শিক্ষার্থীদের চোখে স্বপ্নের পদ্মা সেতু

শেখ সাইফ, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৫ জুন ২০২২, ১৯:২৭

বাংলাদেশের জন্য আজকে মহাআনন্দের দিন। এ এক ঐতিহাসিক বিজয়ের দিন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর বাঙালির আরেকটি মহাঅর্জন পদ্মা সেতু নির্মাণে সফলতা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় সাহসী পদক্ষেপ বাস্তবায়নের দিন এটি। দক্ষিণবঙ্গের মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীক স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন হলো আজ। এই আনন্দের জোয়ার বইছে সর্বত্র। পদ্মাসেতু নিয়ে আশা আকাঙ্ক্ষা, ভালোলাগার কথা জানিয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

পদ্মা সেতু নিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আল-আমিন ইসলাম আবিদ বলেন, নিঃসন্দেহে এটি বড় অর্জন। বাংলাদেশ আজ ব্যাপক সাফল্যের সাক্ষী হতে চলেছে। আমরা এটি দেখার জন্য দীর্ঘ সময়ের জন্য অপেক্ষা করছি এবং অবশেষে এটি আজ ঘটে গেল। আমাদের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ এই সুযোগে ধন্য হবে। হ্যাঁ, এটাই পদ্মা সেতু। একটি সাহসী উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান বলেন, পদ্মা সেতু আপনার কাছে কি বা কেমন তা আমি জানি না। কিন্তু পদ্মা সেতু আমার কাছে আমার মায়ের ভালোবাসা। আমার বাড়ি মাদারীপুর। মায়ের কাছে যেতে যে সময় বিড়ম্বনায় পড়তে হতো। মায়ের যে অপেক্ষা আর ফোনের পর ফোন। একটু পর পর তুই এখন কোথায়? এই অপেক্ষার অবসান হলো।

কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থী সজল বিশ্বাস বলেন, প্রমত্তা পদ্মায় অবিস্মরণীয় স্বপ্ন জয়ের গল্প পদ্মাসেতু। শত বাধা বিপত্তি, দেশি বিদেশি চক্রান্ত, উপহাস, গুজব, প্রাকৃতিক ও ভৌগলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সত্যি হয়েছে কোটি মানুষের স্বপ্ন। পদ্মাসেতু আজ আর কল্পনা নয়, প্রচণ্ড বাস্তব। আর এই মহাযজ্ঞ সম্পন্ন হয়েছে শুধুমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তা, সততা ও কঠোর সংকল্পের কারণে। বীর বাঙ্গালি ৭১-এ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে, কেউ তা হেঁট করতে পারবে না। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু জয় হোক জননেত্রী শেখ হাসিনার।

বোরহান উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থী শিরিন শীলা আক্তার বলেন, আজকে পদ্মা সেতু উদ্বোধন আর আজকে আমার “জন্মদিন”আমি নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করছি। সারাজীবন আমার জীবনের সঙ্গে এই স্মৃতি অমলিন হয়ে থাকবে।

ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী রুবাইয়া ইসলাম রীতি বলেন, আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতুর আজ শুভ উদ্বোধন। ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। ইনশাআল্লাহ এই পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে এখন থেকে যশোরে যেতে পারব।

তিতুমীর কলেজের সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক মাজেদুল ইসলাম বলেন, স্বপ্নের এই পদ্মা সেতুকে ঘিরে কতো স্মৃতি রয়েছে তার শেষ নেই। করোনা মহামারীর মধ্যে যখন পুরো বিশ্ব দিশেহারা তখনও বাঙালির আশা পূরণে পুরোদমে এগিয়ে চলছিলো পদ্মা সেতুর নির্মান কাজ। করোনা মহামারির মধ্যেও সংবাদকর্মী হিসেবে সরেজমিনে সেতুর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনের অংশবিশেষ। রাত পোহালেই বাঙালির স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে নিজেকে এই মাইলফলকের সঙ্গে সামিল করতে পেরে আজ এক অন্যরকম অনুভূতি ও ভালো লাগা কাজ করছে। বাঙালিকে দাবিয়ে রাখার দুঃসাধ্য কারো নেই পদ্মা সেতু তারই একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে ।

নরসিংদী কলেজের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন বলেন, পদ্মার পাড় নয় পুরো বাংলাদেশ আজ আলোকিত। অসম্ভবের পাশে ফুটে উঠছে আলো। সে আলোতে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে দূরের আকাশ। ঢেউয়ের মাথায় আজ রাতের তারার মাতামাতি। দেখো সূর্যোদয় ও জোৎস্নায় আমরা পার হয়ে যাচ্ছি সেতু। আমাদের এই গল্প শেখ হাসিনার হাতে এখন। ইতিহাস হয়ে গেছে বহু বছর পরে আরেকটি বিজয় পার হয়ে যাচ্ছে খরস্রোতা পদ্মা নৌকা, ভাটিয়ালি, ফেরিঘাট, জাহাজের ভেঁপু ছুঁয়ে ছুঁয়ে স্বপ্নের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে দুই তীরের বন্ধন ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশের ছুটে চলা। এই রূপালি রূপকে কুয়াশা, শিশির, ধূলিকণা, বৃষ্টি ও রৌদ্র কিরণে আমাদের সাহস ও গৌরব পাড়ি দিচ্ছে পদ্মা সেতু।

যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজের শিক্ষার্থী বাদল রহমান স্মৃতিচারণে বলেন, কোনো এক ঈদে ঢাকা থেকে মাওয়া ফেরি ঘাটে যেতে সময় লেগেছিলো মাত্র ৪০ মিনিট। আর ফেরিতে উঠতে সময় লেগেছে ৮ ঘন্টা। সাথে বাইক থাকার কারণে নদী লঞ্চ স্পিড বোট যেতে পারিনি। আর এখন সেসব হবে শুধু স্মৃতি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইবনে খান বলেন, এই একটা সেতুর অভাবে কত মানুষ পদ্মায় ডুবে মারা গেছেন,কত মানুষ অ্যাম্বুলেন্সে থাকা অবস্থাতেই মারা গেছেন,কত মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা ফেরি তে সময় নস্ট করে দিয়েছে। সেই সেতুকে নিয়েও আপনারা হাসি ঠাট্টা তামাশা করেন তাহলে বুঝেন আমরা মানুষিক ভাবে কতটা বিকারগ্রস্ত! দেশের এই অর্জনে যদি গর্বিত না হন। তাহলে টাকা খরচ করে আরেক দেশে তাজমহল, আইফেল টাওয়ার,হিমালয় দেখতে যাওয়া বন্ধ করে দেন! দেশের অভূতপূর্ব এই অর্জনে আমি গর্বিত আপনি না হলেও দেশ বা জাতির কিছু আসে যায় না! আমি গর্বিত।

মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী রহমান রানা বলেন, একটা সময় দেশের বাইরে বাংলাদেশের পরিচয় দিতে গিয়ে বলতে হতো ইন্ডিয়ার পাশের দেশ। বিমান বন্দরগুলোতে বাংলাদেশের পাসপোর্ট দেখে চোখ বাঁকা করে তাকাতো ইমিগ্রেশনের লোকজন। বাংলাদেশের অর্থনীতি পরনির্ভরশীলতা কাটিয়ে কিছুটা হলেও স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে। আমরা এখন বুক ফুলিয়ে বলতে পারবো ইন্ডিয়া আমাদের পাশের দেশ।

কুমিল্লা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সাইফ বাবু বলেন, কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবানা দূর্নিবার বাংলাদেশের অদম্য অগ্রযাত্রার প্রতিক আমাদের পদ্মা সেতু,যা এখন স্বপ্ন নয়,সত্যি। আমাদের একজন শেখ হাসিনা আছেন বলেই আজ স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাস্তব। ধন্যবাদ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । এগিয়ে যাক বাংলাদেশ।

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী সাব্বির আহসান বলেন, "এই সেতু শুধু সেতু নয়, ইট, সিমেন্ট, কংক্রিটের স্থাপনা নয়, এই সেতু আমাদের অহঙ্কার, আমাদের গর্ব, এই সেতু আমাদের শক্তিমত্তা আর মর্যাদার প্রতীক।" মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আপনাকে হৃদয় থেকে ধন্যবাদ।

(ঢাকাটাইমস/২৫জুন/এসকেএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :