টিকিট কালোবাজারি

র‌্যাব-৩ এর অভিযানে স্বস্তি ফিরেছে কমলাপুর রেল স্টেশনে

আবদুল হামিদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২২, ২২:৩০ | প্রকাশিত : ০৬ জুলাই ২০২২, ২২:২৭

ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশনে টিকিট কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে র‌্যাব-৩ এর অভিযানে স্বস্তি ফিরেছে। মঙ্গলবার সকালে কমলাপুর রেল স্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে তার সত্যতা মেলে। এসময় দেখা যায়, কোনো প্রকার চাপ ছাড়ায় টিকিট কাটছেন সাধারণ যাত্রীরা। অনেকেই টিকিট কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের এই অভিযানকে স্বাগত জানান।

ইদুল ফিতরেও যেখানে আগের দিন থেকে দাঁড়িয়ে থেকে টিকিট পেতে হয়। সেখানে এবার সকালে লাইনে দাঁড়িয়ে গন্তব্যের টিকিট পেয়ে উচ্ছাসিত ঘরমুখি সাধারণ মানুষ। গত ১ জুলাই থেকে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে নির্বিঘ্নে যাতায়াতের জন্য রেলে আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। তবে এই টিকিট কালোবাজারিদের দৌঁড়াতে ঘরমুখী মানুষের টিকিট পেতে ভোগান্তির অন্ত ছিল না।

গত দুই দিন (মঙ্গলবার-বুধবার) কমলাপুর রেলস্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, টিকিট প্রত্যাশীদের দীর্ঘ সারি নেই। ১ জুলাই টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার পর থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত রেলস্টেশনে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। সেই তুলনায় গত দুইদিন কাউন্টারে যাত্রীদের কোনো ভিড় নেয়। স্বস্তিও লক্ষ্য করা গেছে টিকিট প্রত্যাশীদের মাঝে।

টিকিট কিনতে আসা সোহাগ ঢাকা টাইমসকে বলেন, কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রীদের নেই চাপ। আমি গত সোমবার আসছিলাম জামালপুরের টিকিট কিনতে। কিন্তু মানুষের ঢল দেখে বাসায় ফিরে গিয়েছিলাম। তবে মঙ্গলবার আসার পর দেখি, যাত্রীদের চাপ নেই। খুব সহজে ট্রেনের টিকিট কিনেছি।

কমলাপুর রেল স্টেশনে টিকিট কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালায় র‌্যাব-৩। টিকিট বিক্রির সময় হাতে নাতে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে সংস্থাটি। এরপর থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশনে সাধারণ মানুষের টিকিট পেতে স্বস্তি ফিরেছে। নিবিগ্নে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া যেকোনো ট্রেনের টিকিট পাচ্ছে যাত্রীরা।

র‌্যাবের এক কর্মকর্তা ঢাকা টাইমসকে বলেন, অনলাইন এবং কাউন্টার থেকে সাধারণ মানুষ সংগ্রহ করার ও ব্যবস্থা থাকলেও, এই দোলা চালানোর মধ্যে ৪৫ শতাংশ টিকিট চলে যাচ্ছিল কালোবাজারিদের হাতে। পরে তারা ট্রেন ছাড়ার আগে স্টেশনে ঘুরে বা বিভিন্ন লিংকের মাধ্যমে চড়া দামে বিক্রি করত।

আব্দুল বারেক স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে থাকেন মিরপুর-১০। চাকরি করেন একটি বেসরকারি কোম্পানিতে। গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা কলারোয়ায়। বুধবার ফজরের পরে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে টিকিট কাটার জন্য কমলাপুর রেল স্টেশনে ছুটে আসেন।

আব্দুল বারেক ঢাকাটাইমসকে বলেন, আজ কয়দিন ধরেই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে শুনছি কমলাপুর স্টেশন টিকিট দীর্ঘ লাইনসহ জালিয়াতির বিষয়টি। তবে সোমবার জানতে পারি রেলস্টেশন টিকিট কালোবাজারি মুক্ত এবং কোন প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। তাই সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে আসতে আসতে ছয়টা বেজে যায়। এসে লাইনে দাঁড়িয়ে দেখি আমার সামনে ১০ থেকে ১৫ জন দাঁড়িয়ে আছে। ৩০ মিনিটের মধ্যে কোন প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই আমি টিকিট পেয়েছি। এতে খুবই আনন্দিত এবং র‌্যাবের এ ধরনের কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে অভিযানকে আমরা শ্রদ্ধা জানাই, সম্মান করি।

আরিফুর রহমান আরিফ, সানজিদা আক্তার, রুবেল ও কাইয়ুমের সঙ্গে একই বিষয়ে নিয়ে কথা হলে তারাও স্বস্তির কথাটি বলেন। এছাড়া র‌্যাবের টিকিট কালোবাজারিদের বিরোধী অভিযানকে স্বাগত জানান তারা।

রাবেরে কর্মকর্তা নাম প্রকার না করার শর্তে বলেন, অন্যবার স্টেশনের কর্মকর্তা যা সহ বিভিন্ন লোকজনে কালোবাজারি করে টিকিট সংগ্রহ করতেন। পরে চড়া দামে বিক্রি করত তারা। কিন্তু এবার আইন-শৃঙ্খ বাহিনী আগে থেকেই সতর্ক থাকায় তারা সেই সুযোগ পায়নি।

জানা যায়, নিদিষ্ট তারিখের আগের দিন থেকে অসাধু কর্মকর্তারা স্টেশনের ভাসমান ছেলে পেলেসহ স্টেশনের সুইপার, ঝাড়ুদার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখছেন। পরে তাদের এনআইডি কার্ড দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করে কালোবাজারে বিক্রি করে আসছে। তবে সোমবার রাত্রের অভিযানের পর সবাই নড়েচড়ে বসেছে। গত দুইদিন আর এই ধরনের লোকজনকে লাইনে দাঁড় করিয়ে টিকিট না কাটায় সাধারণ মানুষ খুব সহজে টিকিট পাচ্ছে। এছাড়াও কোন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না সাধারণ মানুষের।

কমলাপুর স্টেশন মর্গে কাজ করা এক যুবক ঢাকা টাইমসকে বলেন, আমরা প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জন করে লাইনে দাঁড়িয়ে সিরিয়াল ধরে রাখি। সকালে টিকিট ছাড়ার আগে কাউকে সিরিয়ালের জন্য পেলে তার কাছে হাজার পনেরশো টাকায় সিরিয়াল বিক্রি করে দেয়। অথবা টিকিট কেটে স্টেশনের আশপাশের দোকানে দিয়ে বিক্রি করি। কিন্তু গত দুই দিন ধরে সব বন্ধ রয়েছে। কমলাপুর থেকে আমাদের কয়েকজনকে ধরে নিয়ে গেছে র‌্যাবে। এখন আর ভয়ে কেউ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটছে না।

টিকিট কালোবাজারিতে স্টেশনের লোকজনের সংশ্লিষ্ট আছে। এ বিষয়টি জানতে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার ব্যক্তিগত ফোনে একাধিকবার ফোন করেও তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে এ বিষয়ে স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন ঢাকাটাইমকে বলেন, আমি কিছুই জানি না। এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।

র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, র‌্যাবের একটি টিম সার্বক্ষণিক কমলাপুর রেল স্টেশনের নিরাপত্তাসহ টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে কাজ করছে। কমলাপুর রেল স্টেশনে কোনো প্রকার টিকিট কালোবাজারি করতে দেয়া হবে না। আমাদের সাঁড়াশি অভিযান চলমান থাকবে।

ইদুল ফিতরের সময় রেজাউল করিম রাজা নামে সহজের সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে পরের দিন সহজ লিমিটেড থেকে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। চলতি বছরের গত ২৬ মার্চ সহজ, ভিনসেন ও সিনোসিস জয়েন্ট ভেঞ্চার রেল টিকিটের দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম ইদের টিকিট নিয়ে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি। ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রির শুরুর দিন থেকেই অনলাইনে টিকিট কিনতে না পারা, স্বল্প সময়ের মধ্যে টিকিট ফুরিয়ে যাওয়া, কাউন্টারে দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট না পাওয়াসহ নানা অভিযোগ করে আসছেন যাত্রীরা।

(ঢাকাটাইমস/০৬জুলাই/এএইচ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :