চুরি হওয়া গাড়ি বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২০:৫২

পারভেজ লেগুনার চালক। পরে চালাতেন বাস। এভাবে তার কেটে গেছে ১০ বছর! এই সময়ে মাঝে-মধ্যে বাসের ব্যাটারি চুরি করে বিক্রি করতেন পারভেজ। এমন অপরাধে গ্রেপ্তারের পর বেশি কিছুদিন কারাবন্দি থাকেন। কারাগারে পরিচয় হয় কামাল নামে আরেক চুরির মামলার আসামির সঙ্গে। এতে চুরির পথ আরও খুলে যায় পারভেজের।। কারাগারেই দুজনের পরিকল্পনা— এক সঙ্গে কাজ করবেন।

এরপর কারাগার থেকে বের হয়ে এক সঙ্গে গাড়ির ব্যাটারি চুরি। পরে মোটরসাইকেল। এখন প্রাইভেটকার চুরি করেন। গত চার বছর ধরে দুটি মাস্টার চাবি দিয়ে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চুরি করছেন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার হলেও ছাড়া পাওয়ার পর আবারও চুরিই করেন তারা। চুরি করা গাড়ি অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করছিল বলে জানান গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তারা।

এই চোর চক্রের সদস্য সুমন চোরাই গাড়িগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন পেইজ ও বিক্রয় ডটকমের মাধ্যমে বিক্রি করে আসছেন। ১৫-২০ লাখ টাকার গাড়ি তারা ৩-৪ লাখ টাকায় বিক্রি করতেন। তবে মালিকানা পরিবর্তনের জন্য কোনো ক্রেতা তাদের চাপ দিতেন না। কারণ অল্প টাকায় এমন গাড়ি সমস্যা থাকতে পারে ভেবেই কিনতেন তারা।

বুধবার রাতে রাজধানী, ময়মনসিংহ, নরসিংদী ও গাজীপুরের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাইভেটকার চোর চক্রের চার সক্রিয় সদস্যকে চারটি চোরাই প্রাইভেটকারসহ গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ। বৃহস্পতিবার বিকালে সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ খলিলুর রহমান ঢাকাটাইমসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন- পারভেজ, কামাল হোসেন গাজী, বাবু মিয়া অরফে নাজমুল হাসান ও সুমন। এসময় তাদের কাছ থেকে চারটি চোরাই প্রাইভেটকার, পাঁচটি চোরাই কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও দুটি মাস্টার চাবি উদ্ধার করা হয়।

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প অঞ্চল থানায় একটি গাড়ি চুরির মামলা হয়। চোরাই গাড়ি উদ্ধার করতে গিয়ে এই চোর চক্রের সন্ধান পায় গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম। গোয়েন্দারা বলছে, তারা খুব অল্প সময়ে একটি গাড়ি চুরি করে নিয়ে পালিয়ে যেতে পারেন।

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার বিভিন্ন স্থানের সিসি টিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে পারভেজকে শনাক্ত করে। পরে তাকে তেজগাঁও শিল্প অঞ্চল থানাধীন পূর্ব নাখাল পাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার সহযোগী কামাল, বাবু ও সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আসামিরা স্বীকার করেছেন তারা পাঁচ বছর যাবৎ রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প অঞ্চল, ধানমন্ডি লেকপাড় রোড, উত্তরা, গাজীপুরের শ্রীপুর, মাওনা বাজারসহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাইভেটকার চুরি করতেন। আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। এই চক্রের মূলহোতা ছয় মামলার আসামি পারভেজ।

গাড়ি চুরির কৌশল:

আসামি পারভেজ ও কামাল হোসেন গাজী প্রাইভেটকার চুরি করার সময় স্পটে থাকেন। কামাল হোসেন গাজীর কাজ হচ্ছে প্রাইভেটকারের মালিকের গতিবিধি লক্ষ্য করা। আর পারভেজের কাজ হচ্ছে প্রাইভেটকারটি কিছু সময় পর্যবেক্ষণ করে, মাত্র ৪০-৫০ সেকেন্ডের মধ্যে মাস্টার চাবি দিয়ে প্রাইভেটকার চালু করে সহযোগীকে নিয়ে পালিয়ে যান।

পারভেজ ২০০৭ সালে প্রথমে ঢাকায় এসে লেগুনা চালাত। এরপর ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন বাসের চালক ছিলেন। পরে ওই বছর পারভেজ গাড়ি চুরির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। প্রথমে বিভিন্ন গাড়ির ব্যাটারি, পরে প্রাইভেটকার ও মোটর সাইকেল চুরি করতে থাকেন।

বিক্রির পদ্ধতি:

প্রথম গ্রুপ ঢাকাসহ আশপাশের এলাকা থেকে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার নরসিংদী পলাশ থানার নাজমুল হাসানের গ্যারেজে জমা করেন। পরে তার কাছে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। পরে দ্বিতীয় গ্রুপ নাজমুল হাসান গাড়ি মেরামত, যন্ত্রপাতি পরিবর্তন ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চেসিস নম্বর পরিবর্তন করেন। তৃতীয় গ্রুপ সুমনের নেতৃত্বে গাড়ির বিক্রির জন্য বিভিন্ন অনলাইন পেইজ ও বিক্রয় ডট কমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ খুজে বের করেন। পরে তারা ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিসি) কামরুজ্জামান সরদাররের তত্ত্বাবধানে সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ খলিলুর রহমান এ অভিযান চালান।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, গাড়ি কোথাও পার্কিং করে রেখে যাওয়ার সময় গাড়ির কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে যেতে বলেন। গাড়িতে কাগজপত্র রেখে যাওয়ার জন্য চোরাইকৃত গাড়ি বিক্রি করতে তাদের বেগ পেতে হয় না। এছাড়া গাড়িতে বিভিন্ন টেকার ডিভাইস্ ও জিপিএস ব্যবহার করার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রাইভেটকার চোর চক্রের মূলহোতা পারভেজের নামে নামে রাজধানীসহ বিভিন্ন থানায় ছয়টি ও তার সহযোগী কামাল হোসেন গাজীর নামে বেশ কয়েকটি চুরির মামলা আছে। আর এই ঘটনায় তাদের চারজনের নামে আরও একটি চুরির মামলা করা হয়েছে। এই মামলায় চোর চক্রের সদস্যদের আদালতে তুলে ১০দিনের আবেদন করা হয়। পরে আদালত দুদিনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

(ঢাকাটাইমস/২৯সেপ্টম্বর/এএইচ/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :