এমপি লিটন হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা কোথায়?

আশিক আহমেদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২২, ০৯:২৮ | প্রকাশিত : ১৯ আগস্ট ২০২২, ০৯:১৮

২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর নিজ বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। ক্ষমতাসীন দলের এই সংসদ সদস্যকে হত্যার প্রায় ছয় বছর হতে চলল। নিম্ন আদালতে মামলার রায়ও হয়েছে। ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী সাবেক এমপি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আবদুল কাদের খানসহ সাত জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন আদালত। কিন্তু এখনও মামলাটির ডেথরেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিল শুনানি শুরু হয়নি। কবে এই শুনানি হবে সেটা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউ।

মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- গাইবান্ধা-১ আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ডা. আবদুল কাদের খান, তার পিএস শামছুজ্জোহা, গাড়িচালক হান্নান, ভাতিজা মেহেদী হাসান, শাহীন মিয়া, রানা ও চন্দন কুমার রায়। এদের মধ্যে চন্দন কুমার রায় পলাতক। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। মামলার অপর আসামি সুবল কসাই কারাগারে অসুস্থ অবস্থায় মারা যান।

দণ্ডপ্রাপ্ত বাকি সব আসামি কারাগারে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন গাইবান্ধার জেলা দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের সাবেক আইনজীবী শফিকুল ইসলাম শফিক। তবে আসামিরা কোন কারাগারে রয়েছেন সেটা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এমপি লিটন হত্যা মামলার আসামি আনোয়ারুল ইসলাম রানা এবং শাহীন মিয়া ওরফে শান্ত আমাদের কারাগারে আছেন। আর অন্য আসামিরা নেই।’

তাহলে মামলার প্রধান আসামি আবদুল কাদের খানসহ অন্য আসামিরা কোন কারাগারে আছেন এমন প্রশ্নের জবাবে এই কারা কর্মকর্তা বলেন, ‘সম্ভবত কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে থাকতে পারেন।’

পরে কাশিমপুর হাইসিকিরিটি কারাগারের জেল সুপারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘গাইবান্ধার এমপি লিটন হত্যা মামলার কোনো আসামি আমাদের কারাগারে নেই।’

২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জ সর্বানন্দ ইউনিয়নের মাস্টারপাড়ার নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তের গুলিতে খুন হন মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। দুই মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আট জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন লিটনের বড় বোন ফাহমিদা কাকুলী বুলবুল। তদন্ত শেষে কাদের খানসহ আট জনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় পুলিশ।

২০১৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার বাসা থেকে মামলার প্রধান আসামি আবদুল কাদের খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ দুটি মামলা করে। একটি অস্ত্র মামলা ও অপরটি হত্যা মামলা। ইতিমধ্যে অস্ত্র মামলার রায়ে একমাত্র আসামি ওই আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি আবদুল কাদের খানকে গত ১২ জুন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

এই মামলায় কাদের এবং পলাতক চন্দন কুমার রায় ছাড়া অন্য পাঁচ আসামি শামছুজ্জোহা, হান্নান, মেহেদি, শাহীন, রানা হত্যাকাণ্ডে তাদের জড়িত থাকার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

২০১৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় অভিযোগ গঠন করেন আদালতের বিচারক। ২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। বাদী লিটনের বড় বোন ফাহমিদা কাকুলী বুলবুল, নিহতের স্ত্রী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৫৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।

২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শেষ হয়। ২০১৯ সালের ২৯ নভেম্বর গাইবান্ধা-১ আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ডা. আবদুল কাদের খান, তার পিএস শামছুজ্জোহা, গাড়িচালক হান্নান, ভাতিজা মেহেদী হাসান, শাহীন মিয়া, রানা ও চন্দন কুমার রায় নামের সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। আর সুবল রায় নামের এক আসামি কারাগারে মারা যান।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধার সাবেক সরকারি কৌঁসুলি মো. শফিকুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘হত্যা মামলার রায় ঘোষণা পরই আসামিরা আপিল করেছেন। কিন্তু এখনও আপিল শুনানি হয়নি। এমপি লিটনের স্ত্রী মাঝেমধ্যে আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে এখনও শুনানি হয়নি। আর কবে হবে সেটাও বলতে পারছি না।’

(ঢাকাটাইমস/১৯আগস্ট/এএ/এফএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :