বড় অংকের লেনদেনে পুলিশের সহযোগিতা নেওয়ার অনুরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১৩:৪৯

বড় অংকের টাকা লেনদেনের সময় ব্যবসায়ীদেরকে পুলিশের সহযোগিতার নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিএমপি ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

তিনি বলেন, ছিনতাইকারী অথবা ডাকাত চক্রের সোর্স ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকসহ বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে। তাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও টাকা লেনদের ক্ষেত্রে আরো বেশি সর্তক হন।

শনিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কেরাণীগঞ্জের এক ব্যবসায়ীর ৮৫ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় ছয়জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সোহাগ মাঝি, মো. দেলোয়ার, মো. জয়নাল হোসেন, মো. সোহেল, মো. জনি এবং মো. আজিজ। এ সময়ে তাদের কাছ থেকে নগদ- ২০ লাখ টাকা, একটি হাইয়েচ মাইক্রোবাস এবং একটি ডিসকভার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, ডিবি লালবাগ বিভাগের কোতয়ালী জোনাল টিম বিশেষ অভিযানটি চালায়। অভিযানে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কেরাণীগঞ্জের ব্যবসায়ীর ৮৫ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় ছয় ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে। গত ২৫ নভেম্বর ঢাকার সাভার থানার কাউন্দিয়া, পটুয়াখালী সদর থানা ও ঢাকা মহানগরীর কাজলা এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপি ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, গত ১৩ নভেম্বর দুপুর দেড়টার দিকে ব্যবসায়ী কেরামত আলী দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার দড়িগাঁও বাজারে তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাগে করে নগদ ৮৫ লাখ টাকা নিয়ে পিকআপ যোগে আব্দুল্লাপুরের সাউথ ইস্ট ব্যাংকের উদ্দেশ্যে রওনা করেন। পথিমধ্যে অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জন ডাকাত ব্যবসায়ী কেরামত আলীর গতিরোধ করে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে মাইক্রোবাস এবং মোটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যান। ডাকাতির ঘটনায় ভুক্তভোগী কেরামত আলীর অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৪ নভেম্বর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা রেকর্ড করা হয়। দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার মামলা নম্বর-৪৬। ধারা- ১৭০/৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড রুজু হয়। ওই মামলার ঘটনায় ঢাকা জেলা পুলিশ, র‌্যাব, পিবিআই'র পাশাপাশি ঢাকা মহানগর ডিবি লালবাগ বিভাগ ছায়া শুরু তদন্ত করে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি লালবাগ বিভাগের একাধিক টিম গত ২৫ নভেম্বর অভিযানে সাভার থানার কাউন্দিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতির ঘটনায় সরাসরি জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তি মতে পটুয়াখালী সদর এলাকা হতে এক জন ডাকাতকে ১৯ লাখ টাকাসহ এবং ঢাকা মহানগরীর যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকা থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত হাইয়েচ মাইক্রোবাসসহ একজন ডাকাতকে এক লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত ডাকাতদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক কেরাণীগঞ্জ থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ডিসকভার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের বরাত দিয়ে ডিএমপি ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা ডাকাতির করার জন্য বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে ডিবি পুলিশ, সিআইডি, র‌্যাবের পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকসহ আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থান করে। ব্যবসায়ীসহ আর্থিক লেনদেনকারীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে। যেসব জায়গায় সিসি ক্যামেরা নেই এরকম নিরিবিলি জায়গায় সুযোগ বুঝে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের গতিরোধ করে। এরপরে ভুক্তভোগীদের নামে মামলা অথবা গ্রেপ্তারী পরোয়ানা আছে বলে টাকার ব্যাগসহ গাড়িতে তুলে নেয়। ডাকাতরা তাদের সুবিধামতো জায়গায় টাকা অথবা মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করে নির্জন এলাকা, রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ডাকাতির আগে তারা ঘটনাস্থল রেকি করার কাজে মোটর সাইকেল এবং ভুক্তভোগীর গতিরোধ করে ডাকাতি করার কাজে মাইক্রোবাস ব্যবহার করে থাকে। ডাকাতির কাজে তারা হ্যান্ডকাপ, ওয়্যারলেস ও খেলনা পিস্তল ব্যবহার করে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন।

ডিএমপিডিবির লালবাগ বিভাগের উপ কমিশনার মশিউর রহমানের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

ঢাকাটাইমস/২৬ নভেম্বর/এএ/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :