ঢাকায় পর্তুগালের মিশন খুলতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান

রনি মোহাম্মদ, পর্তুগাল
 | প্রকাশিত : ০২ জুলাই ২০২২, ২০:৫৬

পর্তুগালের সব ধরনের ভিসা আবেদন গ্রহণের জন্য ঢাকায় দূতাবাস কিংবা একটি কনস্যুলার সার্ভিস সেন্টার খুলতে পর্তুগালের প্রতি আহবান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

শুক্রবার বিকালে পর্তুগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. জোয়াও গোমেজ ক্রাবিনহোর সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ড. মোমেন এই আহ্বান জানান। পর্তুগাল ও কেনিয়ার যৌথ-আয়োজনে চলমান দ্বিতীয় জাতিসংঘ মহাসাগর সম্মেলনের মাঝে দুই দেশের মধ্যে বৈঠকটি হয়, যা দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের প্রথম দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক।

এছাড়াও ষোড়শ শতকের গোড়ার দিকে বাংলাদেশ ও পর্তুগালের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ গত ১০ বছর ধরে লিসবনে বাংলাদেশ দূতাবাস পরিচালনা করে আসছে এবং সম্প্রতি মিশনটির স্থায়ী জমি ক্রয় করে নিজস্ব ভবনে দূতাবাস পরিচালনা করছে।

আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ ও পর্তুগালের দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার উপায় বের করতে ড. মোমেন মতামত ব্যক্ত করে বলেন, বন্ধুপ্রতীম দেশ দুটির উচিত তাদের পারস্পারিক স্বার্থে ইতিহাসের এই ইতিবাচক সম্পর্কের ভিত্তিতে বর্তমান সময়ে সহযোগিতার আরও জোরদার করা। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, মানবসম্পদ, সমুদ্র অর্থনীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগের মতো ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতার ওপর জোর দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বিশেষত নারী ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার পাশাপাশি দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ব্যাপারে পর্তুগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবগত করেন ড. মোমেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে বিশ্বের অন্যতম প্রমত্তা নদীর ওপর সদ্য-উদ্বোধনকৃত পদ্মাসেতু, নতুন বাংলাদেশের প্রতীক। এই বাংলাদেশ সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সক্ষম। পর্তুগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে তার দেশের ইচ্ছের কথা প্রকাশ করেন।

পর্তুগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরামর্শগুলো শুনেন এবং এর ওপর কাজ করার আশ্বাস দেন। তিনি বাংলাদেশি প্রবাসীদের পর্তুগাল সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং পর্তুগালের অর্থনীতিতে তারা অবদান রাখছে বলে অভিহিত করেন।

উভয় দেশই দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক পর্যায়ে ‘জলবায়ু শরণার্থী’পুনর্বাসনের মতো জলাবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এক সাথে কাজ করতেও সম্মত হয়। দুই মন্ত্রী আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উন্নয়নের বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

বৈঠকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক প্লাটফরমে পর্তুগাল ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরের জন্য পর্তুগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানালে তিনি সাদরে তা গ্রহণ করেন।

বৈঠকে লিসবনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারিক আহসান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমুদ্র সম্পর্কিত ইউনিটের সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব) খুরশেদ আলম ও অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস/০২জুলাই/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :