ঈদের পরেও রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা চান ব্যবসায়ীরা

ওমর ফারুক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৩ জুন ২০২২, ১৭:৫৩

ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিশেষ বিবেচনায় দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সময় সাময়িক পরিবর্তন করে রাত ৮টার পরিবর্তে রাত ১০টা করার সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে তাদের দাবি, ঈদের পরেও যেন রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকার সিদ্ধান্ত বলবৎ রাখা হয়।

গত ১৯ জুন দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য রাত ৮টায় দোকানপাট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার, যা ২০ জুন থেকে কার্যকর হয়।

তবে সরকারের এমন সিদ্ধান্তে মনক্ষুন্ন ছিলেন ব্যবসায়ীরা। করোনা ভাইরাসের প্রকোপ কমার পর ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল ব্যবসায়ীরা। রাত ৮টায় বন্ধের সিদ্ধান্তে তাতে বাধা পড়ে।

সাধারণ বা উৎসবকেন্দ্রিক কেনাবেচায় মূলত সন্ধ্যার পরই অফিসফেরত ক্রেতাদের সমাগম শুরু হয়। ব্যবসায়ীরা সেই সময়ের জন্য অপেক্ষা করেন। ফলে রাত ৮টায় দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেশ লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছিল ব্যবসায়ীদের। তাদের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে দোকান মালিক সমিতি এবং ব্যবসায়ী নেতারা ঈদ উপলক্ষে আগামী ১ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত সব দোকানপাট আরও বেশি সময় খোলা রাখার অনুমতি চান। ফলে সরকার বিশেষ বিবেচনায় বন্ধের সময় রাত ৮টার পরিবর্তে ১০টা পর্যন্ত করে।

মোহাম্মদপুর টোকিও টাওয়ারের ব্যবসায়ী মেহেরুননিসা ঢাকাটাইমসকে বলেন, শপিংমলগুলো এমনিতেই নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধ হয়। রাত ৮টায় বন্ধের নির্দেশে এখন সন্ধ্যা ৭টার পর থেকেই শপিংমল খালি করা শুরু হয়। ফলে আমরা প্রচুর গ্রাহক হারাতাম। এখন ১০টায় বন্ধের নির্দেশে কিছুটা স্বস্তি ফিরল।

নিউমার্কেট এলাকার চাঁদনী চক মার্কেটের ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন ঢাকাটাইমসকে বলেন, বিশেষ সময়ে আমাদের ব্যবসা রাত ২টা পর্যন্তও চলতে থাকে। সামনে ঈদ। স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসা হবে। তবে ৮টায় বন্ধ করলে আমাদের রাতের বিক্রিটা মার যেতো। তাই ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্তে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা চাই, ঈদের পরেও ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ বজায় রাখা থাকুক।

এ প্রসঙ্গে নিউমার্কেট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন ঢাকাটাইমসকে বলেন, মূলত রাত ৮টায় বন্ধ করার সিদ্ধান্তে কিছু সমস্যা রয়েছে। ঢাকায় মূলত বেশিরভাগ অফিস ছুটি হয় বিকাল ৫টা থেকে ৬টার দিকে। সকালে বা দুপুরে ক্রেতারা তেমন একটা মার্কেটে আসে না। সচারচর বিকাল বা সন্ধ্যায় ক্রেতারা মার্কেটে আসেন।

সভাপতি বলেন, অফিসফেরত মানুষরাও সন্ধ্যায় মার্কেটে আসেন। এখন ৮টায় বন্ধ হলে শহরের জ্যাম ঠেলে আসা মানুষরা স্বভাবতই হতাশ হবেন, ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির শিকার হবেন। তাই ৮টায় দোকান বন্ধের নিয়মের পাশাপাশি অফিস ছুটিরও একটা নির্দিষ্ট সময় করা উচিৎ।

গত বুধবার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিশেষ বিবেচনায় আগামী ১ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত দোকানপাট, মার্কেট, বিপণিবিতান বন্ধের সময় সাময়িক পরিবর্তন করে রাত ৮টার পরিবর্তে ১০টা করার বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। বাংলাদেশ শ্রম আইনের ক্ষমতাবলে সাময়িক এ পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। তবে ১০ জুলাইয়ের পর থেকে রাত ৮টায় দোকানপাট, বিপণিবিতান বন্ধের বিষয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইনের ১১৪ এর উপধারা ৩ কঠোরভাবে মানা হবে বলে জানিয়েছে শ্রম মন্ত্রণালয়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ জুন শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে শ্রম মন্ত্রণালয় ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তর ও দক্ষিণ, এফবিসিআই, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতিসহ বিভিন্ন মালিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য রাত ৮টায় দোকানপাট বন্ধের বিষয়ে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয়। গত ২০ জুন থেকে সারা দেশে এ সিদ্ধান্ত কার্যকরও হয়।

কিন্তু ঈদুল আজহা সামনে রেখে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি আগামী ১ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত সব দোকানপাট বেশি সময় খোলা রাখার অনুমতি চান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দোকান খোলা রাখার সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় শ্রম মন্ত্রণালয়।

(ঢাকাটাইমস/২৩জুন/ওএফ/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :