সাভার পৌর কার্যালয়ই যেন ময়লার ভাগাড়

আহমাদ সোহান সিরাজী, ঢাকা (সাভার)
| আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:৫৯ | প্রকাশিত : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:১৪

ঢাকার অদূরে সাভার পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯২ সালে। প্রতিষ্ঠার ৩০ বছরেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পৌরসভার নেই কোনো নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশন। প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্যানে করে বর্জ্য সংগ্রহের পর অস্থায়ীভাবে সে বর্জ্য রাখা হচ্ছে সাভারের গেন্ডা বাসস্ট্যান্ড এলাকার সাভার পৌর মার্কেট নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থানে। বর্জ্যর এ ভাগার পেরোলেই ময়লার মাঠ লাগোয়া পৌর কর্তৃপক্ষের কার্যালয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থান থেকে সারাদিনের সংগৃহীত বর্জ্য সাভার পৌর মার্কেট নির্মাণেরর জন্য নির্ধারিত স্থানে রাখার পর বিকেলে বর্জ্য ট্রাক দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বিরুলিয়া ইউনিয়নের কমলাপুরের আরেকটি ডাম্পিং স্টেশনে।

পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি ৩০ বছর আগে গড়ে ওঠা পৌরসভাটির নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় এভাবেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গেন্ডা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকামুখী অংশের লেনের পাশে একের পর এক ময়লাবাহী ভ্যান এসে ভিড় করছে। মহাসড়কের পাশে ভ্যানগুলো দাঁড় করিয়ে ময়লা ফেলা হচ্ছে সাভার পৌর মার্কেট নির্মাণের নির্ধারিত স্থানটিতে। সড়কের পাশ দিয়ে যাতায়াতকারী পথচারী, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা ওই অংশটুকু পার হচ্ছেন হাত এবং ওড়না দিয়ে নাকে চেপে।

কথা হয় ভ্যান চালক রশীদুল হাসান ও ফুল মিয়ার সঙ্গে। তারা বলেন, সাভারের বিভিন্ন জায়গা থেকে এখানে ময়লা এনে ফেলা হয়। বিকেল থেকে সে ময়লা ট্রাক দিয়ে অন্য আরেক জায়গায় নিয়ে ফেলা হয়।

ময়লার দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে ওড়নায় নাক ঢেকে জায়গাটি পার হচ্ছিলেন সাভার গেন্ডা এলাকার বাসিন্দা ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাবিহা চৌধুরী মম। তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, রাস্তার ওপর এমন দুর্গন্ধে চলাচল করা যায় না। তবে খালি আমরাই দুর্ভোগ পোহাই না, পৌরসভার লোকজনও গন্ধ পায়। তাদের অফিসের সামনেই তো এই অবস্থা। তাও তো তারা ঠিক করে না।

বর্জ্য ফেলার স্থানটির ঠিক পাশেই চায়ের দোকান দিয়েছেন নূর হোসেন। তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, গন্ধে কী আর থাকা যায়। উপায় নাই এখন সহ্য হয়ে গেছে।

এর আগে দুপুর ২ টার দিকে ভ্যানে ময়লা নিয়ে সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকা পার হতে দেখা যায় মো. রশিদকে। তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, মাসিক ১০ হাজার টাকা বেতনে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ বার রেডিও কলোনীসহ আশপাশ থেকে ময়লা সংগ্রহ করে পৌরসভার অস্থায়ী ডাম্পিং এলাকায় নিয়ে যান। এই এলাকায় আরো ১০-১২ টি ভ্যান ময়লা সংগ্রহ করে।

পৌরসভার কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিন সাভারের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৮০টি ভ্যান দিয়ে ময়লা সংগ্রহ করা হয়। প্রতিদিন ১০ লাখ মানুষের বর্জ্য সংগ্রহ করে পৌর কর্তৃপক্ষ। তারা জানান, বর্জ্য বহনে ১০টি ট্রাক প্রয়োজন। এর বিপরীতে আছে ৩টা গাড়ি। এছাড়া আউটসোর্সিংয়ের আরো ৩টা।

পৌরসভার পয়োনিষ্কাশন পরিদর্শক মো. রিয়াজ উদ্দিন ঢাকা টাইমসকে বলেন, প্রতিদিন গড়ে পৌর এলাকায় ৪০০ টন বর্জ্য তৈরি হয়। এসকল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রায় ২১৫ জন কাজ করছেন। বাসাবাড়ি, কলকারখানাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাক দিয়ে সরাসরি ২০ কিলোমিটার দূরের কমলাপুরের অস্থায়ী ডাম্পিং স্টেশনে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাই সেকেন্ডারি ডাম্পিং স্টেশন হিসেবে সাভার পৌর মার্কেট নির্মাণের নির্ধারিত স্থানটি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছি।

’’ স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন করতে ১৫-২০ বিঘা জমি প্রয়োজন। ইতোমধ্যে ফিনল্যান্ডের একটা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। আমরা শুধু ময়লা দিবো বাকি সব তারাই করবে। ওখান থেকে তারা বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদন করবে। পরিকল্পনাটা দেড় বছর আগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। দেড় বছর পর সেটা ছাড় হয়েছে। এখন সেটা আছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে। সেখান থেকে ছাড় হলে কাজ শুরু করা যাবে। - সাভার পৌরসভার মেয়র আব্দুল গণি

এ বিষয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ আন্দোলনের সাভার উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ওমর ফারুক ঢাকা টাইমসকে বলেন, সাভার পৌরসভাটি একটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হলেও এখানে নিজস্ব কোনো ডাম্পিং স্টেশন নেই। দীর্ঘদিন ধরেই মহাসড়কের পাশে এবং নদী ও খালে পৌরসভার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। সম্প্রতি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন এই বিষয়ে পৌর মেয়রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়ায় সমস্ত ময়লা আবর্জনাগুলো এখন পৌরসভার পাশের খালি মাঠে ফেলা হচ্ছে। যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পাশাপাশি এতে আশপাশের মানুষজনের স্বাস্থ্য ঝুঁকিও বাড়ছে। মাঝেমধ্যে এসব ময়লা মহাসড়কের উপরেও চলে আসে।

তিনি বলেন, এসব ময়লার কারণে পথচারীরা রাস্তায় চলাচল করতে পারছে না। এছাড়া সারাদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে ময়লা ভর্তি গাড়িগুলো এনে গেন্ডা বাসস্ট্যান্ডের পাশে মহাসড়কের ওপর রাখা হয়। তার উপর সন্ধ্যার পর থেকেই এক্সেভেটর দিয়ে এসব ময়লা গাড়িতে উঠানোর কারণে মহাসড়কের সার্ভিস লেনটি বন্ধ হয়ে যায় এবং যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। তাই অনতিবিলম্বে একটি ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণসহ মহাসড়ক থেকে এসব ময়লা আবর্জনা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে সাভার পৌরসভার মেয়র আব্দুল গণি ঢাকা টাইমসকে বলেন, জায়গা না পাওয়ায় নিরুপায় হয়ে নিজেরাই গন্ধের মধ্যে রয়েছি। তবে সাভার মডেল থানার ওইদিকে সরকারি জায়গায় সেকেন্ডারি ডাম্পিং স্টেশন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেটি হয়ে গেলে তখন ওইখানে অস্থায়ীভাবে ময়লা ফেলে পরে কমলাপুরের ডাম্পিং স্টেশনে নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন করতে ১৫-২০ বিঘা জমি প্রয়োজন। ইতোমধ্যে ফিনল্যান্ডের একটা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। আমরা শুধু ময়লা দিবো বাকি সব তারাই করবে। ওখান থেকে তারা বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদন করবে। পরিকল্পনাটা দেড় বছর আগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। দেড় বছর পর সেটা ছাড় হয়েছে। এখন সেটা আছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে। সেখান থেকে ছাড় হলে কাজ শুরু করা যাবে।

(ঢাকাটাইমস/২৯সেপ্টেম্বর/এসএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :