তাসমিয়া তহুরার দুটি কবিতা

ভাষা ও সাহিত্য ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৮:৫৮

বৈরাগ্য

শত শতাব্দীর প্রণয়ের প্রাসাদ

গুঁড়িয়ে দিয়ে উতল হাওয়ায় ধূলিস্যাৎ করে

পেয়েছো কতটুকু স্বস্তির নিঃশ্বাস?

সভ্যতার দুয়ারে আমি কি সত্যিই বেমানান?

নব্য চাঁদ আলেয়ার আলো বিলায়;

জন সমাগমে গা ভাসাও চিরায়ত নিয়মে।

আর আমি যেন উদোম অবলীলায়!

লজ্জা ভূষণ, শোষণ করে কেমন প্রশান্তি পাও?

যদি পারো, পূর্ণিমার আলোয় নিজেকে পরিস্কার দেখে নিও।

অপরাধ যার অপরাধী শুধু সে-ই হয় না!

জাগতিক নিয়মে আমার যন্ত্রণার নাম, অনুশোচনা।

আমি অপরাধী!

আমার রাজত্বে আঁধারে ঢেকে গেছে;

রাজপ্রাসাদে ঝুলছে মাটির পিদিমের নিভুনিভু প্রদীপ।

আমি উড়নচণ্ডী, বেসামাল;

শহর ছেড়ে স্বপ্ন বেড়ায় বৈরাগ্যের পথে।

জীবনের বিতৃষ্ণার ব্যবচ্ছেদে শিক্ষিতের সমাজ ছেড়ে আমি নেমেছি মূর্খের দলে;

বাঘ শাবকের সাথে হবো বুনো।

মানব-শাবকের পৃথিবীতে চরম অস্বস্তিতে ভূগতে থাকা আমি এক অসহায় প্রাণ।

আমাকে কেউ ক্ষমা করো।

বৈরাগ্যে বিবেক বলতে কিছু না; থাকে না সমাজ-সংসার।

ঘুচে যাক সমস্ত পৃথিবীর আলো, ইচ্ছে করে আমিই থামিয়ে দেই।

জীবন মায়ায় বেঁচে আছি না থাকার মতো।

আলো আঁধারের খেলায় বিশ্বাসঘাতকতা নিতান্তই অকল্পনীয়।

সমস্ত আস্থা ভেস্তে গেছে; আর ফিরবো না তোমাদের পৃথিবীতে।

ভালো থেকো ফুল-পাখি সকল।

নিঃসঙ্গ আলাপন

তোমার বেদনার্ত মেঘ জমল চোখের পাতায়।

বুক পাথরের স্তব্ধতা, আকাশ রাত্রির গভীরের নিঃসঙ্গতা।

নির্বাক প্রেমময় ভাবনায় তোমার করুণ চোখে বেদনার্ত স্রোত;

আমি সহসাই জেগে ওঠি।

সাদা সাদা মেঘ, আঁধারের অমাবস্যায়

বিদঘুটে স্নান মুখে তুমি এক বিধ্বস্ত প্রেমিক।

জলের যৌবনের আগুন থরথর কাঁপছো।

আমার শূন্যদৃষ্টি যে পথের দিশায়, ছড়িয়ে আছে

নষ্ট পরাগের স্পর্শে অশ্রুর কারাবাস।

জীবনের জলোচ্ছ্বাসে থমকে থমকে থেমে যাই।

আবার উঠি দাঁড়াই, সদর্ভে হাঁটি।

এক সমুদ্র সুখ ও সংঘাত আমায় হাতছানি দেয়।

একটি পথ ছুঁয়ে, অপরটি রাখি অমানিশায়।

প্রেম তো বহু আগেই হারিয়েছি।

তবুও অনিশ্চিত আলেয়া ঘেঁষে সে আসুক।

ফুলে প্রাণ আসুক, মধুবনে গান আসুক।

উষ্ণতা ঘিরে সোহাগি প্রেম আসুক।

আধাঁর ঢেকে স্বপ্ন গুলো জেগে উঠুক যুগে যুগে শতবর্ষে।

সবটাই যেন চাওয়া পাওয়ার দ্বন্ধ।

কোনদিন মন্দ পাঠ ছুঁকে যাবে, সাঙ্গ হবে লীলাখেলা।

সব হেলাফেলা শেষে শুধুই অপেক্ষা।

ভালো থাকুক প্রেমিক, ভালো থাকুক মানুষ ও আগমনী সুর।

আমার নিঃসঙ্গ আলাপনের সংলাপে দুই তীরের দুই বাসিন্দা

বেঁচে থাকুক দরজা-জানালার যন্ত্রমানব হয়ে।

শুনুক, বুঝুক--আমার আত্মা কি বলতে চায়।

আত্মার অগ্নিতে ভস্মিত আমি ও আমার প্রেম।

বাইরে থেকে যার কিছুই অনুমেয় নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :