ছেলে নাকি মেয়ে? অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে না পরীর

বিনোদন প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৩ জুন ২০২২, ০৯:১৮

একসময় তিনিও ছিলেন মায়ের গর্ভে। এরপর পৃথিবীতে এলেন। বেড়ে উঠলেন অজো পাড়াগায়ে। সেখান থেকে শহরে এসে হলেন চলচ্চিত্রের মস্তবড় নায়িকা। বিয়ে করে হয়েছেন স্ত্রীও। এখন আবার পেতে চলেছেন নতুন পরিচয়। মা হতে যাচ্ছেন পরী। না, তিনি রূপকথার পরী নন। ঢালিউড ‘কুইন’ পরীমনি।

গত ১০ জানুয়ারি আচমকাই মা হতে যাওয়ার খবর জানান আলোচিত এই চিত্রনায়িকা। এও জানান, তার অনাগত সন্তানের বাবা অভিনেতা শরিফুল রাজ। গত ১৭ অক্টোবর তারা গোপনে বিয়ে করেন। পরে ধুমধাম করে পরীমনির বনানীর বাড়িতে ফের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা পালন করেন।

এবার অভিনেত্রীর সংসারে নতুন সদস্য আসার অপেক্ষা। কবে শেষ হবে সেই অপেক্ষার প্রহর? ছেলে নাকি মেয়ে আসছে নায়িকার কোলজুড়ে?

এসব জানতে যোগাযোগ করা হয় পরীমনির সঙ্গে। তিনি ঢাকাটাইমসকে জানান, ‘অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ২৭ সপ্তাহ পার হয়েছে। ডাক্তার এখনো নির্দিষ্ট সময় দেননি। আশা করছি, আগামী ১০ কী ১২ সপ্তাহ পরই আমার সন্তান পৃথিবীতে আসবে। সেভাবেই মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে ছেলে না মেয়ে হবে, তা জানি না। জানতে চাইও না। আল্লাহ যা দেবে, তাতেই খুশি।’

অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘মাতৃত্বের প্রতিটা মুহূর্ত দারুণ উপভোগ করছি। শরীরের মধ্যে একটি নতুন প্রাণ প্রতি মুহূর্তে বেড়ে উঠার অনুভূতি আমাকে বারবার শিহরিত করছে। চিকিৎসক আমাকে সর্বোচ্চ সাবধানে চলাফেরা করতে বলেছেন। এই বিশেষ মুহূর্তে সিনেমা সংশ্লিষ্ট সব ধরণের কার্যক্রম একেবারে বন্ধ রেখেছি।’

স্বামীর প্রশংসা করে পরীমনি বলেন, ‘রাজ শতভাগ দেখভাল করছে। সারাক্ষণ আমার যত্ন নিচ্ছে। সোমবারও নিয়মিত চেকআপের জন্য নিয়ে গিয়েছিল হাসপাতালে। এছাড়া পছন্দের নানা ধরনের ডিশ নিয়মিত রান্না করে আমাকে খাওয়াচ্ছে।’

নায়িকা আরও জানান, ‘রাজ বাসায় থাকলে কিছুক্ষণ পর পরই ও আমার পেটে হাত দিয়ে বাবা বাবা বলে ডাকে। আমার সন্তান হয়তো বুঝতে পারে। কারণ রাজ ডাকলেই পেটের মধ্যে নড়াচড়া টের পাই। অনাগত সন্তানের কথা মনে করে মাঝে মাঝেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাই। এ যেন এক ভীষণ সুখের সময় পার করছি দুজনে।’

প্রসঙ্গত, গত ২৭ অক্টোবর পরীমনির সঙ্গে শরিফুল রাজের বিয়েটা হয়েছিল কোনো অনুষ্ঠান ছাড়াই, শুধু সাক্ষীদের উপস্থিতিতে। রাজদের আফতাবনগরের বাসায় হয়েছিল সেই বিয়ে। এরপর গত ২২ জানুয়ারি রাতে পরীমনির বনানীর বাসায় জাঁকজমক অনুষ্ঠান করে ফের তারা বিয়ে করেন।

ওই বিয়েতে দুই পরিবারের সদস্য এবং আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও শোবিজের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের দেনমোহর ধরা হয়েছিল ১০১ টাকা। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এটি পরীমনির পঞ্চম বিয়ে। অর্থাৎ, রাজকে কবুল বলার আগে এই নায়িকা আরও চারটি বিয়ে করেছিলেন।

মাত্র চার বছর বয়সে মা হারানোর পর পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের শিংখালী গ্রামে নানা বাড়িতে থাকতে শুরু করেন পরীমনি। পরবর্তীতে সেখানকার একটি স্কুল থেকে এসএসসি পাস করার পর খালাতো ভাই ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে নায়িকার বিয়ে হয়। দুই বছর টিকেছিল সে সংসার। (সূত্র: যুগান্তর। ৬ আগস্ট, ২০২১)।

এরপর ২০১২ সালের ২৮ এপ্রিল ফেরদৌস কবীর সৌরভ নামে এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয় পরীমনির। সৌরভ ছিলেন পেশায় ফুটবলার। বাড়ি যশোরের কেশবপুরে। দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে অভিনেত্রীর নাকি এখনও ডিভোর্সই হয়নি। তবে তারা আলাদা হয়েছেন বহু আগে। (সূত্র: কালের কণ্ঠ। ৫ আগস্ট ২০২১)।