ডিমের কারসাজিতে সাভারের দুই ব্যবসায়ীর হাত!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৯ আগস্ট ২০২২, ২১:১৯

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও পোল্ট্রি ফিডের সংকটের অজুহাতে বিভিন্ন দ্রব্যের মতো ডিমের বাজারও অস্থির হয়ে উঠে বলে প্রচার ছিল। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, ডিমের বাজার অস্থির করার পেছনে ছিল সাভারের দুই বড় ব্যবসায়ী। তারা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির হুজুগ কাজে লাগিয়ে খামারিদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কমিশন পেতে এই কাজটি করেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ এই চক্রের কারসাজিতে অস্বাভাবিক দাম বাড়ে ডিমের। পরে প্রশাসনের অভিযান ও মন্ত্রীর ডিম আমদানির হুঁশিয়ারির পর তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি সক্রিয় হলে চক্রটি নিরস্ত হয়।

এদিকে অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির পর ডিমের বাজারগুলোতে ক্রেতাদের চাহিদা কমে যায়। শুক্রবার খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতা বা ভোক্তা পর্যায়ে ডিমের চাহিদা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এসব মিলিয়ে ডিমের বাজারে কিছুটা দাম পড়তির দিকে। হালিতে দাম কমেছে তিন টাকা।

বাজারে বিভিন্ন পণ্যমূল্যের অস্থিতিশীলতাকে পুঁজি করে গত সপ্তাহ খানেক ধরে ডিমের দামে যে অস্থিরতা, তা তৈরি করেন সাভারের আশুলিয়ার দুজন ব্যবসায়ী। তারা হলো- ফয়সাল এন্টারপ্রাইজ এবং রিপন এগ সেন্টার।

জানা গেছে, ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণ হয় কাজী ফার্মস, ডায়মন্ড এবং প্যারাগনের মতো বড় খামারিদের হাত ধরে। তাদের ডিম উৎপাদন বেশি বলে ডিমের দাম নির্ধারণ হয় অনলাইন নিলাম কিংবা একে-অপরের সঙ্গে সমন্বয় করে।

গত ১৩ আগস্ট ফয়সাল এন্টারপ্রাইজ এবং রিপন এগ সেন্টার কাজী ফার্মস থেকে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ডিম কেনার ফলেই হঠাৎ বেড়ে যায় ডিমের দাম। সংকটের বাজারে বাড়তি দামে ডিম বিক্রি করে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অতিরিক্ত কমিশন পেতেই এমনটা করেন ওই দুই ব্যবসায়ী।

সাভার বাসস্ট্যান্ডের আনিসুর রহমান রিপনের মালিকানাধীন রিপন এগ সেন্টারে গিয়ে সেখানে প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ডিমের কারসাজি করেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

আর আশুলিয়ার ফয়সাল এন্টারপ্রাইজের মালিক ফয়সাল সরকার কারসাজির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে খামারি পর্যায়ে ডিমের বাড়তি মূল্য দেখে বাজার ধরে রাখতে তিনি ডিমের বাড়তি মূল্য হাঁকেন বলে স্বীকার করেন।

ফয়সাল সরকার দাবি করেন, এমনিতেই ডিমের বাজার অস্থির ছিল। পাইকারদের চাহিদা মেটাতেই বড় ফার্মগুলো থেকে অতিরিক্ত দামে বিট করে ডিম কেনেন তিনি। ডিমের বাজারের বর্তমান হাল

এদিকে ডিমের দাম হালিতে তিন টাকা এবং ডজনে ৯-১০ টাকা কমলেও ক্রেতা বা ভোক্তা পর্যায়ে চাহিদা কমে যাওয়ার ফলে বিক্রেতারাও কমিয়ে দিয়েছেন ডিম কেনা। ক্রেতারা বলছেন পর্যাপ্ত পরিমাণে কমেনি ডিমের দাম।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর দফায় দফায় বাড়ে ডিমের দাম। ১১৫ টাকার প্রতি ডজন ডিম বেড়ে হয়ে যায় ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। এরপর বাজারে ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কয়েকটি সংস্থা অভিযান শুরু করে।

সরকারি সংস্থার অভিযান এবং ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি কমে যাওয়ায় রাজধানীর বাজারগুলোতে দাম কমে এখন ডিমের ডজন ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর দোকানে খুচরা প্রতিটি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২ টাকায়। দু-তিন দিন আগে বেড়ে হয়েছিল ১৬ টাকা পর্যন্ত। দেশের ইতিহাসে ডিমের দাম এতটা আর বাড়েনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলাকাভিত্তিক দোকানিরা আগে পাইকারি বাজার থেকে গড়ে প্রতিদিন ৫০০ ডিম কিনলেও এখন কিনছেন ২৫০ থেকে ৩০০টি ডিম। অন্যদিকে বাজারে হাঁসের ডিমের ডজন ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। দেশি মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২৩০ টাকায়।

তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আমান উল্লাহ শুক্রবার বিকেলে ঢাকাটাইমসকে জানান, ‘আজ (শুক্রবার) আমরা ১০০ ডিম কিনেছি ৮৭০ টাকা দরে। বিক্রি করেছি ৮৯৫ টাকায়। ডিমের হালি বিক্রি করেছি ৩৫ টাকা ৮০ পয়সায় হিসেবে। এখন খুচরা বিক্রেতারা ৪০ টাকা হালি বিক্রি করলেও অনেক লাভ থাকে তাদের।’ এদিকে রাজশাহী শহরের সাহেব বাজারে ম্যাজিস্ট্রেট দেখে ডিমের হালিতে দাম ছয় টাকা কমানোর খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানান, সকালে ডিম হালিপ্রতি ৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। দুপুর ১২টার দিকে সাহেব বাজারে অভিযানে যান ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একটি দল। এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট দেখে ডিমের দাম মুহূর্তেই ৬ টাকা কমে তালিকা বদলে লেখা হলো ৪০ টাকা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসান-আল-মারুফ।

সহকারী পরিচালক হাসান বলেন, ‘পাইকারি আড়তে সাদা ডিমের দাম হালিপ্রতি ৩৭-৩৮ টাকা, লাল ডিমের পাইকারি দর হালিতে ৩৮-৪০ টাকা পাওয়া গেলেও খুচরা বাজারে ৪৬ টাকা হালি দরে লাল ডিম বিক্রি হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। আমরা বাজারে ঢোকা মাত্রই ৬ টাকা দর কমে ডিমের দাম ৪০ টাকা হয়ে গেছে। আমরা অন্তত ৩০টি দোকানে গিয়েছি, সবখানেই মূল্য তালিকা আছে।’

রাজধানীর শাহ আলী থানার শাহ আলী মার্কেটের ডিমের আড়তে অভিযান পরিচালনা করেন ঢাকা জেলা কার্যালয়ের অফিস প্রধান মো. আব্দুল জব্বার মন্ডল ও প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হাসানুজ্জামান।

অভিযান পরিচালনাকালে ডিম কেনার ক্যাশ মেমো সংরক্ষণ না করা, বিক্রির ক্যাশ মেমোর কার্বনকপি ছেড়া, কার্বন কপিতে দাম না লেখা, মূল্য তালিকা না টানানোর অপরাধে হেলাল ডিমের আড়ত ও মুনির ডিমের আড়তকে ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

অর্গানিক সিল লাগিয়ে বেশি দামে ডিম বিক্রি করলেও অর্গানিক ডিমের সপক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারায় ভাই ভাই আড়তকে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

(ঢাকাটাইমস/১৯আগস্ট/এসএন/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

অর্থনীতি এর সর্বশেষ

চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর

পুঁজিবাজারে শরিয়া অ্যাডভাইজারি কাউন্সিল গঠনের সিদ্ধান্ত

বেস্ট ব্যাংক অ্যাওয়ার্ড পেল ইসলামী ব্যাংক

এনআরবিসি ব্যাংকের সাউথ এশিয়ান বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড অর্জন

বিশ্ববাজারে ক্রমবর্ধমান মন্দা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা

বাংলাদেশি কোম্পানিতে আসছে বিদেশি বিনিয়োগ

কীভাবে দেনা পরিশোধ গ্রাহকদের, জানাবে ইভ্যালি

কর্মসংস্থান ব্যাংকের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

স্বপ্ন এখন বরিশালের রুপাতলীতে

বাজারে নাভিশ্বাস: দাম বাড়ানো ‘ধান্দাবাজদের’ জেলে ভরা হোক, চাইছেন ব্যবসায়ীরাই

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :