আলফাডাঙ্গায় পূজামণ্ডপের ২০০ বস্তা সরকারি চালসহ ব্যবসায়ী আটক

প্রকাশ | ০৬ অক্টোবর ২০২২, ১৯:৪৫

আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় শরদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারের বরাদ্দকৃত খাদ্যগুদামের ২০০ বস্তা চালসহ সোহেল রানা নামে এক ব্যবসায়ীকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে বুধবার রাত ৮টার দিকে উপজেলা পরিষদের গেটের সামনে থেকে চাল বোঝাই তিনটি নছিমনসহ ওই চাল ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।

আটক সেহেল রানা পাশ্ববর্তী বোয়ালমারী উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের কুবাদ শেখের ছেলে।

সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যার পর আলফাডাঙ্গা উপজেলার খাদ্যগুদাম থেকে তিনটি নছিমন বোঝাই করে ২০০ বস্তা চাল নিয়ে রওনা হলে এলাকাবাসী তাদের অবরুদ্ধ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনটি নছিমনসহ চাল জব্দ এবং ব্যবসায়ী সোহেল রানাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

তবে সোহেলের দাবি , তিনি বিভিন্ন পূজা উদযাপন কমিটির লোকজনের কাছ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে ছয় হাজার কেজি চাল কিনেছেন। তবে পূজা উদযাপন কমিটির কারো নাম ও চাল ক্রয়ের কোন কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেনি তিনি।

উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রবীর কুমার বিশ্বাস জানান, সরকারের পক্ষ থেকে উপজেলার ৪৮টি পূজামণ্ডপের প্রতিটিতে ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আমরা এসব চাল উপজেলার চাল ব্যবাসায়ী ত্রিনাথ পাল ও সমর কুমার কুন্ডু ভজনের কাছে বিক্রি করেছি।

খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহম্মদ আশিকুর রহমান মোল্যা বলেন, পূজামণ্ডপ কমিটির লোকজন সোহেল নামের এক চাল ব্যবসায়ীর কাছে তাদের চাল বিক্রি করেছে। এসব চাল দুর্গাপূজার জিআর-এর চাল এবং এর ডিও মেয়াদ ছিল ৪ অক্টোবর। তাদের কাজ থাকায় পরদিন বিকেলে ২০০ বস্তা চাল নিতে আসে। এসব চাল নছিমন বোঝাই দিতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। পরে শুনেছি পুলিশ তাদের চালসহ আটক করে থানায় নিয়েছে।

আলফাডাঙ্গার থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, খাদ্যগুদাম থেকে চাল পাচার হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা পরিষদের সামনে চাল বোঝাই তিনটি নছিমনসহ সোহেল নামে এক চাল ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সোহেল চাল ক্রয়ের সঠিক তথ্য না দিয়ে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলায় তাকে ৫৪ ধারা মোতাবেক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আটককৃত ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে পূজা কমিটির নিকট থেকে চাল ক্রয় করে এনেছে কি না বা সে অসাধুভাবে অধিক মুনাফার আশায় অবৈধভাবে ব্যবসা করার জন্য সরকারি চাল অন্য কোথাও থেকে ক্রয় করে এনেছে কি না; এই বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত আছে। এ তদন্ত সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত আটক ব্যক্তিকে জেল হাজতে আটক রাখা প্রয়োজন। সেই কারণে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।’

(ঢাকাটাইমস/০৬অক্টোবর/এমআই)