে টিএসসি, শহীদ মিনার এলাকা, সেগুনবাগিচা, কলাবাগান, এলিফ্যান্ট রোড, ইস্কাটন গার্ডেন, নিউ ইস্কাটন, মগবাজার, কাকরাইল, মৌচাক, রামপুরা, বনশ্রী, গুলিস্তান, মালিবাগ, ফার্মগেটসহ রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বাইসাইকেলের চলাচল দিন দিন বেড়েই চলছে।

তবে মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা, বাস, ট্রাক, প্রাইভেট গাড়ি সড়ক দখল করে রেখেছে। ফলে বাইসাইকেলের চলাচল নিরাপদ মনে করছেন না বাইসাইকেল চালকরা। তবে বাইসাইকেল চালিয়ে স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা পেশাজীবী মানুষ নিজ কর্মস্থলে আসা-যাওয়া করে থাকেন।

যানজটের কারণে যখন সড়কে বিভিন্ন যানবাহন আটকে যায়, তখন দ্বিচক্রযান বা বাইসাইকেল পাশ দিয়ে ক্রিং ক্রিং শব্দে মসৃন আওয়াজ তুলে ছুটে যায় নিজ গন্তব্যে। তবে বাইসাইকেল চালকদের জন্য পৃথক লেন না থাকায় যাত্রা খুব বেশি মসৃণ নয়।

বাইসাইকেল চালকরা জানান, বাস, লেগুনা, ব্যক্তিগত গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, চায়ের দোকান, রিকশার গ্যারেজসহ সরকারি-বেসরকারি গাড়ি সড়কের ওপর রাখা হয়। তবে সড়কে হাতেগোনা দুয়েকটা সাইকেলের লেন ছাড়া আর দেখা যাচ্ছে না। ফলে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে প্রতিনিয়ত।

চাকরিজীবী তাজ ইসলাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমার বাসা মগবাজার এলাকায়, অফিস মতিঝিল। আমি অফিসে প্রথমে রিকশা, বাস, পাঠাও দিয়ে আসা-যাওয়া করতাম। কিন্তু ভাড়ার জন্য আর সময় বাঁচাবার জন্য বাইসাইকেল কিনেছি। এখন আমি প্রতিদিন অফিসে যাই বাইসাইকেল দিয়ে। তবে সমস্যা হলো সড়কে যানজট থাকে সব সময়। আর বড় বড় যানবাহন বেপরোয়াভাবে চলাচল করে। ফলে আমার মতো সাইকেল চালকরা দুর্ঘটনার ভয়ে থাকে।’

তাজ বলেন, ‘কিছুদিন পর পর শুনি বাইসাইকেলের লেন হবে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। এবং জনপ্রতিনিধিরাও আশ্বাস দেন বাইসাইকেলের লেনের জন্য। তবে কিছুদিন পর আর এই আশ্বাস থাকে না। আমি আবার দাবি করছি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাইসাইকেলের লেন দ্রুত বাস্তবায়ন হোক।’

কলেজশিক্ষার্থী কাজী জামাল ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমি কলেজে সবসময় বাইসাইকেলে আসা-যাওয়া করি। বাইসাইকেলের জন্য মোটরগাড়ি তিন মিটার জায়গা ছেড়ে দেওয়ার কথা। কিন্তু ঢাকার সড়কে এসব কিছুই মানা হচ্ছে না। বাইসাইকেলের জন্য লেন করে দিলে কিছুটা হলেও সড়ক দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।’

সাইকেল চালক নিজাম উদ্দিন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমি প্রতিদিন বাইসাইকেল চালাই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে। এই যে এত বড় বড় সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছে, এ নিয়ে কারো যেন কোন মাথাব্যথা নেই। আমার দাবি একটাই, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বাইসাইকেল লেন দেওয়া হোক।’

সাইকেল চালকদের সংগঠন ‘উত্তরা সাইক্লিস্ট’-এর সদস্য সুরাইয়া নুসরাত জারা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বাইসাইকেলের জন্য রাজধানীসহ দেশজুড়ে পৃথক লেন খুব জরুরি, যেন আমরা সাইকেল দিয়ে এক শহর থেকে অন্য শহর বা গ্রামে নিরাপদে আসা-যাওয়া করতে পারি।’

সুরাইয়া বলেন, ‘আমি সাইকেল চালাতে গিয়ে অনেক বাধার মুখে পড়েছি। এমনও হয়েছে রাজধানীতে সাইকেল চালাতে গিয়ে দেখা গেছে আমাকে অন্য গাড়ি থেকে উত্ত্যক্ত করে আমার সাইকেলকে ধাক্কা দিয়ে চলে গেছে। আর লেন যদি সাইকেলের জন্য আলাদা করে দেওয়া হয়, আশা করি সড়ক দুর্ঘটনা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাওয়া যাবে।’

বিডি সাইক্লিস্টের সদস্য শাকিল ইমাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমি প্রায় সময় এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাই সাইকেল দিয়ে। কিছুদিন আগে বান্দরবান গিয়েছি। এরকম প্রায় সময় দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাইকেল দিয়ে যাই। রাজধানীতে আগে পৃথক বাইসাইকেল লেন জরুরি। আমাদের সব সময় দাবি একটাই সাইকেল লেন রাজধানীতে দ্রুত হোক।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হাবিব ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘প্রথম কথা হলো ঢাকাতে সাইকেল লেন নেই, সেগুলো তৈরি হয়েছে সেগুলো খন্ডিত। লেন মানে হলো এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নির্বিঘ্নে সাইকেল নিয়ে যাতায়াত করা। ঢাকায় এখন পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে এক কিলোমিটার সাইকেল প্রাধান্য অথবা সাইকেলবান্ধব একটা রুটও পাওয়া যাবে না।’

ইকবাল হাবিব বলেন, ‘পৃথিবীর অন্য দেশে যেভাবে সাইকেলের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে সেটা আমাদের নেই। এটা করার জন্য পরিকল্পিত নগর চলাচলব্যবস্থা যেমন দরকার সেটারও কোনো উদ্যোগ আজও কেউ নেয়নি। আগারগাঁও অঞ্চলে রাস্তার উন্নয়ন করতে গিয়ে হঠাৎ একটা লেনকে সাইকেল লেন বলে চালিয়ে দেওয়া হলো। এটা শুনলে পৃথিবীর যেকোন দেশের মানুষ হাসবে। অর্থাৎ লেন মানে এই লেন ধরে একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়া যাবে। কিন্তু আগারগাঁও থেকে সাইকেল লেনে শ্যামলী পর্যন্তও বের হওয়া যাবে না। লেনটা আর বেশি দূর নিয়ে যেতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।’

সিটি করপোরেশন এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে নগর পরিকল্পনার নকশা বা এ জাতীয় কোনো ডকুমেন্টস নেই বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন ইকবাল হাবিব। তিনি সাইকেল লেন বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

(ঢাকাটাইমস/২৬মে/কেএম/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :