পুরোনো টুইটে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ভারতে সাংবাদিক গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৮ জুন ২০২২, ১৩:২০ | প্রকাশিত : ২৮ জুন ২০২২, ১১:০২

২০১৮ সালে একটি টুইট পোস্টের কারণে অল্ট নিউজের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ জুবায়েরকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের দিল্লি পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ হচ্ছে জুবায়ের ওই পোস্টের মাধ্যমে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছেন।

আলজাজিরা জানায়, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় জুবায়েরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া, তাকে একদিনের রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছে।

চলতি মাসে একজন অভিযোগকারী জুবায়েরের বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্মকে অপমান করেছেস বলে অভিযোগ করে। তার মতে, ৩৯ বছর বয়সী মুসলিম সাংবাদিক জুবায়ের একটি হোটেলের নাম বদলে হিন্দু ধর্মের দেবতা হনুমানের নামে রাখায় তা নিয়ে টুইটারে মন্তব্য করেন। এর মাধ্যমে তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অপমান করেছেন।

আলজাজিরার কাছে দিল্লি পুলিশের মুখপাত্র সুমন নাওলা জুবায়েরের আটকের ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভারতীয় দণ্ডবিধি ১৫৩ ধারা ও ২৯৫ এ ধারা অনুসারে জুবায়েরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

১৫৩ ধারা হচ্ছে দাঙ্গা সংঘটিত করার লক্ষ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে উস্কানি দেওয়া। আর ২৮৫ এ ধারা হচ্ছে ধর্মীয় অনুভূতি আক্রমণাত্মক হওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃত ও হিংসাত্মক কাজ।

অন্যদিকে অভিযোগের পাঁচ দিন পর জুবায়ের ভারতীয় আইন ভঙ্গ করেছেন বলে ভারত সরকারের নিকট থেকে টুইটার কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি করা হয়।

অল্ট-নিউজের আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা প্রতীক সিনহা এক টুইট পোস্টে জানান, জুবায়েরকে আটকের পূর্বে তাকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি।

সিনহা লিখেন, ‘জুবায়েরের শারীরিক পরীক্ষার পরে তাকে একটি গোপন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। এমনকি তার আইনজীবী বা আমি কেউ জানি না, তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা একটি পুলিশ ভ্যানে তার সঙ্গে ছিলাম। কোন পুলিশ কর্মকর্তার শরীরে তাদের নামের ট্যাগ জাতীয় কিছু লাগানো ছিল না ।’

সিনহার পোস্টের বিষয়ে আল জাজিরার পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে দিল্লি পুলিশের মুখপাত্র জানান, তিনি টুইটটি দেখেননি এবং এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করবেন না।

জুবায়ের বেঙ্গালুরুর একটি আইটি হাবে টেলিকম ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। আর সিনহা আহমেদাবাদে একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। ২০১৭ সালে উভয়ে অল্ট-নিউজ নামে একটি ফ্যাক্ট চ্যাকিং ওয়েবসাইট চালু করেন।

তারপর থেকেই বহু ভুয়া খবরের সত্যতা প্রদান করে অল্ট-নিউজ। এসব ভুয়া খবরের অধিকাংশই ছিল ক্ষমতাসীন বিজেপি বা তার সমর্থকদের পোস্ট। এ কারণে তাদের উপর বিজেপি সমর্থকদের ক্ষোভ ছিল বলে জানিয়েছে দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

বিজেপি সমর্থকদের ভুয়া খবরের সত্যতা প্রকাশের জেরে জুবায়ের ও সিনহা নিয়মিত অনলাইনে ট্রলের শিকার হতেন।

জুবায়েরের আটকের ঘটনার তীব্র সমালোচনা জানিয়েছে বিরোধী দল, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা। তারা দ্রুত তার মুক্তির দাবি জানিয়েছে। আর পুলিশের এই ধরনের পদক্ষেপ ‘সত্যের ওপর হামলা’ বলে দাবি করেছেন।

চলতি বছর রিপোটার্স উইদাউট বর্ডাসের (আরএসএফ) এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সূচকে ভারতের অবস্থান ১৫০তম।

গত মাসে বিশ্ব সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দিবসে ১০টি মানবাধিকার সংগঠন সরকারের নীতির সমালোচনার কারণে সাংবাদিক ও সমালোচনাকারীদের কঠোর আইনের দ্বারা বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে বলে দাবি করেছিল।

(ঢাকাটাইমস/২৮জুন/আরআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :