অশ্রুঝরা আগস্ট: বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের সেমিনার

অনলাইন ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ১৪ আগস্ট ২০২২, ২১:৩১

১৫ই আগস্ট শোক দিবসের শক্তি থেকে উঠে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম। রবিবার বিকালে রাজধানী জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘অশ্রুঝরা আগস্টে শোকসঞ্জাত শক্তির অন্বেষা’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক মীজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আর্দশকে মুছে ফেলে, দেশকে দ্বিতীয় পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলো স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিরা।

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানিরা ২৫ বছর ধরে হত্যার চেষ্টা করেও পারেনি। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে মাত্র মাত্র তিন বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে কেন হত্যা করার প্রয়োজন হলো। কারণ, তিনি শোষিত মানুষের পক্ষে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। আর এর বিপক্ষে যে শক্তি ছিল তারা তা মেনে নিতে চায়নি। তাই তাকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছে।

দেশ আগের তুলনায় অনেক ভালো চলছে মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বহির্বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে আছে এখনো। রাস্তায় হারিকেন নিয়ে কেউ নামলেও দেশ শ্রীলংকা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

দীপু মনি বলেন, ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেড়ে ওঠা নেতৃত্ব দেশকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা করছে। বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে পুঁজি করে দেশে স্বাধীনতা বিরোধী পক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিদ্যুতের সংকটকে সামনে রেখে জনগণের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বঙ্গবন্ধুর আর্দশকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ২০০৮ সালের আগে দেশের মানুষ দুই-তিন ঘন্টা বিদ্যুৎ পেয়েছে কিনা মনে করতে পারবে না কিন্তু মানুষ এখন ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার করে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। এজন্য দেশের মানুষ এখন উন্নয়নের ছোঁয়ায় প্রতিনিয়ত নিজেদেরকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে কেবল একটি অভ্যুত্থান ছিল না। এটি ছিল ১৫ আগস্টের সামরিক অভ্যুত্থান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১৯৮১ সালে দেশে আসার মধ্য দিয়ে পুনরায় দেশকে নতুন করে শুরু করেছেন। কিন্তু প্রতিবারের মতো এবারও নির্বাচনের আগে গণতন্ত্র মঞ্চের মতো একটি পক্ষ দেশের সার্বভৌমত্ব কে অনিশ্চয়তায় ঠেলে দিচ্ছে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে কলামিস্ট ও সিনিয়র সাংবাদিক বিভু রঞ্জন সরকার বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসার কথা ছিল। কিন্তু ১৪ই আগস্ট দিবাগত রাত থেকে ক্যাম্পাসে একটি মহল বোমা হামলাসহ ও পরিস্থিতি পরিবেশকে ঠেলে ক্যাম্পাসকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পারে এটা যেমন কেউ বিশ্বাস করত না। তেমনি ভাবে বঙ্গবন্ধু নিজেও বিশ্বাস করেননি, যারা স্বাধীন স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করেন না। তারাই ১৫ আগস্টের মতো গৃহীত ইতিহাস রচনা করেছেন।

স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস বলেন, আমরা শোক কাটিয়ে ঘুরে দাড়ানোর জন্য এই আয়োজন করেছি। আমরা চাই বাংলাদেশ এখন এগিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিকুল ইসলাম বলেন, আমি দীর্ঘ ৬৪ বছর ধরে বঙ্গবন্ধুকে কাছ থেকে দেখেছি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে কেউ এইভাবে হত্যা করতে পারে তা কখনো ভাবিনি। দেশে ১৫ আগস্ট একদিনে হয়নি। এটা ছিল একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান বলেন, মাত্র দুই সপ্তাহ হয়েছে দেশে দ্রব্যমূল্যের উদ্যগতি হয়েছে। কিন্তু একটি মহল যারা দেশকে দীর্ঘ ২১ বছর পিছিয়ে দিয়েছে, তারা আবার ১৫ আগস্ট এর মতো আরেকটি ঘটনা ঘটাবার চেষ্টা করছে। তা না হলে আগস্ট মাসে আমাদের দেশের সর্বোচ্চ মেধাবী শিক্ষার্থীরা এইভাবে ছাত্রলীগ বিরোধী স্লোগান দিত না। আগস্ট মাসের বরাবরের মতো একটি শক্তি মুক্তিযুদ্ধ চেতনাকে ধ্বংস করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যায়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, বঙ্গবন্ধুকে কেন হত্যা করা হয়েছে। তা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে সংগ্রাম ও মুক্তি এ দুটি কথা কেন বলেছেন। তা আমাদের উপলব্ধি করতে হবে। সব বিশ্বনেতা থেকে বঙ্গবন্ধু ছিলেন সম্পূর্ণ আলাদা। এই জন্য সাম্রাজ্যবাদ পক্ষে লোকেরা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে বিপদজনক মনে করেছেন। বঙ্গবন্ধু যদি আর ১০-১৫ বছর রাজনীতি করে যেতে পারতেন, তাহলে দক্ষিণ এশিয়া অনেক দূর এগিয়ে যেতেন৷

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবদুর রশিদ বলেন, ১০ বছরের শিশু সন্তান শেখ রাসেলকে হত্যা করা হয়। এটা ছিল অত্যন্ত ঘৃর্ণীত অপরাধ। যা পৃথিবীর অন্য কোথাও নেই। দেশের একদল মানুষ শোকের মাস আগস্ট এলেই মনে হয় আগস্ট বিপ্লবী মেতে উঠে। তাই বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামকে দেশের বর্তমান চিত্র তুলে ধরার জন্য আহবান করছি।

বিশেষ অতিথি বক্তব্যে বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. রশিদ আসকারী বলেন, পৃথিবীর যতগুলো রাজনীতিবিদকে হত্যা করা হয় তার কোনটির সাথে ১৫ আগস্টের মতো ছিল না। বিশ্ববাজারে অস্থিরতা দেখে নিন্দুকেরা কটু কথা বলবে। কিন্তু দেশ কখনো শ্রীলঙ্কা হতে পারে না।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকাটাইমস/১৪আগস্ট/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :