মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত

গণশুনানি ছাড়াই জ্বালানির দাম সমন্বয় করতে পারবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২২, ২২:৪৮ | প্রকাশিত : ২৮ নভেম্বর ২০২২, ২২:৪৩

বিশেষ পরিস্থিতিতে গণশুনানি ছাড়া সরাসরি জ্বালানির দাম সমন্বয় করার বিধান রেখে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২২ খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকের পর সোমবার বিকালে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান।

এতদিন ধরে গণশুনানির মাধ্যমে জ্বালানির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণশুনানি ছাড়া জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি বা সমন্বয়ের যে এক তরফা ক্ষমতা সরকার হাতে নিচ্ছে, তাতে অকার্যকর করা হলো বিইআরসিকে। আর ভোক্তার অধিকারও খর্ব হবে ।

বিদ্যমান আইনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বিইআরসি ৯০ দিন সময় নিয়ে নির্ধারণ করে। এ সময়ের মধ্যে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মতামত নেওয়া হয় ভোক্তা প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের। সেখানে জ¦ালানি সেক্টরের অপচয়, অনিয়ম, দুর্নীতি, অভিযোগ এবং করণীয় নির্ধারণের বিষয়ে গণমানুষ মতামত দিয়ে থাকে গণশুনানিতে। এই অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার পর জ¦ালানির দাম বৃদ্ধি করতে কোনো গণশুনানির প্রয়োজন পড়বে না।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিদ্যমান অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিইআরসিকে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে ৯০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। হঠাৎ বিশেষ প্রয়োজন দেখা দিলে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করতে দেরি হয়। সে কারণে নতুন একটি ধারা যুক্ত করা হচ্ছে। অধ্যাদেশের ৩৪-এর ‘ক’ যুক্ত করে বলা হবে, সরকার প্রয়োজনবোধে জ্বালানির দাম সমন্বয় করতে পারবে। এ বিষয়ে যাতে বিভ্রান্তি তৈরি না হয়, সে জন্য জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বেসরকারি যেকোনো প্রতিষ্ঠান যেকোনো ধরনের জ্বালানি আমদানি করতে পারবে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে কয়েক দিনের মধ্যে।’

এর মাধ্যমে বিইআরসির ক্ষমতা খর্ব হবে কি না, সে বিষয়ে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বিইআরসি সব ধরনের কাজ করবে। এতে কোনো সমস্যা হবে না। মন্ত্রিসভার বৈঠকে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে সব ধরনের জ্বালানি আমদানির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে জ্বালানির দাম নির্ধারণে বিইআরসিকে গণশুনানি করতে হয়। এতে ৯০ দিন সময় লাগে। এই অধ্যাদেশ কার্যকর হলে গণশুনানি ছাড়াই যেকোনো জ¦ালানির দাম বাড়াতে পারবে সরকার। জ্বালানি বিভাগ দু-এক দিনের মধ্যে বিষয়টির ব্যাখ্যা দেবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে এ বিষয়ে গতকাল রাতে ঢাকা টাইমসকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় জ্বালানি বিশেষজ্ঞ কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট ড. শামসুল আলম বলেন, ‘গণশুনানি বন্ধ করায় ভোক্তার সব অধিকার খর্ব হয়ে গেল। গণশুনানির বিধান থাকার পরও জ¦ালানি সেক্টরে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। এসব নিয়ে সরকারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এখন এসব (বিইআরসি অধ্যাদেশ) করে সবকিছু আড়ালে নিয়ে গেল।’

একাধিকবার বিদ্যুৎসহ জ্বালানির দাম বৃদ্ধিবিষয়ক গণশুনানিতে অংশ নেওয়া ড. শামসুল আলম আরও বলেন, ‘আমরা বলেছি, ভর্তুকি বাড়ানো লাগবে না, মূল্য বৃদ্ধি করা লাগবে না। আমরা যেসব অনিয়ম-দুর্নীতি আইডেন্টিফাই (চিহ্নিত) করেছি, এগুলো যদি প্রতিরোধ করা যায়- তাহলে অনেক টাকা সাশ্রয় হয়। গণশুনানি ছাড়াই জ¦ালানির দাম সমন্বয়ের আইনি বৈধতা নিয়ে এসব বলার সুযোগ রোহিত করা হলো এবং বিআরসিকে অকার্যকর করে সরকার যখন খুশি, তখন রাতের অন্ধকারে বিদ্যুৎ জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দেবে। রাত ১২টায় কার্যকর করবে। কারও কিছু বলার থাকবে না, জানার থাকবে না বা বোঝার অধিকারও থাকবে না।’

ভোক্তার অধিকারবিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে এই অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, ‘ভোক্তার অধিকার আর নেই। যেরকম হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলো, সেরকমই করবে সরকার। তেলের দাম বাড়ানোর ক্ষমতা তো বিআরসির ছিল। বিআরসিকে তারা তা করতে দেয়নি। বিআরসি কোনো গণশুনানি করতে পারেনি। বিআরসির ক্ষমতা খর্ব করে সরকার হুট করে তেলের দাম বাড়িয়ে রাত ১২টায় কার্যকর করে দিলো। এখন থেকে এমনই হবে। আইনের এ সংশোধনী ভোক্তার অধিকার খর্ব করল।’

তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলছেন, ‘এটা করা গেলে সরকারের ওপর চাপ কমবে। এতে দামে প্রভাব পড়বে না। সরকার মনিটরিং করবে। দাম তখন কম পড়বে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, ‘বেসরকারিভাবে জ্বালানি তেল, এলপিজি ও এলএনজি আমদানি করা যাবে। আমদানি করা জ্বালানি তারা যেন বিক্রিও করতে পারে এ নিয়ে বৈঠকে আলাদাভাবে আলোচনা হয়েছে। আমদানিকারকরা এসব জ্বালানি চাইলে বিপিসিতে-ও বিক্রিও করতে পারবে। এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে তা মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে।’

এ বিষয়ে ক্যাব সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘সংশোধন হওয়া এই আইন চূড়ান্ত হয়ে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’

ঢাকাটাইমস/২৮নভেম্বর/আরকেএইচ/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :