শেখের বেটির ঘোষণায় অশ্রুসিক্ত হয়েছিলাম, ইউনূস স্যার

বানসুরি এম ইউসুফ
 | প্রকাশিত : ২৫ জুন ২০২২, ১৯:১৫

ড. ইউনুস স্যার, নিঃসন্দেহে আপনি মেধাবীদের একজন। যেদিন আপনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন, বাংলাদেশের বহু মানুষের সঙ্গে আমিও আনন্দে অশ্রুসিক্ত হয়েছিলাম।

বয়সের কারণে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ হারিয়ে আপনি যথাযথভাবে আইনের আশ্রয় নিয়েছিলেন। সর্বোচ্চ আদালতের রায় মেনে নিয়ে আপনার থামা উচিত ছিল। কিন্তু আপনি থামেননি।

ক্লিনটন লবির মাধ্যমে মধ্যস্থতার অস্ত্র হিসেবে বেছে নিলেন পদ্মা সেতু প্রকল্পকে। হয় গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ ফিরিয়ে দাও, না হয় পদ্মা সেতুর কথা ভুলে যাও। শুরু হলো মিথ্যা গল্প বানিয়ে পদ্মা সেতু থেকে বিশ্বব্যাংকের সরে যাওয়ার বাহানা।

পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন হবে কি হবে না, বাংলাদেশের গতানুগতিক সরকাররা এসব বিষয় থোড়াই কেয়ার করে। তবুও আপনি পদ্মা সেতু দিয়েই মধ্যস্থতা করতে চেয়েছেন। কারণ, আপনি তুখোড় মেধাবী। আপনি জানতেন, সরকার গতানুগতিক হলেও শেখের বেটির রক্তে শেখের মতোই দেশপ্রেম রয়েছে। তিনি এই এমডি পদের জন্য এত অত্যাবশ্যকীয় মেগা প্রজেক্ট খোয়াবেন না।

কিন্তু কাজ হলো না। আপনি এমডি পদ ফিরে পেলেন না। অতএব দরকষাকষি খেলতে খেলতে ফাইনালি বিশ্বব্যাংককে পদ্মা সেতু থেকে সরিয়ে দিলেন। শেখের বেটির অন্তরে একটা তীর ছুড়ে দিলেন।

এ দেশের সচেতন নাগরিকের কাছে সেদিন রাতারাতি আপনি নায়ক থেকে খলনায়ক বনে গেলেন। বার্গেনিং কিংবা হুমকি পর্যন্ত ঠিক ছিল, কিন্তু এত বড় একটা প্রয়োজনীয় মেগা প্রজেক্ট নস্যাৎ করে আপনি কোন দেশপ্রেমের পরিচয় দিলেন?

একদিকে আপনার দেশের সঙ্গে এই শত্রুতা, অন্যদিকে সরকারের ত্যাড়ামির কারণে মেগা প্রজেক্ট খোয়ানো, সব মিলিয়ে আমরা জনগণ একটা অস্থির সময় পার করছিলাম।

ঠিক সেই অস্থির সময়টাতে সংসদে দাঁড়িয়ে শেখের বেটি ঘোষণা করলেন, ‘পদ্মা সেতু হবে, আমাদের অর্থেই হবে।’ বহু মানুষের মতো সেদিন আমিও শিহরিত হয়েছিলাম, অশ্রুসিক্ত হয়েছিলাম। যেমনটা আপনার নোবেল বিজয়ের ঘোষণায় হয়েছিলাম, ড. ইউনূস স্যার।

লেখক: পরিচালক (উপসচিব), দুর্নীতি দমন কমিশন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফেসবুক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :